Home ক্যারিয়ার গাইড লাইন সাফল্যই তোমার প্রাপ্তি ব্যর্থতা নয়

সাফল্যই তোমার প্রাপ্তি ব্যর্থতা নয়

রাফিউল ইসলাম..

আমরা মানুষের সংগ্রামী জীবনে দেখি, সাধনার মাধ্যমে পৃথিবীর ইতিহাসে সবাইকে চমকে দিয়ে কিভাবে অন্ধমানুষ মিল্টন বিশ্ববিখ্যাত কবি হলেন। একজন বধির মানুষ বিটোফেন কিভাবে সঙ্গীত রচয়িতা হলেন। একজন অন্ধ, বোবা আর বধির মেয়ে হেলেন কিলার কিভাবে সাধনা করে চব্বিশ বছর বয়সে তার কলেজে সর্বোচ্চ মার্ক নিয়ে বিএ পাস করলেন এবং পরবর্তীতে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করলেন। কিভাবে একজন কাঠুরিয়ার ছেলে আর মুদি দোকানদার বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ আমেরিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন হলেন। আর যদি অজুহাতের প্রশ্ন তুলি, তবে কতই পাওয়া যাবে জীবন থেকে পিছিয়ে পড়ার। কিন্তু সার্থক লোকেরা কি তা করেন? তাহলে তো রুজভেল্ট তার অচল পা দু’টির অজুহাত দিতে পারতেন; ট্রুম্যান ‘কলেজ শিক্ষার অভাব’কে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে অভিহিত করতে পারতেন; কেনেডি বলতে পারতেন, ‘এতো অল্প বয়সে কী করে প্রেসিডেন্ট হবো’; জনসন ও আইস্যানহাওয়ার তাদের হৃদরোগের অজুহাত দেখাতে পারতেন।
জীবন সংগ্রামে এমন বাধা হাজারটা তো আসবেই। কারা এই বাঁধা অতিক্রম করতে পারেন? নিশ্চয়ই তারা সাধারণ শ্রেণীর মানুষ অর্থাৎ “মি. এভারেজম্যানদের” দলে পড়বেন না। এ প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার হিশাম আল তালিবের একটি উদাহরণ দেয়া যায়। তাঁর “ট্রেনিং গাইড ফর ইসলামিক ওয়ারকারস” বইতে মি. এভারেজম্যান নামক এক ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়েছেন যার বর্ণনা হলো : মি. এভারেজম্যান ১৯০১ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সি বা ডি গ্রেডের মান পেয়ে পরীক্ষা পাস করেছেন, ১৯২৪ সালে মিস মিডিওকারকে (মাঝারি ধরনের মেয়ে) বিয়ে করেছেন, “এভারেজম্যান জুনিয়র” এবং বেটি মেডিওকার নামে এক ছেলে ও এক মেয়ে লাভ করেছেন। চল্লিশ বছরের নামদামহীন চাকরি জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অলঙ্কৃত করেছেন। তিনি কোনো সময় কোনো ঝুঁকি বা সুযোগ নেননি, তিনি প্রতিবার স্ফুরণ এড়িয়ে চলেছেন, কোনো সময় কারো সাথে কোনো কিছুতে জড়িত হননি। তার প্রিয় পুস্তক ছিল- ‘Non-Involvement: the Story of Playing It Safe’ অর্থাৎ ‘সম্পৃক্তহীন নিরাপদ জীবন চালনার গল্প’। তিনি কোনো উদ্দেশ্য-লক্ষ্য, পরিকল্পনা, আকাক্সক্ষা, সংকল্প বা আস্থা ব্যতীত ৬০ বছরের জীবন সমাপ্ত করেছেন, তার কবরগাহে খুদিত হয়েছে-
মি. এভারেজম্যান
জন্ম ১৯০১; মৃত্যু ১৯৬১, কবরস্থকরণ ১৯৬৪
তিনি কখনো কিছু করতে চেষ্টা করেন নাই
তিনি জীবন থেকে অল্পই প্রত্যাশা করেছেন
জীবন তাকে তার প্রাপ্য দিয়েছে।
মি. এভারেজম্যান হয়ে কিন্তু বড় কিছু করা সম্ভব হয় না, যদিও সমাজের বেশিরভাগ লোক তারাই। এ প্রসঙ্গে একজন বিজ্ঞ সমাজবিজ্ঞানী বলেছিলেন যে, সকল সমাজেই গড়ে ৮০% লোক এই শ্রেণীভুক্ত। এরা কিছুটা ভেড়ার পালের মতো- কোথায় যাচ্ছে বা কেন যাচ্ছে তা তারা জানে না, জানার প্রয়োজনও মনে করে না। কোনো জাতির উপর নিয়ন্ত্রণ অর্জন করার জন্য দরকার হচ্ছে বাকি ১৫% লোককে নিয়ন্ত্রণে আনার। উক্ত ৮৫% লোক ভাগ্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে, এবং এরাই হচ্ছে মি. এভারেজম্যান। তুমি বড় হতে চাওÑ এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তুমি নিশ্চয়ই মি. এভারেজম্যান হবে না। কী আছে তার যা তোমাকে আকর্ষণ করবে? হতাশা, উচ্চাকাক্সক্ষার অভাব, লক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীনতা, পরিকল্পনা, সংকল্প ও আস্থাবিহিনতা ছাড়া? এসব নিয়ে কখনো বড় কিছু করা যায় কি? বন্যার তোড়ে প্রবহমান স্রোতস্বিনীতে ক্ষুদ্র খড়-কুটা ভেসে যেতে দেখেছ কখনও? এরা তাই। পার্থক্য শুধু একটা- বন্যার স্রোতে নয় বরং সময়ের স্রোতে ভেসে হারিয়ে যায় এরা।
প্রতিভার অজুহাত
জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের ক্ষেত্রে ব্যক্তি প্রথমে যে প্রশ্ন তোলে তা হলো তার মেধা সম্পর্কিত। তাদের ধারণা মেধার তারতম্যের কারণেই মানুষের জীবনের অবস্থানের তারতম্য হয়ে থাকে। ব্যাপারটি আংশিক সত্য হতে পারে, অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে সত্য নয়। এ ব্যাপারে কিছু আলোচনা করা যাক। প্রতিভা বলতে আমরা সর্বদাই ভিন্ন কিছু বুঝি। আসলে তা নয়। এ ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক এডিসন বলেছেন, প্রতিভা হচ্ছে একভাগ প্রেরণা আর নিরানব্বাই ভাগ পরিশ্রম ও সাধনা।
ব্যর্থ মানুষেরা বহু ক্ষেত্রেই প্রতিভার ঘাটতির অজুহাত দাঁড় করেন যা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়। এ পর্যায়ে মানুষের ব্রেন সম্পর্কে একটু ধারণা নেয়া যাক। মানুষের ব্রেনের তথ্য ধারণক্ষমতা অসীম। কম্পিউটার ব্রেনের তুলনামূলক আলোচনা করলেই বোঝা যাবে মানুষ কত বিশাল শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। বিশ্বের একটি সুপার কম্পিউটার হচ্ছে ক্রে-১ কম্পিউটার। এর ওজন সাত টন। আর মস্তিষ্কের ওজন দেড় কেজি। ক্রে-১ প্রতি সেকেন্ডে ৪০০ মিলিয়ন ক্যালকুলেশন হিসেবে একশত বছর কাজ করলে মস্তিষ্কের মাত্র ১ মিনিটের কার্যক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে। ব্রেনের নিউরোনের যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে তুলনা করলে মস্তিষ্কের সামনে এটির তুলনামূলক অবস্থান হবে একটি চীনা বাদামের সমান। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা মাত্র বুঝতে শুরু করেছেন যে, মস্তিষ্ক হচ্ছে এক বিস্ময়কর জৈব কম্পিউটার, যার অসীম সম্ভাবনা এখনও প্রায় পুরোটাই অব্যবহৃত রয়ে গেছে। তাহলে মানুষ তার এই সম্ভাবনা ১০ গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে না কেন? যদি দিত তাহলে কি একজন পরীক্ষিত Duffer একজন প্রখর মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিকে উতরিয়ে যেতে পারতো না? অবশ্যই পারতো, কারণ একজন মেধাবী ব্যক্তি আর একজন Duffer-এর পার্থক্য কিন্তু কোনোভাবে এতটা বেশি না।
সঠিক মনোভাব
সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে দৃঢ় মনোবল। ক্যালগরী টাওয়ার নামে অট্টালিকার উচ্চতা ১৯০.৮ মিটার, ওজন ১০,৮৮৪ টন। এর মধ্যে ৬,৩৪৯ টন মাটির নিচে আছে, যা হলো তার সমস্ত ওজনের শতকরা ৬০ ভাগ। উচ্চতম বাড়িগুলোর ভিত্তিকে এইভাবে সুদৃঢ় করতে হয়েছে। একইভাবে সাফল্যকেও দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হয় যা দিয়ে তা হচ্ছে সঠিক মনোভাব। প্রকৃতপক্ষে জীবনের সবক্ষেত্রেই এই মনোভাবের (Attitude) বিশেষ গুরুত্ব আছে। কোনও ডাক্তার কি ভালো ডাক্তার হতে পারেন যদি তার উপযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি না থাকে? ছাত্রসুলভ মনোভাব না থাকলে একজন ছাত্র কি ভালো ছাত্র হতে পারে? একজন ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, পিতা-মাতা, মালিক, কর্মচারী প্রত্যেকের স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের উপযোগী মনোভাব না থাকলে যথাযথভাবে তাদের কর্তব্য করতে পারেন না। তাই তুমি যা-ই হতে চাও না কেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সাফল্যের ভিত্তি হচ্ছে তোমার মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গি। প্রধানত তিনটি উপাদান আমাদের মনোভাব গঠন করতে সাহায্য করে। সে তিনটি উপাদান হলো : ক) পরিবেশ, খ) অভিজ্ঞতা এবং গ) শিক্ষা।
পরিবেশ বহুলাংশে আমাদেরকে প্রভাবিত করে থাকে। ঈগলের মতো উঁচুতে উঠতে হলে ঈগলের ক্ষমতা আয়ত্ত করতে হবে। সফল ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে সফল হওয়ার সম্ভাবনা, চিন্তাশীলদের সান্নিধ্যে ভাবুক হওয়ার সম্ভাবনা, আবার ছিদ্রান্বেষীদের সান্নিধ্যে ছিদ্রান্বেষী হওয়ার সম্ভাবনাই থাকে। তুমি কোন্টি হতে চাও সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তোমাকে, আর সে অনুযায়ী কাজ শুরু করতে হবে। সেন্ট ফ্রান্সিস অব আসিসি এই সম্পর্কে সার কথা বলেছেন, যা প্রয়োজনীয় তা করা শুরু করো, তারপর যা সম্ভবপর তা করা শুরু করো; অবশেষে দেখা যাবে যে অসম্ভব কাজও সম্ভব হচ্ছে।
ব্যর্থতা হচ্ছে সাফল্যের ভিত্তি
কাজ শুরু করে দু’একবার উদ্যোগ নিয়েছো এবং ব্যর্থ হয়েছো। এর পরে কী করবে? এই প্রসঙ্গে একজনের জীবন কাহিনী উল্লেখ করা যাক। তিনি ২১ বছর বয়সে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন, ২৬ বছর বয়সে তার প্রিয়তমা মারা গেলেন। কংগ্রেসের নির্বাচনে পরাস্ত হলেন ৩৪ বছর বয়সে। ৪৫ বছর বয়সে হারলেন সাধারণ নির্বাচনে। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সে ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হলেন ৪৭ বছর বয়সে। সিনেটের নির্বাচনে পুনর্বার হারলেন ৪৯ বছর বয়সে। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন ৫২ বছর বয়সে। কি, বুঝতে পারছো কার কথা বলছি? হ্যাঁ, এই ব্যক্তির নাম আব্রাহাম লিঙ্কন। বলো তো, এর নাম কি ব্যর্থতা? আব্রাহাম লিঙ্কন কিন্তু তা মনে করেননি। তার মতে পরাজয় মানে সমাপ্তি নয়, যাত্রা একটু দীর্ঘ হওয়া মাত্র।
১৯০৩ সালের ১০ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের জ্ঞানবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, কারণ তারা বাতাসের থেকে ভারী একটি যন্ত্র তৈরি করে আকাশে ওড়ার চেষ্টা করেছিলেন। এক সপ্তাহ পরে কিটি হক থেকে রাইট ভ্রাতৃদ্বয় তাদের অবিস্মরণীয় আকাশ যাত্রা শুরু করেন। রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় যে কারণটি ছিল তা হলো তাদের উচ্চাকাক্সক্ষা এবং প্রবল আত্মবিশ্বাস। এসবের প্রয়োজন হয় সাফল্য লাভের জন্য। সব মিলিয়ে একটা কথা বলা দরকার, “সফল মানুষেরা খুব বিরাট কিছু কাজ করেন না। তারা সামান্য কাজকেই তাদের নিষ্ঠা ও সততা দিয়ে বৃহৎ করে তোলেন।”
জীবনের পথে চলতে বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হওয়া অবশ্যম্ভাবী। এরূপ বাধা আমাদের এগিয়ে চলার ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। দুঃখের মধ্য দিয়েই বাধা-বিপত্তিকে জয় করার সাহস এবং আত্মবিশ্বাস পাওয়া যাবে। আমাদের বিজয়ী হওয়ার শিক্ষাই নেয়া উচিতÑ বিজিত হওয়ার নয়। ভয় এবং সন্দেহ মনকে হতাশার অন্ধকারে ডুবিয়ে দেয় বলে এগুলোকে ঝেড়ে ফেলতে হবে মন থেকে। আর প্রত্যেক বিপত্তির পর নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি কী শিখলাম। এ ধরনের আত্মবিশ্লেষণের ফলে বাধার অবরোধকে উন্নতির সোপানে পরিণত করা যাবে। কোনো কাজ নিষ্পত্তি করার দৃঢ় অঙ্গীকার নির্মাণ করতে হয় দু’টি স্তম্ভের ওপর। একটি সততা এবং অপরটি বিজ্ঞতা। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, যদি তোমার আর্থিক ক্ষতিও হয় তবু তোমার অঙ্গীকারে দৃঢ় থাকার নামই সততা। আর বিজ্ঞতা হচ্ছে যেখানে ক্ষতি হবে সেই রকম বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ না হওয়া।
প্রয়োজন শৃঙ্খলা
সাফল্যের আর এক ফ্যাক্টর হচ্ছে সমস্ত কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা আনয়ন। শৃঙ্খলার অর্থ আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মত্যাগ, মনোসংযোগ এবং প্রলোভনকে এড়িয়ে চলা। শৃঙ্খলার অর্থ নির্দিষ্ট লক্ষ্যে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা। সঙ্গতির অভাব শৃঙ্খলাহীনতার লক্ষণ। নায়াগ্রা জলপ্রপাত থেকে কোনো জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে না, যদি না তার স্রোতের শক্তিকে শৃঙ্খলিত করা যায়। বাষ্পকে যদি সংহত করে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা না যায় তবে তা ইঞ্জিনকে চালাতে পারবে না। তোমার জীবনের সাফল্যের ক্ষেত্রেও এই উদাহরণ শতভাগ সত্য।
মনে রাখতে হবে, সাফল্যের জন্য জরুরি শিক্ষাক্রম হলো-

  1.     জেতার জন্য খেলবে, হারার জন্য নয়।
  2.     উন্নত নৈতিক চরিত্রের বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করবে, চরিত্রহীনদের সাথে নয়।
  3.    সততার বিষয়ে কোনোভাবে আপস করবে না কখনো।
  4.     যা অপরের নিকট থেকে পাবে তার থেকে বেশি দেবে তাকে। এ ব্যাপারে ঋণী থেকে নিজেকে ছোট বানাবে না কখনো।
  5.     অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।
  6.     উদ্দেশ্যহীনভাবে কোনো জিনিসের সন্ধান করবে না। উদ্দেশ্য ঠিক করে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েই ঈপ্সিত লক্ষ্যের সন্ধানে নামবে।
  7.    দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করবে, স্বল্পমেয়াদি নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিতেও হতে পারে প্রয়োজনবোধে।
  8.     নিজের শক্তি যাচাই করে তার ওপর আস্থা রাখবে।
  9.     সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় বড় লক্ষ্যের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবে।

এবার জেনে নাও সাফল্যের পথে বাধার কারণগুলো-

  •     বিফলতার আশঙ্কা
  •     আত্ম-মর্যাদার অভাব
  •     পরিকল্পনার অভাব
  •     লক্ষ্য নির্দিষ্ট না করে কাজ শুরু করতে যেয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলা
  •     একাই অনেক কাজের ভার নেয়া অর্থাৎ সামর্থ্যরে অতিরিক্ত দায় গ্রহণ
  •     প্রশিক্ষণের অভাব
  •     অধ্যবসায়ের অভাব
  •     অগ্রাধিকারের অভাব।

এখন মিলিয়ে দেখ তোমার নিজের ক্ষেত্রে এর কতটা তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে। তারপর সেসব বিপত্তি ঝেড়ে ফেল। দৃঢ়তার সাথে পদক্ষেপ ফেলো সামনে এগোনোরÑ সাফল্যই হবে তোমার প্রাপ্তি, ব্যর্থতা নয়।

SHARE

Leave a Reply