Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদীসের আলো

হাদীসের আলো

মানবজাতির সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদ (সা)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“উম্মুল মু’মিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি প্রায় দশ বছর প্রিয় নবী (সা)-এর সাথে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রিয় নবী (সা) কোন দিন পেটভরে আহার করেননি। তিনি নিজের কাজ নিজ হাতে করতেন। তিনি কা’বাঘর পুনর্নির্মাণে, মসজিদে নববী ও মসজিদে কু’বা নির্মাণ এবং খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননে সাহাবীদের সাথে মিলে সমানভাবে কাজ করেছেন। তিনি গৃহস্থালির কাজে উম্মুল মু’মিনিনদের সাহায্য করতেন। কাপড়ে তালি লাগাতেন, ঝাড়– দিতেন, দুধ দোহন করতেন, বাজার থেকে সওদা বহন করে আনতেন, বালতি মেরামত করতেন, নিজে উট বাঁধতেন, খাদিমের সাথে আটার খামি তৈরি করতেন।” (সহীহ বুখারী)

সুপ্রিয় বন্ধুরা, দেশ, জাতি, গোত্র, সম্প্রদায়, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে হযরত মুহাম্মদ (সা)। স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দিয়েছেন যে, রাসূলে করীম (সা) এর মধ্যে সমগ্র মানবজাতির জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। প্রিয় নবী (সা) ছিলেন সুমহান চরিত্রের অধিকারী, অসম্ভব রকমের কর্মী পুরুষ। চূড়ান্ত শক্তিশালী, সর্বজ্ঞানের মালিক আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁকে শিক্ষা দান করেছেন। আল্লাহর নির্দেশেই তিনি সিরাতুম মুস্তাকিম বা সরল পথ, আল্লাহ অভিমুখী পথপ্রদর্শন করেছেন মানবজাতিকে। সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্ব দেশের ও সর্বজাতির একমাত্র গ্রহণযোগ্য আদর্শ তিনি।

আল্লাহ তাআলার হুকুম-আহকাম পালনে তার বৈশিষ্ট্য ছিল- তিনি তা প্রথমে নিজে আমল করতেন। এরপর তা অন্যকে আমল করার জন্য নির্দেশ দিতেন। তার গোটা জীবন ও চরিত্র খোঁজ করলে এমন কোন ঘটনা পাওয়া যায় না যে, তিনি নিজে আমল না করে অন্যকে তা আমল করতে বলেছেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলার বাণী মূল চালিকাশক্তি ছিল, যেমন তিনি ইরশাদ করেন, “ওহে যারা ঈমান এনেছ, তোমরা যা করো না, তা কেন বল?”
হযরত মুহাম্মদ (সা) একজন আদর্শ মহামানব ছিলেন। পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ববান ছিলেন, যার সমকক্ষ আর কেউ ছিল না। এমনকি থাকবেও না। তিনি সন্তান, ইয়াতিম, স্বামী, পিতা, নানা, ইমাম, নেতা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, আমানতদারি, দানবীর, শিক্ষক, সৈনিক, সেনানায়ক, প্রশাসক, বিচারক, রাষ্ট্রনায়ক, ইবাদতকারী, গভীর সাধনা ও আধ্যাত্মিক চিন্তায় বিনিষ্ঠচিত্ত মানুষ, লড়াকু যোদ্ধা, ক্ষমার আধার, আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনরত ব্যক্তি- এক কথায় এমন কোন গুণ নেই যা তার মাঝে পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ তিনি সকল গুণের অধিকারী ছিলেন। মহানবী (সা) এর আদর্শই মানবজাতির মুক্তির একমাত্র উপায়।

সুপ্রিয় বন্ধুরা, এসো জীবনের সকল ক্ষেত্রে মুহাম্মদ (সা)-এর আদর্শকে অনুসরণ করি।

গ্রন্থনায় : আবদুল কুদ্দুস মাখন

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply to আলফাজ Cancel reply