Home খেলার চমক কার ঘরে যাবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ

কার ঘরে যাবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ

মিজানুর রহমান মিজান..
এই তো মাত্র আর ক’টা দিন, তারপর তাবৎ ক্রিকেট দুনিয়ার চোখ থাকবে শ্রীলঙ্কার দিকে। সবাই দিন গুনছে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম রূপের বিশ্ব আয়োজনের অপেক্ষায়। সময়ের চাওয়া একসময় টেস্ট ক্রিকেটকে দিয়েছিল ওয়ানডের রূপ, সেই সময়ের চাওয়াতেই তা এখন টি-টুয়েন্টি ভার্সনে। মাত্র বিশ ওভারের এ খেলায় যেন দর্শকদেরও ক্লান্তি বা বিরক্তি কোনটাই ছুঁয়ে যাবার অবকাশই নেই। তুমুল জনপ্রিয় এ ফরম্যাটে কতটা ক্রিকেট আর কতটা বাণিজ্য বা ক্রিকেট বহির্ভূত বিষয় তা নিয়ে বিতর্র্ক থাকতেই পারে, কিন্তু জনপ্রিয়তায় তা এরই মাঝে ওয়ানডে বা টেস্ট ক্রিকেটকে ছাড়িয়ে গেছে অনেক দূর। পুরোপুরি বিনোদননির্ভর এই ফরম্যাটের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিতে প্রস্তুত বিশ্বের বারোটি ক্রিকেট দল। ক্রিকেট এমনিতেই এক চরম অনিশ্চয়তার খেলা, আর তা যখন বিশ ওভারের সংক্ষিপ্ত রূপে তখন তা আরও যোজন যোজন বেড়ে যায়। সংক্ষিপ্ত ভার্সন হওয়ায় সব দলেরই সুযোগ থাকে নির্দিষ্ট ম্যাচে ভালো করে জয় ঘরে তোলার। কে জিতবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের চতুর্থ আসরের শিরোপা? এ প্রশ্নের উত্তরের খোঁজেই আমাদের আজকের প্রচেষ্টা। সঠিক উত্তরটা পেতে অপেক্ষা করতে হবে অক্টোবরের ৭ তারিখ পর্যন্ত কিন্তু তার আগেই কিশোরকণ্ঠ বিচার করেছে অংশ নেয়া দলগুলোর সম্ভাবনার।

শ্রীলঙ্কা
হাতের তালুর মত চেনা মাঠ, পরিচিত কন্ডিশন আর বিপুল দর্শক সমর্থন; শিরোপা জয়ের সব উপাদানই আছে শ্রীলংকার। সকল টুর্নামেন্টের স্বাগতিক দল এমনিতেই মানসিকভাবে খানিকটা শক্ত অবস্থানে থাকে। উপরি পাওনা হিসেবে রয়েছে সদ্যসমাপ্ত এসএলপিএল টুর্নামেন্ট। অন্য যে কোন দলের চেয়ে তাই প্রস্তুতিটা শ্রীলংকার অনেক ভাল হয়েছে নির্দ্বিধায় বলা যায়। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের অতীত রেকর্ডও কথা বলছে শ্রীলংকার পক্ষেই। ২০০৭ সালের প্রথম আসর থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০১০ পর্যন্ত তিনটি আসরে অংশ নিয়ে খেলেছে মোট ১৮টি ম্যাচ। ১২ জয় আর ৬ পরাজয়ে সাফল্যের হার শতকরা ৬৬.৬৭ শতাংশ। বাড়তি অনুপ্রেরণা হতে পারে সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের রানার্সআপ হওয়াটা। সবকিছু মিলিয়ে শিরোপার জোর দাবিদার হতেই পারে শ্রীলংকা। জয়াবর্ধনে, সাঙ্গাকারার অভিজ্ঞতার সাথে ম্যাথুস, মেন্ডিসের তারুণ্যের মিশেলটা ঠিকঠাকমত হলে ২০০৯ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে শিরোপা হারানোর দুঃখটা ভুলিয়েও দিতে পারে।

ভারত
টি-টুয়েন্টির বর্তমান জনপ্রিয়তার পেছনে প্রায় সবটা জুড়েই রয়েছে ভারত। প্রথম টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের পর তো রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে দেশটি আইপিএল-এর মাধ্যমে। অতীত আর বর্তমান দুই-ই কথা বলছে দলটির পক্ষে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের গ্রাফটাও উপরের দিকেই। উপমহাদেশের মাটিতে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা অবশ্যই চাইবে এ শিরোপাটাকেও রেখে দিতে। তারকা ঠাসা ব্যাটিং লাইনআপ সেটার সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাথে যোগ হয়েছে বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্যা সিরিজ হওয়া অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং এর সুস্থ হয়ে দলে ফেরার প্রেরণা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুশ্চিন্তা যা একটু তা ওই বোলিংটা নিয়ে। সেটাকে কাটিয়ে উঠতে পারলে দলটির এবারের শিরোপা জেতার চেয়ে শিরোপা না জেতাটাই হবে বিস্ময়ের।

ইংল্যান্ড
ক্রিকেটের সূতিকাগারদের বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর টুর্নামেন্ট এটি। সারা বছর ভাল ক্রিকেট খেলেও ইংল্যান্ড শিরোপার দল নয় এই দুর্নামের উপর ক্রস চিহ্ন এঁকে দিয়েছিল পল কলিংউডের দলটি ২০১০ সালে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে। সময়ের আবর্তনে টি-টোয়েন্টি দলের আর্মব্যান্ডটা স্টুয়ার্ট ব্রডের বাহুতে। আইসিসির একমাত্র টুর্নামেন্ট, যে শিরোপার মালিক হতে পেরেছে ইংল্যান্ড। ওয়ানডের নাম্বার ওয়ানদের সামনে আবারো সুযোগ শিরোপা অর্জনের। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে সেটা খুবই সম্ভব। সোয়ান, মরগানরা ঠিকমত জ্বলে উঠতে পারলেই, টানা দুইবার শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে তারা। অবশ্য সে পথে বড় বাধা হতে পারে উপমহাদেশের কন্ডিশন। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও দু’টি অনাকাক্সিক্ষত পরাজয়ের দগদগে স্মৃতি নিয়ে অনেক আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। দেখাই যাক ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন কতটা সফল হয়।

অস্ট্রেলিয়া
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টটাও ধাঁধা হয়ে আছে প্রায় এক যুগের দুর্দান্ত প্রতাপশালী অস্ট্রেলিয়া দলের কাছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ধাঁধা শেষ পর্যন্ত ২০০৬ সালে ভাঙতে পারলেও টি -টুয়েন্টির রহস্য অজানাই রয়ে গেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এক যুগ ধরে ক্রিকেট সাম্রাজ্য শাসন করা অস্ট্রেলিয়া কেন টি-টুয়েন্টির শিরোপা জেতেনি সেটাই এক বিস্ময়ের ব্যাপার। আগের আধিপত্যটা খর্ব হয়েছে বেশ কিছু দিন ধরেই। তারকাদের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়াও আর অপরাজেয় অবস্থানে নেই। কিন্তু তা-ই বলে অস্ট্রেলিয়া তো শেষ হয়ে যায়নি। দীর্ঘ দিনের শাসনটা শেষ হলেও শৌর্য ঠিকই ধরে রেখেছে দলটি। নতুন অধিনায়ক জর্জ বেইলির নেতৃত্বে তাই অধরা টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের মিশনে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া। সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ওয়াটসন, ওয়ার্নার, হাসিদের ব্যাটিংয়ের সাথে ক্রিশ্চিয়ান, স্টার্কদের বোলিংয়ের দুরন্তপনার সন্নিবেশটা ঠিকমত হলে আইসিসির সব টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের বৃত্তটা পূরণ হয়ে যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ার।

পাকিস্তান
ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে অননুমেয় এবং সম্ভবত সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দলটির নাম পাকিস্তান। পাকিস্তানের সম্পর্কে অনুমান করা আর অন্ধকারে ঢিল ছোড়া একই কথা। বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মাঝেও প্রতিভার অভাব কখনই হয়নি দলটির। টি-টুয়েন্টির ইতিহাসটাও পাকিস্তানের অনুকূলে। প্রথম টুর্নামেন্টেই ফাইনালে প্রায় জিততে জিততে হেরে রানারআপ হওয়া দলটি শিরোপা জিতেছে পরের আয়োজনেই। টুর্নামেন্টে সাফল্যের হারও শতকরা ৬০ শতাংশ। দলে আছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি শহীদ আফ্রিদী, টি-টুয়েন্টির সবচেয়ে সফল বোলার উমর গুল। সাথে প্রায় দুর্বোধ্য সাঈদ আজমল আর হাফিজকে নিয়ে গড়া বোলিং লাইনটাই বরাবরের মত পাকিস্তানের মূল শক্তি। তবে মাথাব্যথার কারণ হতে পারে ব্যাটিংটা। আকমল, জামসেদরা সেটা ঠিকমতো সামলাতে পারলে শিরোপার রেসে পাকিস্তান হতে পারে ডার্ক হর্স।

দক্ষিণ আফ্রিকা
কী নেই প্রোটিয়াদের? র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা বা সময়ের সেরা বোলার ডেল স্টেইন অথবা সবসময়ের সেরা অলরাউন্ডারদের অন্যতম জ্যাক ক্যালিস। এরপরও কি তাদের শিরোপা না জেতার কোন কারণ আছে? হ্যাঁ আছে!! সেটা হলো দলটির নাম। ভাগ্যের বঞ্চনা যে তাদের সাথী হয়েছে বারবার। আইসিসির খুব কম টুর্নামেন্টই আছে যেখানে দক্ষিণ আফ্্িরকা ফেবারিটের তকমা নিয়ে যায়নি। কিন্তু সেই ১৯৯৮ সালে হ্যানসি ক্রোনিয়ের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয় ছাড়া সব টুর্নামেন্টেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায় শিরোপার আক্ষেপ নিয়েই। আর তাই প্রায় প্রতিটি আয়োজনের পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়কদের কণ্ঠে ‘চোকার’ অপবাদ ঘোচানোর আশাবাদ আর্তনাদের মতই শোনায় যেন। প্রোটিয়াদের সামনে এবারের সুযোগটা তাই শুধু ফেবারিট দল নয়, শিরোপার দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণের। এই মিশনে অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের সম্মিলনে দারুণ এক ব্যালান্সড টিমই পাচ্ছেন। বারবার ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের বলি হওয়া দলটি এবার ব্যর্থতা ভুলে সফলতার গল্প লিখতে পারে কি না তাই এখন দেখার বিষয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টি-টুয়েন্টির সবচেয়ে বড় এন্টারটেইনারের দল এটি। হাল সময়ে ফ্রিল্যান্সার ক্রিকেটার বনে যাওয়া ক্রিস গেইল অনেক নাটকের পর অবশেষে ফিরেছেন দলে। তার ব্যাট হাসলে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন কাঁদতে হবে তাদের, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। টি-টুয়েন্টিতে ব্যাটিংয়ের অনেক রেকর্ডই নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন এই ব্যাটসম্যান। তবে কেবল একজনের উপর নির্ভর করে তো আর শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকা যায় না। উইন্ডিজও তাই খুব একটা শক্ত অবস্থানে নেই এ রেসে। গেইলের পর পোলার্ড ব্রাভোদের উপর থাকছে বাড়তি দায়িত্ব দলকে সামনে নেবার। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের রেকর্ডটাও খুব একটা জুতসই নয় উইন্ডিজের। মোট ১৩ ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে ৬টিতে আর পরাজয়ের সংখ্যা ৭। ২০০৯ সালের আয়োজনে সেমিফাইনালে খেলাটাই এখনও পর্যন্ত দলের সেরা সাফল্য। তবে প্রেরণার জায়গা একটা আছে। ক্যারিবিয়ানরা এমন নড়বড়ে অবস্থানে থেকেও ২০০৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির কাপ ঘরে তুলেছিল; ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে তারা?

আফগানিস্তান
যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগান বীরেরা দ্বিতীয়বারের মত এ আসরে এসেছে আট দলের বাছাই পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। মূল আসরে তাদের সম্ভাবনা হয়ত তলানিতে, কিন্তু তাদের হারানোরও তো কিছু নেই। বাড়তি প্রেরণা হবে যে দুটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ তারা খেলেছে তাতে পাকিস্তান বা অস্ট্রেলিয়াকে ছেড়ে কথা বলেনি আফগানরা। তাই অঘটনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। সে লক্ষ্যে অধিনায়ক নওরোজ মঙ্গল পাশে পাবেন হামিদ হাসান, জাদরানদের।

নিউজিল্যান্ড
মাঠের সময়টা একদমই ভাল যাচ্ছে না কিউইদের। প্রায় বছর দুয়েক ধরেই এলোমেলো অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দলটি। সাফল্যের চেয়ে পরাজয়ের বৃত্তেই বেশি ঘুরছে তারা। তবে কিউইদের সাথে আছে ইতিহাস। সেটা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার না হলেও আইসিসির বেশির ভাগ টুর্নামেন্টেরই শেষ চারে পাওয়া যাবে কিউইদের নাম। তবে আজীবনের সেমিফাইনালিস্টদের বর্তমান অবস্থানটা সুবিধার নয়। দলের সবচেয়ে বড় তারকা ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। ভাল কিছু করতে চাইলে অধিনায়ক রস টেলরের ব্যাটকেও চওড়া হতে হবে তার সাথে। পাশাপাশি অলরাউন্ডার জ্যাকব ওরাম, ম্যাককুলাম আর টিম সাউদির পারফরম্যান্স একসূত্রে গাঁথতে পারলে ২০০৭ সালে সেমিফাইনাল খেলার অর্জনটাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবার স্বপ্ন দেখতেই পারে নিউজিল্যান্ড।

জিম্বাবুয়ে
মাঝখানের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ধীরে ধীরে আবার নিজেদের খুঁজে নিতে শুরু করেছে। তবে এ আসরে বড় সম্ভাবনা তো নয়ই এমনকি কোন ব্যত্যয় না ঘটলে জিম্বাবুয়ের সুপার এইটে খেলার আশাও খুবই অনুজ্জ্বল। অবশ্য সেই ব্যত্যয় ঘটানোর লক্ষ্যেই জিম্বাবুয়ের লঙ্কাযাত্রা। অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলরের ব্যাটের পাশাপাশি অলরাউন্ডার চিগুম্বুরার দিকে তাকিয়ে থাকবে দলটি। বোলিং সামলানোর ভারটা প্রাইস, উতসেয়াকেই নিতে হবে।

আয়ারল্যান্ড
আইরিশদের তৃতীয় আসর এটা। আপসেট ঘটানোই মূল লক্ষ্য থাকবে নিঃসন্দেহে, আর তা পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডের কষ্টসাধ্য স্বপ্নটাও দেখতে পারে তারা। স্বপ্ন দেখার সাহসটা জোগাচ্ছে সর্বশেষ বিশ্বকাপে উপমহাদেশের মাটিতে তাদের বীরত্বগাথা ইংলিশ বধের স্মৃতি, আর সর্বশেষ ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রেরণা। অধিনায়ক পোর্টারফিল্ডের পর বড় চাওয়া থাকবে ইংল্যান্ডের হয়ে কয়েক ম্যাচ খেলা এড জয়েস আর ও ’ব্রায়ান ভ্রাতৃদ্বয়ের কাছে।

বাংলাদেশ
প্রথমে আসা যাক যৌক্তিক বিচারে। বাংলাদেশের গ্রুপটাকে সম্ভবত গ্রুপ অব ডেথ বলা যায়। তারপরও দ্বিতীয় রাউন্ডের আশা করাটা মোটেই বাড়াবাড়ি কিছু নয়। চাই কি সেমিফাইনালের কষ্টকল্পনাটাও আমরা করতেই পারি। তবে এরপর আর ভাবতে পারছি না। টি-টুয়েন্টির ইতিহাসটা ঠিক বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে না। তিন আসর মিলিয়ে ৯ ম্যাচে জয় মাত্র একটি। সেটাও ২০০৯ সালে উইন্ডিজকে হারানো। ওই আসরে সুপার এইটে খেলাটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাকিব, তামিমদের পারফরম্যান্স আশাবাদী করে তুলছে। সাকিব বাংলাদেশের সেরা পারফরমার। পাশাপাশি মুশফিক, রিয়াদ, নাসিরদের কাছে থাকবে বড় চাওয়া। ইনজুরি কাটিয়ে অনেকদিন পরে দলে ফেরা মাশরাফি বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেবেন; সঙ্গে পাবেন শফিউল, রাজ্জাককে। তবে এসবই সংখ্যাতাত্ত্বিক আর যৌক্তিক বিচারের সম্ভাবনা। অন্তত এই একটি ব্যাপারে যুক্তি নয় আবেগের জয় চাওয়া। আমাদের সব যুক্তি আর সংখ্যাত্বক হিসাবকে মিথ্যে করে বাংলাদেশ যদি সত্যিই বড় কিছু করে ফেলে তো কে কাঁদতে যাচ্ছে অনুমান ভুল হওয়ার দুঃখে?

SHARE

Leave a Reply