Home বিজ্ঞান আধুনিক কম্পিউটিং প্রযুক্তি

আধুনিক কম্পিউটিং প্রযুক্তি

সাকিব রায়হান..

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সাথে ইন্টারনেট প্রসারের ফলে কম্পিউটার প্রযুক্তিতে এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। প্রযুক্তির বিবর্তনে বিশাল আয়তনের ডেস্কটপ পিসি আমাদের হাতের মুঠোয় এসে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে কম্পিউটিংয়ের ধারণা। আসছে নিত্যনতুন আবিষ্কার।
আধুনিক সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন ঘটছে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার জগতে। বিস্তৃত হচ্ছে কম্পিউটিংয়ের জগৎ। শুরুতে কম্পিউটার ছিল বিশাল আকৃতির একটি যন্ত্র। সিপিইউ ছিল বিশাল আকারের আলমারির মতো। সময়ের ধারাবাহিকতায় নব্বইয়ের দশক থেকে কম্পিউটারের আকারে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে শুরু করে। সাথে সাথে বহনযোগ্য ডিভাইস হিসেবে ল্যাপটপ কম্পিউটারের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এরপর একে একে এসেছে নোটবুক, নেটবুক, ট্যাবলেট পিসি, স্মার্টফোনের মতো ডিভাইস। আকারে ছোট কিন্তু সব ধরনের কাজ করতে সক্ষম এমন ডিভাইসের পেছনে ছুটছে প্রযুক্তি বিশ্ব। ডিভাইসের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন ঘটছে কম্পিউটিংয়ের ধরনের।
কাউড-নির্ভরতা : কম্পিউটিং জগতে যুক্ত হয়েছে কাউড কম্পিউটিং। ইন্টারনেটের দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে আমরা সবাই ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে পড়েছি। কাউড কম্পিউটিং এমন একটি প্রযুক্তি, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় রিমোট সার্ভার ব্যবহার করে ড্যাটা এবং অ্যাপ্লিকেশন নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে সক্ষম। ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন দ্বারা যেকোনো একটি কম্পিউটার থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টলেশন ছাড়াও নিজস্ব ফাইলগুলো অ্যাকসেস করা যায় অনায়াসে। এতে ওয়েবে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। কাউড কম্পিউটিং প্রসারের ফলে ঘরের বা অফিসের কম্পিউটারে রক্ষিত তথ্য নিয়ে আর কাউকে ভাবতে হচ্ছে না। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে নিজের প্রয়োজনীয় সেবা নেয়া সম্ভব কাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে। বর্তমানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে কাউড-নির্ভর সেবা। বিশ্বের নামকরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কাউড সার্ভিস নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এ তালিকায় রয়েছে অ্যাপল, গুগল, আমাজন, মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম গুগল ক্রোম করা হচ্ছে সম্পূর্ণ ইন্টারনেটনির্ভর। অর্থাৎ কাউডেই চলবে গুগল ক্রোম ওএস। কাউডের প্রসার হলে ব্যবহারকারীদের স্টোরেজ নিয়ে আর ভাবতে হবে না। সব কিছুই স্টোর করা যাবে অনলাইন কাউডে।
স্পর্শকাতর প্রযুক্তি : অ্যাপলের জনপ্রিয় আইপ্যাড থেকে শুরু করে টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি। আর এখন প্রায় সর্বত্রই এর ব্যবহার চলছে। এর কল্যাণে কি-বোর্ড বা মাউসের মতো ইনপুট ডিভাইস ব্যবহার ছাড়াই ছোট ডিভাইসগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে। বর্তমানে টাচস্ক্রিন ডিভাইসের তালিকায় মূলত শীর্ষস্থানে রয়েছে ট্যাবলেট পিসি আর স্মার্টফোন। অপারেটিং সিস্টেমের আগামী দিনের সংস্করণগুলোতে পূর্ণাঙ্গ টাচ প্রযুক্তি সমর্থনের সক্ষমতা সংযুক্ত করা হচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে নিত্যনতুন ইলেকট্রনিকস ডিভাইসেই ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রযুক্তি।
ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি : সাধারণত আমাদের চার পাশের কোনো কিছুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতাÑ এই তিনটি দিকে আমরা পরিমাপ করে দেখি। বাস্তবের পাশাপাশি এখন ত্রিমাত্রিকতার ছোঁয়া লেগেছে প্রযুক্তি জগতে। বর্তমানে টেলিভিশন সেট, মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে, ল্যাপটপে যুক্ত হচ্ছে ত্রিমাতৃকতার ছোঁয়া। এর ফলে আমরা পরিচিত পৃথিবীর অনুরূপ ত্রিমাতৃক বস্তু দেখতে সক্ষম হচ্ছি আমাদের ডিভাইসগুলোতে। ত্রিমাত্রিকতার ছোঁয়া সবচেয়ে বেশি লেগেছে গেমিং জগতে। এ ছাড়া ত্রিমাতৃক প্রযুক্তির তৈরি ভিডিও দেখতে বসলে মনে হয় যেন এর জগৎটির মধ্যে বসে আছি আমি। এগুলোতে ত্রিমাতৃক ছবি দেখার জন্য ব্যবহার করতে হয় বিশেষ চশমা। প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তোশিবা তৈরি করেছে নতুন একটি টিভি যাতে চশমা ছাড়াই ত্রিমাতৃক ছবি উপভোগ করার সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া বাজারে এসেছে বিশেষ ধরনের ল্যাপটপ যাতে রয়েছে ত্রিমাতৃক সিনক্রোনাইজিং ট্রান্সমিটার, থ্রিডি অ্যাকটিভ শাটার গ্লাস এবং থ্রিডি বাটন। এই ল্যাপটপে প্রচলিত হাই ডেফিনিশন ভিডিওগুলোকে ত্রিমাতৃকতায় রূপান্তর করে দেখা যাবে। ল্যাপটপের পাশাপাশি গেম কনসোলেও যুক্ত হয়েছে ত্রিমাতৃকতা। এর মধ্যেই নিনটেনডো নিয়ে এসেছে তাদের জনপ্রিয় গেমিং কনসোলের ত্রিমাতৃক সংস্করণ থ্রিডিএস। সর্বোপরি সরাসরি ত্রিমাতৃক ভিডিও ধারণের জন্যও রয়েছে বিশেষ ভিডিও ক্যামেরা এবং লেন্স।
মানবমস্তিষ্কের অনুরূপ কম্পিউটিং চিপ : বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পৃথিবীকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে নিত্যনতুন সব প্রযুক্তির সাথে। আইবিএম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছে অনেক দিন ধরে। দীর্ঘ দিন ধরে আইবিএম চেষ্টা করছে মানুষের মস্তিষ্কের মতো কর্মক্ষম এক ইলেকট্রনিক ব্রেইন তৈরি করতে। নানা গবেষণার পর অবশেষে তারা সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। আইবিএম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমন একটি ইলেকট্রনিক চিপ তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের মস্তিষ্কের মতো কাজ করবে। এই চিপে যখনই নতুন কোনো ধরনের তথ্য যুক্ত করা হয়, এটি এর সংযোগস্থলগুলোকে নতুন করে বদলে নিতে পারবে। সাধারণত মানুষের মস্তিষ্কে যখন কোনো নতুন তথ্য প্রবেশ করে, তখন মস্তিষ্কের নানা সংযোগস্থল বা সিনোপসিসগুলো নতুন করে নিজেদের বদলে নেয়। আইবিএমের এই নতুন চিপও ঠিক একইভাবে কাজ করবে। আইবিএমের সাথে এই প্রকল্পে কাজ করছে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং এতে সংশ্লিষ্ট রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট অ্যাজেন্সি (ডিএআরপিএ)। আধুনিক কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ভন নিউম্যান আর্কিটেকচার। এই আর্কিটেকচারে প্রসেসর এবং মেমোরিকে আলাদা রাখা হয় এবং এদের মাঝে তথ্য স্থানান্তরের জন্য একটি সংযোগ রাখা হয়। আইবিএমের তৈরি নতুন এই চিপে প্রসেসর আর মেমোরিকে এক সাথেই রাখা হয়েছে। নতুন এই চিপ কম্পিউটিংয়ের ইতিহাসকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বহু দূরÑ এমনটিই আশা করছেন গবেষকেরা।

SHARE

Leave a Reply