Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো আত্মীয়তার সম্পর্ক সংরক্ষণ করা জরুরি

আত্মীয়তার সম্পর্ক সংরক্ষণ করা জরুরি

“হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার রিজিক বৃদ্ধি পাক এবং তার হায়াত দীর্ঘায়িত হোক, সে যেন আত্মীয়র সাথে সদ্ব্যবহার করে।” (সহীহ বুখারী : ৫৫২৭)

বন্ধুরা, আমরা সামাজিক জীব। আল্লাহ আমাদের সমাজবদ্ধভাবে সৃষ্টি করেছেন। সামাজিক চেতনা থেকেই আমরা পরস্পরের সাথে মিলে মিশে বসবাস করি। তাইতো আমরা স্কুলে দলবেঁধে খেলি, পড়ি, আনন্দ করি। মানুষের মাঝে এই চেতনা পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়। তাই আমরা পরিবার, পাড়া, মহল্লা, গ্রাম বা সমাজের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি তার অধিকারের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন থাকার চেষ্টা করি।
পৃথিবীতে সকল সুন্দর বিষয়গুলোর প্রতি মানবতার মহান বন্ধু হজরত মুহাম্মদ (সা)-এর অত্যন্ত চমৎকার নির্দেশনা ও তা সর্বাগ্রে নিজে মেনে চলার উদাহরণ অজস্র। তেমনি এক প্রেক্ষাপটে রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার রিজিক ও হায়াত বৃদ্ধি পাওয়াটা পছন্দ করে, সে যেন আত্মীয়স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করে। অর্থাৎ আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করা এতই উত্তম কাজ যে এতে রিজিক ও হায়াত বৃদ্ধি পায়। কারণ যাদের খারাপ প্রতিবেশী আছে তারাই কেবল ভালো করে জানেন যে ভালো প্রতিবেশী কত বেশি জরুরি। নিজের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, ধন-সম্পদ, বাড়িÑ এর সব কিছু যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা একজন ব্যক্তির পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হয় না যদি না আত্মীয়স্বজন প্রতিবেশীরা সাহায্য করে। তাই তাদের সাথে ভালো আচরণ করাও আল্লাহ এবং রাসূল (সা)-এর নির্দেশ। হজরত আয়েশা (রা) বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রাসূল করিম (সা) বলেছেন, “আত্মীয়তা বা রক্তের সম্পর্ক আরশের সাথে ঝুলানো অবস্থায় রয়েছে। সে বলে, যে আমার সাথে মিলিত হয় আল্লাহ তার সাথে মিলিত হন; আর যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।” (সহীহ মুসলিম ৬৩৩৭) আধুনিক জীবনদর্শন আত্মীয়তার সম্পর্ক সংরক্ষণের পরিবর্তে ছিন্ন করার দিকেই বেশি উৎসাহিত করছে। যৌথ পরিবার ভেঙে ছোট পরিবার গঠন, গ্রামীণ জীবন ছেড়ে শহুরে জীবন গঠন করার প্রবণতা আত্মীয়তার সম্পর্ককে নির্বাসনে পাঠাচ্ছে। ছেলেমেয়ের ব্যস্ত জীবন বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর জন্য উৎসাহিত করছে। অথচ সে বাবা-মাই আমাদের ছোটবেলার অসহায় জীবনে আদর, স্নেহ, ভালোবাসা, দুগ্ধ পান, ভরণ-পোষণ ইত্যাদির মাধ্যমে বড় করেছেন। যে ভাইবোন এত আদর স্নেহ দিয়ে বড় করেছেন, তাদের আর ভালো লাগে না। নিকট আত্মীয় যারা আমাদের আদর-স্নেহ দিয়ে বড় হতে সাহায্য করেছেন তারা আর আপনজনের তালিকায় থাকেন না। কারণ তিনি এখন অনেক বড়, অনেক ব্যস্ত। তার এ সবের সময় নেই। এই আত্মীয় পরিচয় ভোলা লোকদের ব্যাপারে হজরত জুবায়ের ইবনে মুতইম বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা) বলেছেন, “আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী বেহেশতে প্রবেশ করবে না।” (সহীহ মুসলিম ৬৩৩৮)
বন্ধুরা, এসো আমরা আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবার সাথে ভালো আচরণ করি। কাউকে কষ্ট না দিই। আল্লাহ আমাদের আত্মীয়স্বজনদের সাথে ভালো ব্যবহার করার তৌফিক দিন, আমিন।

গ্রন্থনায় : মিজানুর রহমান

SHARE

Leave a Reply