Home গল্প গানের মেয়ে

গানের মেয়ে

মকবুলা মনজুর..


সপ্তাহে দুই দিন মানে শুক্র আর শনিবার লাবণীর গানের মাস্টার আসেন। ওস্তাদ আলিমুদ্দিনের এক সময় খুব নাম ডাক ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি গান গাইতেন, কতো জনে তাকে তাদের ছেলেমেয়েদের গান শেখাবার জন্য সাধাসাধি করতো। কিন্তু এখন ওস্তাদজী বুড়ো হয়ে গেছেন। বড় কোনো অনুষ্ঠানে এখন আর তাকে তেমন কেউ ডাকে না। রেডিও-টেলিভিশন মনে হয় তাকে ভুলেই গেছে।
তা সে জন্য ওস্তাদজীর দুঃখ নেই তেমন। তিনি যে কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে গান শেখান আর রোজ ভোরবেলা গলা সাধেন এতেই তিনি। গানই তার সবচেয়ে আপনজন। সেই কবে তার স্ত্রী মারা গেছেন, ছেলেমেয়েও নেই। একদম একা মানুষ। পুরান ঢাকার এক গলির ভেতর এক কামরার একটা পুরনো বাড়ি। সেখানে একাই থাকেন, নিজেই রান্না করে খান। যেদিন রান্না করতে ইচ্ছে করে না সেদিন সামনের হোটেল থেকে রুটি তরকারি কিনে খেয়ে নেন।
মাস্টার সাহেবের উপার্জন তো বেশি না। তার ওপর বয়স হয়ে যাবার পর আগের মত গানের গলাও নেই। রেডিও-টেলিভিশন থেকে সেই জন্য আজকাল তাকে তেমন ডাকেও না। তিনি কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে বাসায় গিয়ে গান শেখান আর রোজ ভোরবেলা নিজে গলা সাধেন। তার ঘর-সংসার বলতে কিছুই নাই। একা একটা ঘর ভাড়া করে থাকেন আর ছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে গান শিখিয়ে আসেন। তা দু’জন ছাত্রীর মধ্যে একজন থাকে ধানমন্ডি আর একজন ইস্কাটনে।
মাস্টার সাহেবের তাঁতিবাজারের বাসা থেকে অনেক দূর।
কিন্তু কী আর করা! এই পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকাতে বাসাভাড়া কম। ঐ সব অভিজাত এলাকাতে বাসা ভাড়া নেবেন এমন সামর্থ্য নেই তার। তাছাড়া একটু কাছাকাছি থেকে দু’জন ছাত্র বাসায় এসে গান শিখে যায়। তারা সপ্তাহে দুই দিন আসে। তারা আসলে তাদের লেখাপড়ার বিষয়ের মধ্যে গানও নিয়েছে। সে জন্য বেশ মন দিয়েই গান শেখে। মাস্টার সাহেব তার সব ছাত্রছাত্রীকে খুব যতœ করে গান শেখান। গানই হচ্ছে তার স্বপ্ন আর সাধনার জিনিস। কিন্তু কেন যেন আজকালকার মানুষেরা গানকে সখের ব্যাপার বলে মনে করে। পয়সা আছে যাদের তারা মেয়ে একটু বড় হলেই হারমোনিয়াম কিনে দেন, গানের স্কুলে ভর্তি করে দেন, না হলে বাড়িতে মাস্টার রেখে দেন গান শেখার জন্য।
মেয়ের গানের গলা আছে কিনা, গানকে সে ভালোবাসে কিনা এসব নিয়ে মা-বাবার মাথাব্যথা নেই। মেয়ের আর পাঁচটা সখ সৌখিনতার মত তারা গানকেও ধরে নিয়েছেন। এই যেমন লাবণীর মা-বাবা। তাদের খুব সখ লাবণী গান শিখে রেডিও-টেলিভিশনে গাইবে, বড় বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠে গান গেয়ে মুগ্ধ করে দেবে দর্শক শ্রোতাদের। আর এজন্যই লাবণীর মা ওস্তাদজীকে রেখেছেন, হারমোনিয়াম আর তানপুরা কিনে দিয়েছেন। শুক্র-শনিবারে যখন ওস্তাদজী গান শেখাতে আসেন, তখন আবার একজন তবলচিও আসেন। কিন্তু লাবণীর গানে মন নেই। কী হবে ছাই গলা সেধে! তার চেয়ে টেলিফোনে বন্ধুদের সাথে গল্প করতে অনেক মজা। তার ওপর সে তো জানেই যে তার গলায় সুর নেই। তার ভেতরে গান নেই। কিন্তু মা সে কথা কিছুতেই মানবেন না। লাবণীর বড় ফুপুর মেয়ে যদি টিভির নতুন কুঁড়িতে গান গেয়ে পুরস্কার পেতে পারে তাহলে লাবণী কেন পারবে না? মার ঐ এক কথা গান লাবণীকে শিখতেই হবে।
লাবণীর গান শেখার ইচ্ছে নেই বলে মার খুব অশান্তি। আর এক অশান্তি তার জানুকে নিয়ে। কাজের মেয়ে জানু। পথে পথে ভিক্ষে করে বেড়াতো। লাবণীদের বাবুর্চি বাজার করতে গিয়ে তাকে ধরে এনেছিলো। মেয়েটি নাকি বাসাবাড়িতে কাজ করতে চায়। ওর বাড়ি নাকি ছিলো যশোরের কুমার নজীর কাছে ধলুয়া গ্রামে। বাপ-মা নেই। তারা মারা যাবার পর থাকতো নানার কাছে। গ্রামে ওদের জমিজমা কিছু নেই। খাওয়া জুটতো না বলে নানা একদিন জানুকে নিয়ে ঢাকায় চলে এলো। তার ধারণা ছিলো ঢাকা শহরে যেমন অনেক মানুষ তেমনি অনেক দয়ালু মানুষও আছে। তাদের কাছে হাত পাতলেই পয়সা পাওয়া যাবে, খাবার পাওয়া যাবে। কিন্তু ঢাকা শহরে এসে জানুর একটুও ভালো লাগতো না। সবচেয়ে অসহ্য লাগতো ভিক্ষে করা। জানু তার নানাকে বলতো, চলো নানা আমরা গাঁয়ে ফেরত যাই।
নানা বলতো, গাঁয়ে গেলি আমাগরে খাওয়াবি কেডা? গাঁয়ে কি ভাত আছে?
কিন্তু জানু তো খেতে চায় না। তার ইচ্ছে করে ওদের গাঁয়ে নদীটাতে ঝাঁপাঝাঁপি করে গোসল করতে, বিলে নেমে শালুক তুলতে।
তো ঢাকায় আসার মাস কয়েক পরে একদিন রাত্রে জানুর নানার ভীষণ জ্বর এলো। ওরা থাকতো একটা বাজার মত জায়গার দোকানের লম্বা বারান্দায় আরও অনেক গরিব মানুষের সঙ্গে। একদিন সকাল বেলায় দোকানের মালিক এসে মহা চেঁচামেচি। অন্য লোকেরা ভোর হতেই পোঁটলা-পুঁটলি নিয়ে রোজকার মত এদিক ওদিক চলে গেছে। কিন্তু জানু কোথায় যাবে অসুস্থ বুড়ো মানুষটাকে নিয়ে! সারাটা রাত নানার বুকের ভেতর ঘড় ঘড় শব্দ হয়েছে। এখন একদম চুপচাপ। রাস্তার লোকেরা দু-একজন এগিয়ে এলো। দেখে শুনে বললো, এ বুড়া তো মারা গেছে।
জানু মাটিতে লুটিয়ে কাঁদতে লাগলো। তারপর দোকানের মালিক যে কাদের খবর দিলো, কারা যে এসে জানুর নানার লাশ তুলে নিয়ে কোথায় চলে গেলো জানু বুঝতেই পারলো না। লোকজনের কথাবার্তা শুনে জানু এটুকুই বুঝতে পারলো ঐ যারা নানাকে নিয়ে গেলো তারাই নানাকে কোথাও কবর দেবে কিন্তু কেউ জানতে চাইলো না জানু এখন কী করবে? কোথায় যাবে?
জানু দু’চারদিন পথে পথেই ভিক্ষে করবার চেষ্টা করলো। আর ঠিক করলো যে করেই হোক সে তার গ্রামে ফিরে যাবে। কিন্তু ধলুয়া গ্রামে যাবার উপায় তো জানে না। রেলস্টেশনের পথও চেনে না। উপায়হীন হয়ে জানু রাস্তার ধারে বসে হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলো। এমন সময় লাবণীদের বাসার বাবুর্চি বাজার করে ফেরার পথে ওকে কাঁদতে দেখে বাসায় নিয়ে এলো। আশ্বাস দিলো যে জানু যদি ঠিকমত বাসায় থেকে কাজ করে তাহলে একদিন নিজেই তাকে ধলুয়া গ্রামে নিয়ে যাবে। জানু তার কথায় বিশ্বাস করে আজ বেশ কয়েক মাস লাবণীদের বাসায় থেকে কাজ করছে।
লাবণীদের বাসাটা খুব সুন্দর দেখতে। কী সুন্দর করে সাজানো। যদিও লাবণী জানুর সাথে সব সময় খিটখিট করে আর বেগম সাহেবা ধমক ছাড়া কথা বলেন না তবু তারাও দেখতে খুব সুন্দর। আর জানুর সবচেয়ে আনন্দ হয় শুক্র আর শনিবারের দিনগুলোতে। ঐদিন বিকেল বেলায় ওস্তাদজী আসেন লাবণীকে গান শেখাতে। আহা! কী সুন্দর গলা ওস্তাদজীর।
কিন্তু তবু লাবণী গান শিখতে চায় না। আর যতক্ষণ ওস্তাদজী তাকে গান শেখান ততক্ষণ জানু আশপাশে ঘুর ঘুর করে। ওস্তাদজীকে চা দিতে এসে হাঁ করে চেয়ে থাকে হারমোনিয়ামটার দিকে। কিন্তু লাবণীর গান শেখাতে মন নেই। সে নানা অজুহাতে গান শেখা এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু তার গান শেখার সময় জানু যদি হারমোনিয়ামটার দিকে চেয়ে থাকে লাবণী রেগে যায়। আর বেগম সাহেবাও ধমক দিয়ে বলেন, ওখানে তোর কী! চা দিয়েই চলে আসবি।
তা জানুতো চলেই আসে। তবে যতক্ষণ গান চলতে থাকে ততক্ষণ ওর কান দুটো যেন খরগোশের কানের মত খাড়া হয়ে থাকে।
এর মধ্যে একদিন এক কাণ্ড হলো। লাবণী শুনতে পেলো, জানু ঘর মুছতে মুছতে আপন মনে গান গাইছে, ‘রুমাঝুম রুমাঝুম’ একদম নির্ভুল সুর!
তেড়ে এলো লাবণী, এ্যাই চুপ! খবরদার তুই এই গান করবি না।
লাবণীর চিৎকার শুনে বেগম সাহেবা এলেন। জানতে চাইলেন কী হয়েছে। জানু কী করেছে?
লাবণী বললো, দেখছো মা, ওর সাহস কতো! ও আমার গান গাইছে!
জানুর জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করলো, ‘গানের আবার তোমার আমার আছে নাকি? গায়েন গান বেঁধে সুর দেয়, সেই গান যার খুশি সে গাইতে পারে।’ কিন্তু এই কথা বলার সাহস তার নেই।
বেগম সাহেবা বললেন, কাজের মেয়ে আছিস, কাজের মেয়ের মত থাকবি। তোর আবার গান গাওয়া কিসের?
বাবুর্চিও জানুকে ধমকালো। ‘তুই হলি কাজের ছেমড়ি। সাহেবের মেয়ের মত গান গাওয়া কি তরে মানায়? একটু বুইঝা সুইঝা চলবি। তা না হইলে তরে কিন্তু আবার সেই রাস্তায় থুইয়া আসমু।
জানু ভয় পেয়ে চুপ করে রইলো। আবার সেই রাস্তায়! না-না! তার চেয়ে আর একটু বড় হলে একদিন জানু তার ধলুয়া গাঁয়ে ফিরে যাবে। ধলুয়া গাঁয়ে কী করে যেতে হয় তা জানু জানে না। তবে তার মনে হয় বড় হলে সে সব পারবে।
আজ শনিবার। সকাল থেকে আকাশ মেঘলা। মাঝে মাঝে ঝির ঝির করে বৃষ্টিও পড়ছে। ওস্তাদজীর আজ বেরুতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু কাজে কামাই দেয়া কিংবা ফাঁকি দেয়া তার ভীষণ অপছন্দ। বরং তার ছাত্রী লাবণীই ফাঁকি দেবার তাল খোঁজে। অনেক সময় এতদূর থেকে গিয়ে শোনেন লাবণী তার বন্ধুর জন্মদিনে গিয়েছে অথবা গিয়েছে কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে। এই রকম হলে ওস্তাদজীর ভীষণ রাগ হয়। রীতিমতো তিনি অপমান বোধ করেন। রেগে গিয়ে বলেন, গানকে এমন করে হেলা ফেলা করলে তিনি আর লাবণীকে গান শেখাতে আসবেন না।
বৃষ্টির দিনে বাসে চলাফেরা করা মুশকিল। তাছাড়া ওস্তাদজীর বাসা থেকে বাসস্টপ বেশ দূরে। তিনি ঠিক করলেন রিকশা ভাড়া যতই লাগুক আজ তিনি তার এই তাঁতিবাজার থেকে রিকশাতেই যাবেন ইস্কাটনে গান শেখাতে।
এখান থেকে রিকশাভাড়া কম করে হলেও পনেরো বিশ টাকা লাগবেই। আজ মাসের প্রথম। হয়তো ছাত্রীর মা তার এ মাসের বেতনের টাকাটা দিতেও পারেন তাকে।
লাবণীদের ফ্ল্যাটের সামনে এসে থমকে গেলেন ওস্তাদজী। গান! গানের সুর! কী মিষ্টি গলা! আহা যেন বাঁশি বাজছে! ‘সে নাচে তটিনি জল টলমল টলমল!’ ওস্তাদজী নদীর ছলছল কলকল তান শুনতে পাচ্ছেন।
এ কার গলা? কচি গলায় এমন সুরের খেলা! এতো তার ছাত্রী লাবণীর গলা নয়।
কলিং বেল টিপতেই জানু এসে দরজা খুলে দিলো। মাথা নিচু করে বললো, লাবণী আপা তার বন্ধুর জন্মদিনে গিয়েছে। আজ সে গান শিখবে না।
গান শিখবে না! এদের কাছে গানের কোনো মূল্যই নেই। ওস্তাদজী তক্ষুনি চলে যাবেন বলে পা বাড়ালেন।
পরক্ষণেই তাঁর মনে হলো কিন্তু ঐ গান কে গাইছিলো? জানতে চাইলেন জানুর কাছে।
জানু মুখ নিচু করে রইলো। ভয়ে তার শরীর কাঁপছে। নিশ্চয়ই এখুনি ওস্তাদজী ধমক দিয়ে বলে উঠবেন, এত সাহস তোমার? কাজের মেয়ে হয়ে তুমি আমার গান গাও।
Ñ আহা বলোই না কে গাইছিলো? ভয় কী? বলো?
জানু মুখ নিচু করে বললো, আমি।
Ñ তুমি! এমন গলা তোমার! গান তুমি কী করে শিখলে?
Ñ লাবণী আপার গান শুনে শুনে।
ওস্তাদজী হো হো করে হেসে উঠলেন, লাবণীর গান শুনে! সেতো গাইতেই পারে না।
Ñ জি না! আপনার গান শুনে শুনে।
Ñ সত্যি! এমন গলা তোমার! এমন নির্ভুল সুর! এতো খোদার আশীর্বাদ!
ওস্তাদজী উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন। ঠিক তক্ষুনি লাবণী আর ওর মা এসে ঢুকলেন ঘরে। ঘরে ঢুকেই লাবণী বলে উঠলো, আজ কিন্তু আমি গান শিখবো না ওস্তাদজী।
হঠাৎ করে রেগে গেলেন ওস্তাদজী। কড়া সুরে বললেন, আমিও আর তোমাকে গান শেখাবো না। তোমাকে গান শেখানোর চাইতে এই মেয়েটিকে গান শেখাতে পারলে আমি অনেক বেশি খুশি হব।
লাবণীর মা ভীষণ বিরক্ত হয়ে বললেন, আপনি লাবণীকে গান না শেখাতে পারেন কিন্তু এ কাজের মেয়ের সাথে তুলনা করবেন না।
লাবণীর মা ব্যাগ খুলে টাকা বের করে বললেন, এই নিন আপনার গত মাসের টাকা। লাবণী আর গান শিখবে না।
ওস্তাদজী খুব শান্ত সুরে বললেন, আমিও আর এখানে আসতে চাই না। আর ঐ টাকাও আমার দরকার নেই। তবে আমি এই মেয়েটাকে নিয়ে যেতে চাই। ওকে আমার দরকার।
লাবণীর মা ভীষণ রেগে বললেন, আপনিতো সাংঘাতিক লোক দেখছি! কোন সাহসে আমার কাজের মেয়েকে নিয়ে যেতে চান?
ওস্তাদজী বললেন, কাজের মেয়ে হতে পারে কিন্তু ক্রীতদাসী তো নয় যে ও কোথাও যেতে পারবে না। আমি ওকে শিল্পী হিসেবে তৈরি করবো, ওর গলায় খোদার আশীর্বাদ আছে। ওকে আপনি ছেড়ে দিন।
জানু এই গোলমেলে কথাবার্তার ভেতরে তার চিন্তা ঠিক করে ফেলেছে। সে সোজা গিয়ে ওস্তাদজীর পাঞ্জাবির খুঁট চেপে ধরে বললো, আমি আপনার সাথেই যাবো, এখানে আমার ভালো লাগে না।
লাবণীর মা রেগে বললেন, যা দূর হয়ে যা আমার বাড়ি থেকে।
সত্যিই ওস্তাদ আলিমুদ্দিনের সাথে বেরিয়ে পড়লো জানু। বাইরে তখন সন্ধ্যার অন্ধকার ঘন হয়ে এসেছে। ভেজা বাতাস বইছে ফিন ফিন বৃষ্টি ছিটিয়ে। জানুকে নিয়ে একটা রিকশায় উঠলেন ওস্তাদজী।
সারা পথ জানু একটা কথাও বলেনি। সে যেন বুঝতে পারছিলো না এরপরে কী হবে।
ওস্তাদ আলিমুদ্দিনের পুরনো বাড়িটাতে ঢুকে জানুর খুব আপন মনে হলো। একটাই ঘর। ঘরে সব জিনিস এলোমেলো। একটা চৌকির ওপর বিছানা আর একটা চৌকির ওপর হারমোনিয়াম, তবলা আর তানপুরা।
ওস্তাদজী জানুর হাত ধরে চৌকিটাতে বসিয়ে দিয়ে বললেন, জানু তোকে আমি গান শেখাবো। আমার সব গান, সব সুর আমি তোকে দেব। একদিন দেখবি লোকে তোর গান শোনার জন্য পাগল হয়ে যাবে।
জানু কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, লোকে সত্যিই আমার গান শুনবে? কিন্তু আমি যে কাজের মেয়ে।
ওস্তাদজী জানুর কথা শুনে হেসে উঠে তাকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন, কে বলেছে তুই কাজের মেয়ে? তুই হচ্ছিস আমার মেয়ে, আমার গানের মেয়ে।
ওস্তাদজীর কথা শুনে জানুর মনে হলো, সত্যিই সে গানের মেয়ে। তার সেই ধলুয়া গাঁয়ের মাগনের গান তার মনের ভেতর উথাল পাথাল করে উঠলো।

SHARE

Leave a Reply