Home গল্প আমাদের কালোমানিক

আমাদের কালোমানিক

সোলায়মান আহসান..

আজ একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কথা শোনাবো। আমাদের জানা আছে ১৯৭১ সালে, আজ থেকে একচল্লিশ বছর আগে, এ দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। সেই স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে হয়েছিল। যুদ্ধ করেছিল এ দেশের ছাত্র- শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক, পুলিশ-আনসার-ইপিআরসহ সকল  শ্রেণীর পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষ। যুদ্ধ করতে হয়েছিল দীর্ঘ ৯ মাস। সে যুদ্ধে অনেক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছিল। এমন একজন কিশোর যার নাম জামিল, যিনি যুদ্ধে জীবন দিয়েছিলেন। তার সেই বীরের মতো জীবন দেয়ার কথা শোনাবো।
জামালপুর মহকুমা। ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা এঁকে বেঁকে ঢুকেছে শহরের ধার দিয়ে। তারও একটি উপশাখা একেবারে শহরের পাশ দিয়ে চলে গেছে বহুদূর। উপশাখাটিতে সারা বছর পানি থাকে না। কেবলমাত্র বর্ষাকালে পানিতে টইটম্বুর। এই শাখা-উপশাখা নদের বুক চিরে জেগে উঠেছে একটি চর শান্দার পাড়া। বর্ষাকালে পানির গ্রাসে চরের অনেকটাই তলিয়ে যায়। নদী তখন বিশাল রূপ ধারণ করে। আবার বর্ষাকাল চলে গেলে অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে চরের জমিন জেগে ওঠে। পলি পড়া এ জমিন উর্বর হওয়ায় ভরে ওঠে নানা ফসলে। ধান, সরিষা, মটরশুঁটি, কলাই, তরমুজ, বাঙ্গি কতো কী!
শহরের ছেলে-মেয়েরা যায় বেড়াতে চরে তখন। তবে কালো গায়ের রঙের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে শহরের ছেলেমেয়েরা মেশে না। চরের ছেলে-মেয়েরাও শহরের এতো কাছাকাছি বাস করেও শহরের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নেই ওঠাবসা।
কিন্তু সেই চরের একটি ছেলে জামিল একটু ভিন্ন। শহরের জেলা স্কুলে পড়ে। সাধারণত মেধাবী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা শহরের সরকারি জেলা স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। জমিল মেধাবী এবং খেলাধুলায় চৌকস। স্কুলের ফুটবল দলের এগারো জনের মধ্যে সে ঠাঁই করে নিয়েছে। গলায় সুর আছে তার। কালো কুচকুচে দেহের রঙ হলে কী হবে, গুণের কোনো অভাব নেই তার।
স্কুলের ড্রিল স্যার তাই তার নাম দিয়েছেনÑ কালোমানিক।
ও বলা হয়নি স্কাউট হিসেবে এবং স্পোর্টসম্যান হিসেবেও কালোমানিক স্কুলে সবার চেয়ে এগিয়ে। সুরের কথা তো বলেছি আগেইÑ সেই সুরেলা কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াতে ছিল নাম্বার ওয়ান। স্কুলের কোনো অনুষ্ঠান হলে হেড মাওলানা স্যার কুরআন তিলাওয়াতে জামিলের নামটি রাখবেনই। মাওলানা স্যার বলেন, জামিলের গলায় মধু আছে। কালোমানিক না হলে অনুষ্ঠান জমে না।
জামিলের গুণের জন্য শান্দার পাড়া চরের ছেলে হলেও স্কুলে তার অবস্থান সম্মানজনক। ক্লাসে প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা দশমের মধ্যে নাম উঠাতে না পারলেও সকল বিষয়ে পাস নম্বর নিয়ে সে শ্রেণীকক্ষ ডিঙিয়ে অনায়াসে দশম শ্রেণীর ছাত্রদের খাতায় নাম লিখিয়েছে। তবে জামিল ক্লাস এইট থেকে নাইনে উঠার সময় বিজ্ঞান এবং অঙ্কে ভালো নম্বর না পাওয়ায় তাকে আর্টস বা মানবিক বিভাগে পড়তে হয়েছে। জামিল তার বাবার দেয়া নাম নয়। সরকারি জিলা স্কুলে থ্রিতে যখন সে ভর্তি হতে আসে তখন তার নাম ছিল পুনাই মিয়া। জামিলের বাবা যখন ছেলের নাম হেডস্যারের কাছে উচ্চারণ করলেন, হেডস্যার কষ্টে ধমক দিলেন, কী মিয়া এইটা একটা নাম হইল বজলু সাহেব! দিন তো একটা নাম এ ছেলের।
বজলু স্যার ছিলেন ওই সময় হেড স্যারের রুমে বসা। বজলু স্যার তৎক্ষণাৎ নাম দিলেন জামিলুর রহমান। মিয়া-টিয়া আজকাল চলে না। বজলু স্যারের বাড়িও চরে। ‘চৈরা স্যার’ হিসেবে তার স্কুলে ছেলেদের মাঝে গুঞ্জন আছে।
বজলু স্যারের নাম দেয়া সার্থক হয়েছিল। পুনাই শব্দের অর্থ স্থানীয় ভাষায় ছোট ছেলে। জামিল কী চিরদিন ছোট থাকবে, বড় হবে না? তাই তার নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল।
জামিল শুধু ধীরে ধীরে বড়ই হয়নি, অনেক বড় কাজ করে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হিসেবে। কিভাবে জামিল একদিন শহীদ জামিল হলো তা বলছি।
১৯৭১ সালের ঘোর বর্ষাকালের একটি রাত।
আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে এবং বন্ধু খালেদ। মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করবে। সেভাবে একটি ছোট্ট নৌকা বেয়ে গভীর রাতে ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা পার হয়ে জামালপুর শহরে ওঠে সে। নিঝুম শহর। দু-চারটে নেড়ি কুকুর ডাকছে। ঘেউ… ঘেউ… দিন কাল ভাল নয় বলে গোটা শহর সন্ধ্যা রাতেই সুনসান হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে মিলিটারির গাড়ি রাতের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে। পাহারা দেয় বুঝি।
জামিল জিলা স্কুলে জিমনেশিয়ামের পেছন দিয়ে ওঠে। নৌকাটা একটা মান্দার গাছের গোড়ার সঙ্গে বাঁধে শক্ত করে।
সামনে হাঁটতে গিয়ে বুকের ভেতর খচ খচ করে নৌকাটার জন্য। নৌকাটা তার নিজের। ঐটাই তার শহরে আসা যাওয়ার বাহন। কিন্তু আজ? সে নৌকাটা ফেলে যাচ্ছে নিরুদ্দেশের পথে। আরেকবার থামে। নৌকাটার দিকে তাকিয়ে তার চোখে দুই ফোঁটা পানি আসে। কিন্তু তাকে থামলে চলবে না। জীবন বিলিয়ে দেবার শপথ নিয়ে বের হওয়া পথিকের জন্য নৌকার মায়া?
জামিলের পায়ে অন্য এক চঞ্চলতা আজ ভর করেছে। যেতে হবে সেই শেখের ভিটা। খালেদের বাড়ি। খালেদও তার সঙ্গী হবে। উল্টো করে বললে সে খালেদের সঙ্গী হবে। গভীর রাতে রাস্তার দুই ধারে একটা দোকানও খোলা নেই। বকুলতলায় এসে জামিল কালী মন্দিরের দিকে একবার তাকায়। মন্দিরের ভেতর অন্ধকার। পাক আর্মির ভয়ে হিন্দুরা সব গা ঢাকা দিয়েছে। বেশির ভাগ ও-পাড় ভেগেছে। মন্দিরের পাশে একটা পানের দোকান সারা রাতই খোলা থাকে। এখন বন্ধ দেখলো। এ পানের দোকান শুধু পান-সিগারেটই বেচে না, অন্যান্য নেশার জিনিসও নাকি বিক্রি করে। তাই খোলা থাকে সারা রাতই। জামিল ভাবে জোর পায়ে হাঁটতে হবে তাকে। প্রায় তিন মাইলের পথ। খালেদের বাড়ি থেকে বের হয়ে আবারও হাঁটা।
কাঁধে ছোট্ট একটা কাপড়ের ব্যাগে একটা লুঙ্গি, দুটো গেঞ্জি আর একটা শার্ট নিয়েছে। শুকনো খাবার হিসেবে সের দেড়েক আউশের চিঁড়া আর আখের গুড় খানিকটা। খালেদ বলেছে, বেশি জিনিসপত্তর নেয়া যাবে না। ওপাড়ে গেলে সব পাওয়া যাবে। রাস্তায় কোনো টহলদার কিংবা আর্মির কবলে পড়লে বলতে হবে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছি। অল্পস্বল্প জিনিস দেখলে সন্দেহ করবে না।
জামিল জামালপুর রেল স্টেশনের পাশ দিয়ে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। কিছু দূর যেতে পড়ে একটা রেল ক্রসিং। এতো রাতে গাড়ি আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবু এদিক-ওদিকে দৃষ্টি বুলিয়ে পার হয় সে।
মেঠো পথ ধরে এগিয়ে যায় জামিল। চলাচলের জন্য কাঁচারাস্তা রেখে সময় বাঁচাতে মেঠোপথ ধরে। মিনিট বিশেক হাঁটতেই খালেদের বাড়ির পুকুরপাড়ে এসে যায়। পুকুরপাড়ে বাঁশঝাড়। ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাদুড়ের পাখা ঝাপটানো শব্দ। পুকুরপাড় দিয়ে ঘুরে একটা খড়ের ঘরের কাছে এসে দাঁড়ায়। এটাই খালেদের ঘর। মাটির ঘর।
– খালেদ… ওই খালেদ…
– কেডা? …
দুই ডাক দিতেই ভেতর থেকে সাড়া পাওয়া গেল।
একটু পর কুপি হাতে ঘরের ভেতর হতে বের হয়ে এলো খালেদ। উদোম গায়ে জামিলের সামনে এসে দাঁড়ায়। খালেদের স্বাস্থ্য ভালো। ব্যায়াম করা শরীর। তাই পেশিগুলো বলে দিচ্ছে শক্তি রাখে সে। বয়সও খানিকটা ওর বেশি।
কী রে, আইসস তাহইলে! আয় ঘরে আয়।
খালেদের পেছন পেছন ঘরে ঢোকে জামিল। মাটির ঘর হলে কী হবে? লেপাপোছা ঝকঝকে। দেয়াল বাঁশের বেড়া। কাগজ সেঁটে বাইরের হিম বাতাস প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।
– কিরে সব কিছু ঠিক আছে তো?
– আছে… আছে… আয় ভাত খাই। আবার কখন পেটে ভাত পড়ব আল্লায় জানে।
দু’জন পেট পুরে ভাত খায়। মাশকালাইয়ের ডাল আর হাঁসের গোশত দিয়ে জামিল পেট পুরে খেল।
এরপর?
গভীর রাতে পাড়ি জমালো দু’জন বন্ধু। নিরুদ্দেশের পথে। না, ঠিক নিরুদ্দেশের পথে নয় আগেই একটা জিপ গাড়ি ব্যবস্থা করা ছিল। সেই গাড়িতে পাড়ি দিলো ওরা ছ’জন দীর্ঘ পথ। বর্ডার পার হয়ে ওপাড়ে। মেঘালয় প্রদেশে। মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে। ট্রেনিং নিতে।

দুই.
জামিল কিশোর বলে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে তাকে ছোটখাটো কাজই দেয়া হতো। বিশেষ করে খাবার পরিবেশন। অস্ত্রশস্ত্র বহন। খবরাখবর লেনদেন। ইত্যাদি।
জামিলের ইচ্ছে সে সম্মুখ সমরে অংশ নেবে। খালেদের বয়স তার চেয়ে বেশি হওয়ায় তার শারীরিক যোগ্যতাও থাকায় খালেদ ইতোমধ্যে রাইফেল ট্রেনিং নিয়ে ছোটখাটো অপারেশনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু জামিল এখনো ট্রেনিং নিতে পারেনি। অনেকবার লাইনে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর ট্রেনার বলেছে, তোম বাচ্ছেলোগ হ্যায়, বাদ মে ফুরসত মেলেঙ্গে।
জামিল নাছোড়বান্দা। একবার, দুইবার, তিনবার এভাবে ন’বারে জামিলকে ট্রেনিংয়ের জন্য সিলেক্ট করা হলো। একুশ দিনের ট্রেনিংয়ে জামিল সবকিছুতে নিজেকে চৌকস এবং ফিট প্রমাণ করলো।
এখন তার একমাত্র লক্ষ্য সম্মুখ সমরে যাওয়া। কমান্ডার আজিজ ভাইকে অনুরোধ করল, তাকে অপারেশনে পাঠাতে। কিন্তু কমান্ডার আজিজ কিশোর জামিলকে পাঠাতে আগ্রহ দেখাচ্ছিল না। কারণ ইতোমধ্যে পাক আর্মির সঙ্গে বেশ কিছু সম্মুখ লড়াই হয়েছে। বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন।
জামিল তবু শুনতে নারাজ। সে চায় স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হতে। সুযোগ এসে গেল জামিলের। ইতোমধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের বেশ কিছু এলাকা মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। জামালপুর মহকুমার শেরপুর থানার বেশ কিছু এলাকায় মুক্তিবাহিনীর বিচরণ নিরাপদ মনে করা হয়। যদিও পাক আর্মি ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অগ্রসর হতে সচেষ্ট।
ডিসেম্বর মাস। পৌষের শীত জেঁকে বসেছে পুরো শেরপুর। পাহাড় থেকে হিম যেনো সমতল ভূমিতে এসে হামলে পড়ছে। বর্ডার এলাকায় প্রায়ই পাক আর্মির সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর লড়াই হচ্ছে। পাক আর্মিদের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে প্রচুর। মুক্তিবাহিনীর প্রতিটি সদস্য উজ্জীবিত। চারিদিক থেকে মুক্তিবাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে। জামিলও খুশিতে আত্মহারা। পাকিস্তানের জালিম শাসকদের হটিয়ে তারা স্বাধীনতা পাবে। পরম কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। একটা নিজস্ব পতাকা। এমনই এক সন্ধ্যায় জামিলের ডাক পড়ল। কমান্ডার আজিজ ডেকেছেন। জামিল যথাসময়ে হাজির হয়।
– জামিল! তোমার ইচ্ছা পূরণ হবে।
– সত্যি আজিজ ভাই!
জামিল খুশিতে কমান্ডারের হাত ধরতে যায়। পারে না কমান্ডারের হাতে এসএমজি থাকায়।
-আজ রাতে পাক আর্মির ক্যাম্পে অপারেশন চালানো হবে। তুমিও থাকবে। খালেদও আছে। আর মিজান তোমাদের অপারেশন লিডার। রাত গভীর। প্রচণ্ড শীত। দাঁত ঠক ঠক করে বাড়ি খাচ্ছে। শেরপুর শহর থেকে আধা মাইল দূরে পাক আর্মির অস্থায়ী ক্যাম্প। লক্ষ্য ঐ ক্যাম্প।
ক্যাম্পের পেছনে ছোট্ট একটা খাল। উত্তর-দক্ষিণে ধানক্ষেতের বিস্তীর্ণ মাঠ। কিছুদিন আগে ধান কাটা শেষ। নাড়াগুলো জেগে  মাঠজুড়ে।
তিন দিক থেকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে জনা পঁচিশেক মুক্তিযোদ্ধা এগোতে থাকেন। খালেদ এবং জামিল ছিল অগ্রবর্তী গ্রুপে। অ্যামবুশ করে আছে ওরা।
এমন সময় দেখা গেল সার্চ লাইট জ্বলে উঠেছে। তীব্র আলো। সমস্ত অন্ধকার দূর করে দিনের মত পরিষ্কার করে দিচ্ছে। সেই সঙ্গে শুরু হলো ফায়ার।
টা- টা- টা- টা- গুড়–ম- গুড়–ম- গুড়ুম- টা- টা- টা- টা- গুড়–ম- গুড়ুম- গুড়ুম-
জামিলরাও পাল্টা ফায়ার ওপেন করে। তিন দিক থেকে চলতে থাকে ফায়ার। পাক ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে। টা- টা- টা- গুড়ুম- গুড়ুম- গুড়ুম-
প্রায় দুই ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি ফায়ার বিনিময়ের পর বোঝা গেল পাক ক্যাম্প থেকে ফায়ার অফ হয়ে গেল। খালেদরা তবু ফায়ার করতে থাকে আর ক্রলিং করে এগোতে থাকে। এক সময় খালেদের মনে পড়ে জামিলের কথা। কিন্তু এখন জামিলকে খোঁজার সময় নয়।
ফায়ার চলতে থাকে। অপারেশন কমান্ডার মিজান ভাই এক সময় ফায়ার বন্ধের নির্দেশ দিলেন।
পাক ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর দেখা গেল জামিলের লাশ ক্যাম্পের অনতিদূরে টিউবওয়েলের ড্রেনের পাশে। জামিল শহীদ হয়েছেন।
মুক্তিবাহিনীর গোটা গ্রুপ এগিয়ে আসার অনেক আগেই জামিল ক্যাম্প একাই দখল করে ফেলেছিলেন। এমন সময় ঘাতকের কোনো একটি হাতিয়ারের বুলেট জামিলের জীবন কেড়ে নিয়েছে।
জামিল হলো মুক্তিবাহিনীর মধ্যে প্রথম কিশোর শহীদ। তার ইচ্ছাই আল্লাহতা’য়ালা পূরণ করেছেন। এসো যোদ্ধারা! আমরা তাকে স্যালুট করি!
কমান্ডার আজিজ বললেন।  চোখ মুছতে মুছতে খালেদ জামিলের পাশে দাঁড়িয়ে অস্ফুট উচ্চারণ করে- আমাদের কালোমানিক।

SHARE

Leave a Reply