Home সাহসী মানুষের গল্প থরে থরে সোনা ঝরে

থরে থরে সোনা ঝরে

কায়েস মাহমুদ…
তখনও আঁধার ছিল। ছিল তমসিত কাল। তখনও কুয়াশা ছিল ঘোরতর। তবুও এক সময় কুয়াশার চাদর ভেদ করে দেখা দিল আলোর বিভা।
আলো! চারদিকেই আলো আর আলো!
স্বয়ং রাসূলই (সা) সেই আলোকের সভাপতি। আর তার চারপাশে থরে থরে সাজানো সোনার মানুষ।
যাদেরকে আমরা সাহাবী বলে জানি।
তেমনই একজন সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ।
আবু মূসা কুনিয়াত। কুনিয়াত দ্বারাই তিনি অধিক পরিচিত।
পিতা কায়েস, মাতা তাইয়্যেবা।
তাঁর ইসলামপূর্ব জীবন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। এতটুকু জানা যায় যে, তিনি ইয়েমেনের অধিবাসী ছিলেন। তথাকার ‘আল-আশয়ার’ গোত্রের সন্তান হওয়ায় তিনি ‘আল-আশয়ারী’ হিসাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
হযরত আবু মূসা ইসলামের পরিচয় লাভ করে ইয়েমেন থেকে মক্কায় আসেন এবং রাসূলুল্লাহর (সা) হাতে বাইয়াত হন।
মক্কার ‘আবদু শামস’ গোত্রের সাথে বন্ধু সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
কিছুদিন মক্কায় অবস্থানের পর স্বদেশবাসীকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইয়েমেন ফিরে যান।
হযরত আবু মূসা ছিলেন তাঁর খান্দানের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। খান্দানের লোকেরা খুব দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে তাঁর দাওয়াতে সাড়া দেয়।
প্রায় পঞ্চাশ জন মুসলমানের একটি দলকে সংগে নিয়ে রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে যাওয়ার জন্য ইয়েমেন থেকে সমুদ্রপথে যাত্রা করেন।
সমুদ্রের প্রতিকূল আবহাওয়া এই দলটিকে হিজাযের পরিবর্তে হাবশায় ঠেলে নিয়ে যায়।
এদিকে হযরত জাফর বিন আবী তালিব ও তাঁর সংগী সাথীরাÑযারা তখনও হাবশায় অবস্থান করছিলেন, মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন।
আবু মূসা তাঁর দলটিসহ এই কাফিলার সাথে মদীনার পথ ধরলেন।
তাঁরা মদীনায় পৌঁছলেন, আর এদিকে রাসূলুল্লাহর (সা) নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী খাইবার বিজয় শেষ করে মদীনায় ফিরেন।
হযরত আবু মূসা মক্কা বিজয় ও হুনাইন যুদ্ধে শরিক ছিলেন। হুনাইনের ময়দান থেকে পালিয়ে বনু হাওয়াযিন ‘আওতাস’ উপত্যকায় সমবেত হয়।
রাসূল (সা) তাদেরকে সমূলে উৎখাতের জন্য হযরত আবু আমেরের নেতৃত্বে একটি দল পাঠান। তারা আওতাস পৌঁছে হাওয়াযিন সরদার দুরাইদ ইবন্যুস সাম্মাকে হত্যা করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে হাশামী নামক এক মুশরিকের নিক্ষিপ্ত তীরে হযরত আবু আমের মারাত্মকভাবে আহত হন।
আবু মূসা আশয়ারী পিছু ধাওয়া করে এই মুশরিককে হত্যা করেন।
হযরত আবু আমের মৃত্যুর পূর্বে আবু মূসাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন এবং আবু মূসার কাছে এই বলে অনুরোধ করেন যে, ভাই রাসূলুল্লাহর (সা) খেদমতে আমার সালাম পৌঁছে দেবেন এবং আমার মাগফিরাতের জন্য দুআ করতে বলবেন।
আবু আমের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।
আবু মূসা তাঁর বাহিনীসহ মদীনায় ফিরে এসে রাসূলুল্লাহর (সা) নিকট আবু আমেরের অন্তিম অসিয়াতের কথা বর্ণনা করলেন।
রাসূল (সা) সাথে সাথে পানি আনিয়ে অযু করলেন এবং আবু আমেরের মাগফিরাত কামনা করে দুআ করলেন।
আবু মূসা আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমার জন্যও একটু দুআ করুন।
রাসূল (সা) দুআ করলেন, “হে আল্লাহ, আবদুল্লাহ ইবন কায়েসের পাপসমূহ মাফ করে দিন। কিয়ামতের দিন সম্মানের সাথে তাকে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ দিন।”
হিজরি নবম সনে তাবুক অভিযানের তোড়জোড় চলছে।
আবু মূসার সংগী-সাথীরা তাকে পাঠালেন রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে তাদের জন্য সওয়ারী চেয়ে আনার জন্য।
ঘটনাক্রমে আবু মূসা যখন পৌঁছলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) তখন যে কোন কারণেই হোক একটু উত্তেজিত ছিলেন। আবু মূসা তা না বুঝে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার সাথীরা আমাকে পাঠিয়েছে, আপনি যেন তাদেরকে সওয়ারী-দান করেন।
রাসূল (সা) বসে ছিলেন। উত্তেজিত কণ্ঠে তিনি বলে ওঠেন : আল্লাহর কসম, তোমাদের কোন সওয়ারী আমি দেব না।
আবু মূসা ভীত হয়ে পড়লেন, না জানি কোন বেয়াদবী হয়ে গেল।
অত্যন্ত দুঃখিত মনে ফিরে এসে সংগীÑসাথীদের তিনি এ দুঃসংবাদ দিলেন।
কিন্তু তখনও তিনি স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারেননি, এর মধ্যে হযরত বিলাল দৌড়ে এলেন, আবদুল্লাহ ইবন কায়েস, কোথায় তুমি? চলো রাসূলুল্লাহ (সা) তোমাকে ডাকছেন।
তিনি বিলালের সাথে রাসূলুল্লাহর (সা) দরবারে হাজির হলেন।
রাসূল (সা) নিকটেই বাঁধা দুটি উটের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এ দুটিকে তোমার সাথীদের কাছে নিয়ে যাও।
হযরত আবু মূসা উট দুটি নিয়ে গোত্রীয় লোকদের কাছে ফিরে এসে বললেন, “রাসূল (সা) এ দুটি উট তোমাদের সওয়ারী রূপে দান করেছেন, তবে তোমাদের কিছু লোককে আমার সাথে এমন একজন লোকের কাছে যেতে হবে যে রাসূলুল্লাহর পূর্বের কথা শুনেছিল। যাতে তোমাদের এ ধারণা না হয় যে, আমি আগে যা বলেছিলাম তা আমার মনগড়া কথা ছিল।”
লোকেরা বললো : আল্লাহর কসম, আমরা আপনাকে সত্যবাদী বলেই বিশ্বাস করি।
তবে আপনি যখন বলছেন, চলুন।
এভাবে কিছু লোককে সংগে নিয়ে তাঁর পূর্বের কথার সত্যতা প্রমাণ করেন।
তাবুক থেকে ফেরার পর একদিন আশয়ারী গোত্রের দু’জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হযরত আবু মূসা আশয়ারীকে সংগে নিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে গেল।
তারা রাসূলুল্লাহর কাছে যে কোন একটি পদ লাভের আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করলো।
রাসূল (সা) মিসওয়াক করছিলেন। তাদের কথা শুনে তাঁর মিসওয়াক করা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আবু মূসার দিকে ফিরে বললেন : আবু মূসা, আবু মূসা!
আবু মূসা আরজ করলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি তাদের অন্তরের কথা জানতাম না।
আমি জানতাম না এভাবে তারা কোন পদ লাভের আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করবে।
রাসূল (সা) বললেন, যদি কেউ নিজেই কোন পদের আকাক্সক্ষী হয়, আমি কক্ষনো তাকে সেই পদে নিয়োগ করবো না।
তবে, মূসা তুমি ইয়েমেন যাও। আমি তোমাকে সেখানকার ওয়ালী নিয়োগ করলাম।
সেই প্রাচীনকাল থেকে ইয়েমেন দু’ভাগে বিভক্ত ছিল।
ইয়েমেন আকসা ও ইয়েমেন আদনা। হযরত মুয়াজ বিন জাবালকে ইয়েমেন আকসার এবং আবু মূসাকে ইয়েমেন আদনার ওয়ালী নিয়োগ করা হয়।
দুজনকে বিদায় দেওয়ার সময় রাসূল (সা) তাদেরকে এই বলে উপদেশ দেন : “ইয়েমেনবাসীর সাথে নরম ব্যবহার করবে। কোন প্রকার কঠোরতা করবে না।
মানুষকে খুশি রাখবে, ক্ষেপিয়ে তুলবে না।
পরস্পর মিলে মিশে বসবাস করবে।”
নিজ দেশ হওয়ার কারণে ইয়েমেনবাসীর ওপর হযরত আবু মূসার যথেষ্ট প্রভাব পূর্ব থেকেই ছিল।
তাই সুষ্ঠুভাবেই তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেন।
পার্শ্ববর্তী ওয়ালী হযরত মুয়াজ বিন জাবালের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব চিল।
মাঝে মাঝে সীমান্তে গিয়ে তাঁরা মিলিত হতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পর মত বিনিময় করতেন।
হিজরী দশম সনে রাসূলুল্লাহ (সা) শেষ হজ আদায় করেন।
হযরত আবু মূসা ইয়েমেন থেকে এসে হজে অংশগ্রহণ করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা) জিজ্ঞেস করলেন, আবদুল্লাহ ইবন কায়েস, তুমি কি হজের উদ্দেশ্যে এসেছ?
জবাব দিলেন, হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ!
প্রশ্ন করলেন : তোমার নিয়ত কী ছিল?
বললেন, আমি বলেছিলাম, রাসূলুল্লাহর (সা) যে নিয়ত আমারও সেই নিয়ত।
আবার প্রশ্ন করলেন : কুরবানির পশু সংগে এনেছো কি?
বললেন, না।
রাসূল (সা) নির্দেশ দিলেন তাওয়াফ ও সায়ী করার পর ইহরাম ভেঙে ফেল।
রাসূল (সা) হজে কিরান আদায় করেছিলেন।
আর হজে কিরানের জন্য কুরবানির পশু সংগে নেয়া জরুরি।
হজ শেষে আবু মূসা ইয়েমেন ফিরে আসেন।
এদিকে আসওয়াদ আনাসী নামক এক ভণ্ড নবী নবুওয়াত দাবি করে, বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসে। এমনকি হযরত মুয়াজ বিন জাবাল আবু মূসার রাজধানীÑমারেব চলে আসতে বাধ্য হন।
এখানেও তারা বেশি দিন থাকতে পারলেন না।
অবশেষে তারা হাদরামাউতে আশ্রয় নেন।
যদিও ইবন মাকতুহ মুরাদী আসওয়াদ আনাসীকে হত্যা করেন, তবুও রাসূলুল্লাহর (সা) ইনতিকালে আবার বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
অতঃপর প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) মদীনা থেকে একটি বাহিনী পাঠিয়ে এই বিদ্রোহ নির্মূল করেন।
ইয়েমেনের দুই ওয়ালী নিজেদের স্থানে আপন আপন দায়িত্বে ফিরে গেলেন।
হযরত আবু মূসা হাদরামাউত থেকে স্বীয় কর্মস্থল মারেব ফিরে আসেন এবং দ্বিতীয় খলিফার খিলাফত কালের প্রথমপর্যায় পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবে স্বীয় দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।
হযরত উমরের (রা) খিলাফতকালে বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা শুরু হলে আবু মূসা (রা) জিহাদে শরিক হওয়ার প্রবল আকাক্সক্ষায় ওয়ালীর দায়িত্ব ত্যাগ করে হযরত সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাসের বাহিনীতে সৈনিক হিসাবে যোগদান করেন।
হিজরি ১৭ সনে সেনাপতি সাদের নির্দেশে তিনি নাসিবীন জয় করেন।
এ বছরই বসরার ওয়ালী মুগিরা ইবন শুবাকে (রা) অপসারণ করে তাঁর স্থলে আবু মূসাকে (রা) নিয়োগ করা হয়।
খুযিস্তান হচ্ছে বসরার সীমান্ত এলাকা।
ঐ এলাকাটি তখনও ইরাসীদের দখলে ছিল।
হিজরি ১৬ সনে খুযিস্তান দখলের উদ্দেশ্যে হযরত মুগিরা (রা) আহওয়াযে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।
আহওয়াযের সর্দার অল্প কিছু অর্থ বার্ষিক কর দানের বিনিময়ে মুগিরার সাথে সন্ধি করে।
মুগিরা ফিরে যান।
হিজরি ১৭ সনে মুগিরার স্থলে আবু মূসা দায়িত্ব গ্রহণ করলে আহওয়াযবাসী কর প্রদান বন্ধ করে দিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
বাধ্য হয়ে আবু মূসা সৈন্য পাঠিয়ে আহওয়ায দখল করেন এবং মানাযির পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখেন।
বিশিষ্ট সেনা অফিসার হযরত মুহাজির ইবন যিয়াদ (রা) এই মানাযির অভিযানের এক পর্যায়ে শাহাদাত বরণ করেন।
শত্র“ বাহিনী তাঁর দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে কিলার গম্বুজে ঝুলিয়ে রাখে।
আবু মূসা হযরত মুহাজিরের ভাই হযরত রাবীকে মানাযির দখলের দায়িত্ব দেন।
রাবী মানাযির দখলে সফল হন।
এদিকে হযরত আবু মূসা ‘সোস’ অবরোধ করেন। শহরবাসী কিলায় আশ্রয় নেয়।
অবশেষে তাদের নেতা এই শর্তে আবু মূসার সাথে সমঝোতায় পৌঁছে যে, তাঁর খান্দানের একশ ব্যক্তিকে জীবিত রাখা হবে।
নেতা এক এক করে একশ ব্যক্তিকে হাজির করলো এবং আবু মূসা তাদের মুক্তি দিলেন।
দুর্ভাগ্যক্রমে নেতা নিজের নামটি পেশ করতে ভুলে গেল এবং সন্ধির শর্তানুযায়ী তাকে হত্যা করা হলো।
সোস অবরোধের পর আবু মূসা রামহরমুয শোতারÑএর মজবুত কিলায় এসে আশ্রয় নিয়েছেন। আবু মূসা শহরটি অবরোধ করে বসে আছেন।
শহরটির পতনের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হচ্ছে।
একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে এক ব্যক্তি গোপনে শহর থেকে বেরিয়ে আবু মূসার ছাউনিতে চলে এলো। সে প্রস্তাব দেয়, যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া হয়, সে শহরের পতন ঘটিয়ে দেবে।
লোকটির শর্ত মনজুর হলো। সে আশরাস নামক এক আরবকে সংগে নিল।
আশরাস চাদর দিয়ে মাথা মুখ ঢেকে চাকরের মত লোকটির পিছে পিছে চললো। তারা নদী ও গোপন সুড়ঙ্গ পথে শহরে প্রবেশ করে এবং নালা অলি-গলি পেরিয়ে হরমুযানের খাস মহলে গিয়ে হাজির হয়।
এভাবে আশরাস শহরের সব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে গোপনে আবার আবু মূসার কাছে ফিরে আসে এবং বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করে।
অতঃপর আবু মূসার নির্দেশে আশরাস দুশো জানবাজ সিপাহি সংগে করে হঠাৎ আক্রমণ করে দ্বাররক্ষীদের হত্যা করে দরজা খুলে দেয়।
এদিকে আবু মূসা তাঁর সকল সৈন্যসহ দরজার মুখেই উপস্থিত ছিলেন।
দরজা খোলার সাথে সাথে সকল সৈনিক একযোগে নগর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
শহরে হৈ চৈ পড়ে যায়।
হরমুযান কিলার গম্বুজে উঠে ঘোষণা করে যে, যদি আত্মসমর্পণের পর দমীনায় উমারের কাছে আমাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমি আত্মসমর্পণে রাজি।
তাঁর শর্ত মনজুর করা হয় এবং তাকে হযরত আনাসের (রা) সাথে দারুল খিলাফাত মদীনায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।
শোতার বিজয়ের পর আবু মূসার নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী জুনদিসাবুর অবরোধ করে।
এ অবরোধ বেশ কিছুদিন ধরে চলছিল।
একদিন শহরবাসী হঠাৎ শহরের ফটক উন্মুক্ত করে দেয়। তারা অত্যন্ত শান্তভাবে আপন আপন কাজে ব্যস্ত। মুসলিম বাহিনী শহরে প্রবেশ করে তাদের এমন নিঃশঙ্কভাবে দেখে অবাক হয়ে যায়।
জিজ্ঞেস করলে তারা জানালো, আমাদের তো জিযিয়ার শর্তে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেল, মুসলিম বাহিনীর এক দাস সকলের অগোচরে একাই এ নিরাপত্তার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সেনাপতি আবু মূসা দাসের এ চুক্তি মানতে অস্বীকার করলেন।
শহরবাসী বললো, কে দাস, কে স্বাধীন তা আমরা জানিনে।
শেষে বিষয়টি মদীনায় খলিফার দরবারে উত্থাপিত হলো।
খলিফা জানালেন, মুসলমানদের দাসও মুসলমান। যাদেরকে সে আমান বা নিরাপত্তা দিয়েছে, সকল মুসলমানই যেন তাদের আমান দিয়েছে।
এভাবে আবু মূসার নেতৃত্বে গোটা খুযিস্তানে ইসলামের ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং সেই সাথে তাঁর অবস্থানস্থল বসরা শত্র“র হুমকি থেকে মুক্ত হয়ে যায়।
ভাবতেও অবাক লাগে! রাসূলের (সা) একজন সাহাবী কেমন করে এমন একটি সোনার জমিন প্রস্তুত করলেন।
কেনই বা হবে না!
তিনি তো ছিলেন সোনার মানুষ। প্রকৃত অর্থে খাঁটি মানুষ।
এমনটিই তো আমরা চাই। আমরা চাই আমাদের জীবনও হয়ে উঠুক তেমনই সুন্দর, সফল ও সোনায় ভরপুর।
যেমন থরে থরে সোনা ঝরেছিল হযরত আবদুল্লাহর জীবন ও কর্মপ্রবাহে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে সেইভাবে কবুল করুন।

SHARE

2 COMMENTS

Leave a Reply