Home স্বাস্থ্য কথা নিজের দিকে খেয়াল রেখ

নিজের দিকে খেয়াল রেখ

খাবার থেকে অ্যালার্জি

বিভিন্ন খাবার থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। তোমাদের মতো সব শিশু-কিশোরেরই যে অ্যালার্জি হয় তা নয়, আবার আক্রান্তদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন জনের ভিন্ন ভিন্ন খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে। একটু সচেতন হলে সহজে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়।
অ্যালার্জি কী : প্রত্যেক মানুষের শরীরের সহ্যক্ষমতা আলাদা। কোনো খাবার হয়তো কেউ সহজে হজম করে ফেলল, কারও আবার খাবার গ্রহণ করার পরই শুরু হয় চুলকানি। শ্বাস গ্রহণ, স্পর্শ, ইনজেকশন বা খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে কোনো বস্তু শরীরে ঢুকে অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলে তাকে অ্যালার্জি বলে।
অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া : অ্যালার্জির কারণে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শরীরে চুলকানি, লাল চাক হয়ে ওঠা, চোখ চুলকানো ও লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি ইত্যাদি। তবে সব সময় শুধু খাবার খেলেই অ্যালার্জি হবে তা নয়, সেদ্ধ খাবারের ঘ্রাণ নিলেও অ্যালার্জি হতে পারে। সেদ্ধ খাবার থেকে বায়ুবাহিত কিছু প্রোটিন শ্বাসনালিতে ঢুকে এমন প্রতিক্রিয়া ঘটায়।
অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার : শিশু-কিশোরদের সবচেয়ে বেশি অ্যালার্জি হয় গরুর দুধ, ডিমের সাদা অংশ ও বাদামে। বাদামে প্রতি ২০০ জনে একজন শিশুর অ্যালার্জি হয়। তাই বাদামযুক্ত কেক, পেস্ট্রি, বিস্কুট নিরাপদ নয়। কাঠবাদাম, কাজুবাদাম ও পেস্তাবাদাম থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। বাদাম লেগুম প্রজাতির শস্য। তবে লেগুম প্রজাতির অন্যান্য শস্য যেমন- ডাল, সয়া ও মটরশুঁটি খেলে অ্যালার্জি হয় না। চিংড়ি, ইলিশ মাছ, বেগুন, গরুর গোশত, হাঁসের গোশত ও ডিম এবং খাসির গোশত খেলে অ্যালার্জি হতে পারে তোমাদের। খুব অল্পসংখ্যকের ক্ষেত্রে পুঁটি, বোয়াল ও শোল মাছ এবং কুমড়ায় অ্যালার্জি হতে পারে। ফাস্টফুডও অ্যালার্জির জন্য কম দায়ী নয়। ময়দাজাত এসব খাবারে গ্লুটিন নামের এক ধরনের প্রোটিন থাকে, যা অ্যালার্জির কারণ। হোটেলে খাবারকে মুখরোচক করার জন্য যে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট মেশানো হয়, তাতে অ্যালার্জি হতে পারে। বিভিন্ন কৃত্রিম রং ও মসলা থেকেও অ্যালার্জি হয়।
তোমাদের প্রিয় খাবার চিপস। চিপসের মচমচে ভাব বজায় রাখার জন্য সালফাইড মেশানো হয়। চিজ, কেক ও পেস্ট্রিতে মেশানো হয় টাইরামিন। এই সালফাইড ও টাইরামিন অ্যালার্জির জন্য দায়ী। তোমরা তো আবার কোমল পানীয় ও ফলের রস খেতেও ভালোবাসো। এসব পানীয়তে থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড, ফসফরিক অ্যাসিড, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ফ্লোরাইড প্রভৃতি। উল্লিখিত উপাদানগুলো তোমাদের মতো বয়সীদের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে।
অ্যালার্জি প্রতিরোধ : অনেকে মনে করতে পারো, অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবারগুলো বর্জন করলেই তো অ্যালার্জি থেকে মুক্ত থাকা যায়। কিন্তু এসব খাবারের অনেকগুলোই পুষ্টিগুণসম্পন্ন। আসলে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী সব খাবারে সব শিশুরই যে অ্যালার্জি হবে তা নয়, একেক শিশুর একেক খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই ঢালাওভাবে সব খাবার বর্জন না করে একটি একটি করে এসব খাবার তোমাদের খাওয়া উচিত। কোনো খাবার দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে ওই খাবার পরিত্যাগ করতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুদের অ্যালার্জি দুই বছর বয়সের পর কম থাকে। তাই এ সময় অ্যালার্জিযুক্ত খাবার বর্জন করলে পরবর্তী সময়ে সুফল পাওয়া যায়। শিশুদের অ্যালার্জি হলে সাধারণত অ্যান্টিহিস্টামিন সিরাপ খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়। আজকাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোন শিশুর কী কী খাদ্যে অ্যালার্জি হতে পারে তা নির্ণয় করা যায়। সে অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করলে অ্যালার্জি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
তো বন্ধুরা, তোমরা তোমাদের ছোট্ট ভাই-বোনটির ব্যাপারে এখনই সতর্ক হয়ে যাও, কেমন!

গরমে স্বাস্থ্য-সমস্যা ও খাবার
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা দরকার। এতে শরীর সুস্থ ও শীতল থাকে। গরমের সময় তোমাদের মতো শিশু-কিশোরদের বেশ কিছু সমস্যা দেখা যায়। যেমন- ডায়রিয়া, ঘামাচি, হাম, গরমজনিত সর্দি-কাশি, প্রস্রাবে সংক্রমণ ইত্যাদি। সেগুলো নিয়েই একটু জেনে নেয়া যাক। তাহলে ঈদের সময় বন্ধু বা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।
ডায়রিয়া : প্রচণ্ড গরমে পেটের অসুখ লেগেই থাকে। পানিশূন্যতা ও পায়খানা বন্ধ হয়ে গেলে অবশ্যই স্যালাইন নিতে হবে। এরপর খেতে হবে উচ্চ ক্যালরির সহজপাচ্য খাবার। অহেতুক ভয়ে খাবার কম খাবে না, তাতে তুমি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে। এ সময় খেতে হবে মাছের হালকা ঝোল, ভালোভাবে সেদ্ধ করা ডাল ও ডালের পানি, মুরগির স্যুপ, শসার স্যুপ, চিঁড়ার পানি, হালকা তেলে আলুর ডালনা ইত্যাদি। মসলা যত কম খাওয়া যায় তত ভালো।
ঘামাচি : এটি একটি যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার। এতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় চুলকাতে থাকে বলে ত্বকে ঘা দেখা দেয়। এ জন্য প্রয়োজন শরীরে যাতে ঘাম ও ধুলোবালি না জমে সেদিকে লক্ষ রাখা। শরবত খেতে পারলে ভালো হয়। লেবু অথবা যেকোনো ফলের রস দিয়ে শরবত করা যেতে পারে। অর্থাৎ শরীর ঠাণ্ডা ও পরিষ্কার রাখতে পারলে ঘামাচি থেকে মুক্ত থাকা যাবে।
হাম : হাম হলে একেবারে নিরামিষ খাবার খেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। রোগের সঙ্গে লড়াই করার জন্য চাই যথোপযুক্ত খাবার। পানি ছাড়াও খেতে হবে লবণ+পানি, বার্লির শরবত, পাতলা সাগু, পাতলা সুজি, গোশত ও সবজির পাতলা স্যুপ। হাম কমে গেলে প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন- মাছ, গোশত, ডিম, দুধ খাওয়া যাবে।
সর্দিজ্বর : খুব রোদে ঘোরাঘুরি করলে বাইরের তাপ ও শরীরের তাপের মধ্যে সমতা থাকে না বলে জ্বর হতে পারে। এ জন্য কড়া রোদে চলাফেরা না করাই ভালো। এ সময় ফলের রস ও হালকা মসলা সহযোগে রান্না খাবার খেতে হবে। জ্বর হলে শরীরে সঞ্চিত শর্করা খরচ হতে থাকে। এ সময় শরীর থেকে প্রচুর পানি, ঘাম ও প্রস্রাব বেরিয়ে যায়। দেহের উত্তাপ যত বাড়তে থাকে, প্রস্রাবে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ততই বাড়তে থাকে। অর্থাৎ প্রোটিন ক্ষয় হতে থাকে। এ কারণে অল্পদিনে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এ অবস্থায় তুমি ফলের রস খেলে খাবারের রুচি বাড়বে এবং স্যুপ খেলে ক্ষুধা বাড়বে।
প্রস্রাবে সংক্রমণ : প্রখর রোদের তাপে প্রচুর ঘাম হয় বলে শরীর থেকে অনেক লবণ বা সোডিয়াম বেরিয়ে যায়। এটা যদি পূরণ করা না হয়, তাহলে পানিশূন্যতা দেখা দেবে। ফলে খিঁচুনি হওয়ায় ঝুঁকি বাড়বে। এ ছাড়া প্রস্রাবে সংক্রমণ দেখা দিয়ে জ্বর হতে পারে। এ জন্য গরমের সময় শরবত, স্যুপ, খাওয়ার পানি সে পরিমাণে খেতে হবে, যতক্ষণ না প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক হয়। পানি শরীরের ভেতরকে পরিশোধিত করে। তাই গরমের সময় তোমাকে সুস্থ থাকতে হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে যেমন নজর দিতে হবে, তেমনি খাওয়া-দাওয়ার প্রতিও হতে হবে বিশেষ যতশীল।
কিশোরকণ্ঠ ডেস্ক

SHARE

Leave a Reply