Home সাহসী মানুষের গল্প গুহাতো নয় আলোর জ্যোতি

গুহাতো নয় আলোর জ্যোতি

কায়েস মাহমুদ…
মুহাম্মাদ (সা) মক্কায় নেই! খবরটি বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়লো। ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে।
মুহাম্মাদ (সা) মক্কায় নেই?-
তাহলে? তাহলে কোথায় গেলেন তিনি?
কুরাইশদের মধ্যে সাড়া পড়ে গেল। খুঁজতে শুরু করলো চারদিকে। খুঁজতে থাকে, তল্লাশি চালাতে থাকে বনি হাশিমের প্রতিটি বাড়ি। ছুটে যায় মহানবীর (সা) ঘনিষ্ঠজনদের বাড়িতেও। যে করেই হোক খুঁজে বের করতে হবে তাঁকে। কুরাইশদের এটা দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
দুষ্টরা খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে গেল আবু বকরের (রা) বাড়িতে। তাদের মুখোমুখি হলেন আবু বকরের (রা) মেয়ে আসমা। জিজ্ঞেস করলেন নির্ভয়ে, ‘কী ব্যাপার!’
কুরাইশ নেতা পাপিষ্ঠ আবু জেহেল। চোখে মুখে তার হিংস্রতার ছাপ। রুক্ষস্বরে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমার আব্বা কোথায়?’
আবু জেহেলের সামনে আসমা সংশয়হীন, স্থির। বললেন, ‘জানি না! তিনি এখন কোথায় তা আমি কেমন করে জানবো?’
আসমার জবাবে ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলো নরাধম আবু জেহেল। সাথে সাথে সে আসমার গালে বসিয়ে দিল একটি সজোরে থাপ্পড়। থাপ্পড়ের আঘাতে আসমার কানের দুলটি ছিটকে পড়লো দূরে। তিনিও লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে।
বেদনায় ভারী হয়ে উঠলো চারপাশ। কেঁদে উঠলো মরুভূমির প্রতিটি বালুকণা। আসমার গালে থাপ্পড়ের চিহ্ন! একি কোনো মানুষের কাজ! থমকে দাঁড়ালো মক্কার বাতাস। আবু বকরের (রা) বাড়ি থেকে ফিরে এল আবু জেহেল, তার সঙ্গী-সাথী নিয়ে। ভাবলো, কোথাও যখন মুহাম্মাদকে (সা) পাওয়া যাচ্ছে না, তখন নিশ্চয়ই তিনি চলে গেছেন। মক্কা থেকে সঙ্গোপনে।
মক্কা থেকে বেরিয়ে রাসূল (সা) আশ্রয় নিয়েছেন সাওর পর্বতের গুহায়। সাথে আছেন প্রিয় সাথী আবু বকর (রা)।
ঠিক এমন সময় আবু জেহেলের নিয়োগকৃত পদচিহ্ন বিশারদরা কুরাইশদের সাথে পৌঁছে গেল সেখানে। তারা কুরাইশদেরকে বললো, ‘আল্লাহর কসম, মুহাম্মদ এখানে এই সাওর পর্বতের গুহাতেই আছে।’
‘সত্যিই?’ কুরাইশদের চোখে মুখে দ্বিধা আর সংশয়। হৃদয়ে প্রতিহিংসার তুফান।
‘কেন নয়? নিশ্চয়ই আছে। এখন কেবল তাদেরকে খুঁজে বের করার পালা।’
গুহার ভেতর জ্যোতির্ময় মহান পুরুষ রাসূল মুহাম্মাদ (সা)। সাথে তাঁর প্রিয় বন্ধু আবু বকর। গুহার ভেতর থেকেই তারা শুনতে পাচ্ছেন শত্রুদের সকল কথা। শুনতে পাচ্ছেন তাদের পদশব্দ। এমনকি দেখতে পাচ্ছেন তাদের পায়ের পাতা।
শঙ্কিত আবু বকর (রা)। এই বুঝি শত্রুরা ধরে ফেললো তাঁদের। তারপর?Ñ
ভাবতেই শিউরে উঠলেন তিনি। চোখ দুটো টলমল দীঘি। শ্রাবণ যেন বা নেমে এসেছে মুষল ধারায় আবু বকরের (রা) চোখে। বুকের ভেতর এ কিসের শব্দ?
তার দিকে তাকালেন রাসূল। কী প্রশান্ত, কী শীতল এক দৃষ্টি। চড়ুইয়ের পালকের চেয়েও যেন হালকা রাসূলের (সা) হৃদয়। সেখানে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। দুর্ভাবনা নেই। নেই কোনো পরিণামের ভয়। প্রিয় সাথী আবু বকরকে (রা) জিজ্ঞেস করলেন, ‘চোখে পানি কেন?’
আবু বকর কিছুটা কাঁপাস্বরে বললেন, ‘রাসূল! হে প্রিয়তম রাসূল আমার! আমার পরিণামের কথা ভেবে আমি কাঁদছিনে। কাঁদছি কেবল আপনার কথা চিন্তা করে। আল্লাহ না করুন ওরা যদি আপনার প্রতি কোনো প্রকার দুর্বব্যহার করে, আর তা যদি আমাকে দেখতে হয়। তাহলে এর চেয়ে বেদনার আর কিছুই থাকবে না।’
রাসূলের (সা) কণ্ঠ স্থির। স্থির এবং গভীর বিশ্বাসে সুদৃঢ়। বললেন, ‘দুশ্চিন্তা করো না আবু বকর! আল্লাহ পাক আমাদের সাথে আছেন।’
তাঁদের মাথার ওপর শত্রুরা। আবু বকর তখনো চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না । রাসূলকে (সা) বললেন, ১হে রাসূল! তারা যদি কেউ তাদের পায়ের পাতার দিকে তাকায় তাহলে নিশ্চয়ই আমাদেরকে দেখে ফেলবে!’
আবার দৃঢ়কণ্ঠে জবাব দিলেন রাসূল, ১আবু বকর! তুমি কি মনে কর আমরা মাত্র দু’জন? ভয় পেও না। আল্লাহও আমাদের সাথে আছেন’
সাওর পর্বতের গুহার ভেতর রাসূলেরা (সা)। আর তাঁদের মাথার ওপর কুরাইশ দস্যুরা। সাথে আছে পদচিহ্ন বিশারদ। কুরাইশদের একজন বললো, ‘এস। তোমরা সবাই গুহার দিকে এগিয়ে এস। গুহার ভেতরটাও আমরা একটু ভালো করে দেখে নিই। হতে পারে, এখানেই লুকিয়ে আছেন মুহাম্মদ (সা)।’
সত্যিই আল্লাহর কী শান! লোকটির কথা শুনে উমাইয়্যা ইবনে খালিদ তাকে তিরস্কার করলো। উপহাসের সাথে বললো, গুহার ভেতর যাবে? দেখছো না গুহার মুখে মাকড়সা ও তার বাসা! এগুলো খুবই পুরনো। গুহার ভেতর যদি কোনো লোক প্রবেশ করতো, তাহলে অবশ্যই এই মাকড়সা ও তার জাল এখানে থাকতো না। আহাম্মক আর কাকে বলে। চলো, ফিরে চলো এখান থেকে। আবু জেহেল গম্ভীর। এক সময় মুখ খুললো সে। বললো, ‘লাত ও উজ্জার শপথ! আমার মনে হচ্ছে তারা আমাদের কাছাকাছি কোথাও আছে। আমাদের কথা তারা শুনছে। তারা দেখছে আমাদেরকে। দেখছে আমাদের সকল কার্যকলাপ। কিন্তু তাঁর কী এক ইন্দ্রজালে আমাদের দৃষ্টিশক্তি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে আমরা তাদেরকে আদৌ দেখতে পাচ্ছিনে। কী দুর্ভাগ্য আমাদের।’
আবু জেহেলদের ব্যর্থ হলো সাওর পর্বতের অভিযান। ব্যর্থ হলো, কিন্তু তাই বলে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকলো না। বরং আরও দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়লো রাসূলকে (সা) খোঁজার জন্য। মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে বসবাসরত প্রতিটি গোত্রে ঘোষণা দিল, ‘কোনো ব্যক্তি যদি মুহাম্মাদকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরে দিতে পারে, তবে তাকে পুরস্কার হিসাবে দেয়া হবে একশটি উন্নত জাতের উট।’
‘কুদাইদ’ নামক স্থানে বসে আড্ডায় মজেছিল এক যুবক। সুরাকা ইবন মালিক। আড্ডায় মশগুল থাকলেও খবরটি প্রবেশ করলো তার কানে। কম কথা নয়। একশটি উট! লালসার আগুনে জ্বলে উঠলো সুরাকার জিহ্বা।
আড্ডার একজন বললো, ‘আল্লাহর শপথ! আমার পাশ দিয়ে এই মাত্র তিনজন লোক চলে গেল। আমার মনে হয় তাদের একজন মুহাম্মাদ, একজন আবু বকর এবং একজন তাদের পদপ্রদর্শক।’
পুরস্কারটি নিজের করে পাবার জন্য সুরাকা কৌশলের আশ্রয় নিল। বললো, ‘কি যা তা বলছো। ওরা তাদের কেউ নয়। বরং ওরা হচ্ছে অমুক গোত্রের লোক। তাদের হারানো উট তালাশ করে বেড়াচ্ছে।’
লোকটি সরল মনে বললো, ‘তা বটে। হলেও হতে পারে।’
এবার সুরাকার পালা।
সুযোগ বুঝে সে চুপে চুপে উঠে পড়লো আড্ডা থেকে। তারপর সোজা বাড়ি। বাড়িতে পৌঁছে দাসীকে বললো, ‘কেউ যেন দেখতে না পায়, চুপে চুপে এমনভাবে তুমি আমার ঘোড়াটি বেঁধে রেখে এসো অমুক উপত্যকায়। আর দাসকে বললো, এই অস্ত্রশস্ত্রগুলো নিয়ে বাড়ির পেছন দিয়ে এমনভাবে বেরিয়ে ঘোড়ার আশেপাশে রেখে দেবে, যেন কেউ বুঝতেই না পারে। বুঝতে পেরেছ? যাও, দ্রুত কাজ সার।’
চতুর সুরাকা। সুরাকা ছিল তার গোত্রের দক্ষ ঘোড়সওয়ার, দীর্ঘদেহী, শক্তিশালী, পদচিহ্ন বিশারদ ও বিপদে দারুণ ধৈর্যশীল।
সুরাকার ঘোড়াটিও ছিল উন্নত জাতের তেজি। বর্ম পরে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সুরাকা দাবড়িয়ে দিল তার ঘোড়া।
বাতাসের গতিতে ছুটছে তার ঘোড়াটি। উদ্দেশ্য মুহাম্মাদকে (সা) ধরা। আর তার বিনিময়ে একশটি উট পুরস্কার হিসেবে পাওয়া।
কিন্তু একি হলো! কিছুদূর গিয়েই হঠাৎ হোঁচট খেল ঘোড়াটি। আর ঘোড়ার পিঠ থেকে দূরে ছিটকে পড়লো সুরাকা।
আবার উঠে বসলো ঘোড়ার পিঠে। কিছুদূর যেতে না যেতেই আবারও হোঁচট খেল ঘোড়াটি। ব্যাপার কী! এমন হচ্ছে কেন? নানা ধরনের জিজ্ঞাসা আর অশুভ চিন্তায় মুষড়ে পড়লো সুরাকা।
ভাবলো, ‘মুহাম্মাদকে (সা) ধরা আমার কাজ নয়। জীবন নিয়ে ফিরে যাওয়াই শ্রেয়।’
কিন্তু একশো উট! এতগুলো উটের লোভে সে আবারও চেপে বসলো ঘোড়ার পিঠে।
এবার সামান্য দূরেই দেখতে পেল মুহাম্মাদ (সা) ও তাঁর দুই সাথীকে। কাছে। খুব কাছে। আর দেরি নয়। সাথে সাথে সে তার ধনুকের দিকে হাত বাড়ালো।
হায়! একি হলো! হাতটিও যে আর কাজ করছে না। কেমন অসাড়, কেমন নিস্তেজ। তার হাত আর চললো না ওদিকে কী ভীষণ ভয়ঙ্কর দৃশ্য! দেখলো তার ঘোড়ার পা যেন শুকনো মাটিতে দেবে যাচ্ছে। আর সামনে থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে ফেললো তাকে ও তার ঘোড়াটিকে। সুরাকা চেষ্টা করলো ঘোড়াটিকে হাঁকিয়ে নিতে। কিন্তু ব্যর্থ হলো। ঘোড়ার পা যেন অনড় পাথর।
কেঁপে উঠলো সুরাকার বুক। করুণ কণ্ঠে আরজ জানালো রাসূলকে (সা), ‘আপনার প্রভুর দরবারে দোয়া করুন। আমার ঘোড়ার পা যেন মুক্ত হতে পারে। আমি আপনাদেরকে কোনো ক্ষতি করবো না।’
দোয়া করলেন দয়ার নবীজী (সা)। ঘোড়াটি মুক্ত হলো।
আবারও লালসার আগুনে জ্বলে উঠলো সুরাকা। চেষ্টা করলো ঘোড়া দাবড়িয়ে রাসূলদেরকে ধরার জন্য। কিন্তু সেই একইভাবে আবারো ঘোড়াটির পা দেবে গেল মাটিতে।
পারলো না সুরাকা। পারলো না শত চেষ্টা করেও। পারলো না কোনোভাবেই রাসূলকে (সা) ধরতে। বরং নিজের জীবনই বিপন্ন দেখে এবার কাতরকণ্ঠে কসম খেয়ে বললো, আর নয়। এবারকার মতো ক্ষমা করে দিন। সত্যিই আমি আপনাদেরকে কোনো ক্ষতি করবো না। দয়া করে আমার ও এই ঘোড়াটির জন্য একটু দোয়া করুন। আমরা মুক্ত হলে চলে যাব আপন গৃহে। আমার অস্ত্রশস্ত্র, খাদ্য, পানীয় সবÑ সবই দিয়ে দেবো আপনাদের। আর মুক্তি পেলে আমি আমার পেছনের ধাবমান সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো কিংবা হটিয়ে দেবো অন্য দিকে।
রাসূল (সা)সহ তাঁরা বললেন, তোমার কোনো কিছুরই আমাদের প্রয়োজন নেই। তবে কথা দাও, পেছনে ধাবমান লোকদেরকে তুমি আমাদের থেকে দূরে হটিয়ে নিয়ে যাবে।
এবার রাসূল (সা) তার জন্য দোয়া করলেন।
মুক্ত হলো সুরাকা আর তার ঘোড়া। সে ফিরে যাবার সময় রাসূল (সা) ও তার সঙ্গীদ্বয়কে বললো, ‘আপনারা একটু থামুন। আমার কিছু কথা আছে। আল্লাহর কসম। আমি কোনা ক্ষতি করবো না।’
‘তুমি আমাদের কাছে কী চাও?’
সুরাকা বললো, ‘আল্লাহর কসম হে মুহাম্মাদ!
আমি নিশ্চিত জানি শিগগিরই আপনার দীন বিজয়ী হবে। আমার সাথে আপনি ওয়াদা করুন আমি যখন আপনার সাম্রাজ্যে যাব, আপনি তখন আমাকে সম্মান দেবেন।’
‘হ্যাঁ দেবো।’
‘তাহলে এ কথাটি একটু লিখে দিন।’
রাসূল (সা) এক খণ্ড শুকনো হাড়ের ওপর আবু বকরকে (রা) কথাগুলো লিখতে বললেন। লেখা শেষ হলে সেটা নিয়ে সুরাকা চলে যাচ্ছে। রাসূল (সা) তাকে ডেকে বললেন, ‘সুরাকা, তুমি যখন কিসরার রাজকীয় পোশাক পরবে তখন কেমন হবে?’
বিস্ময়ের সাথে সুরাকা ফিরে দাঁড়ালো। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, কিসরা ইবন যুরমুখ?’ রাসূল (সা) বললেন, ‘হ্যাঁ, কিসরা ইবন যুরমুখ।’
অবিশ্বাসের মত শুনালেও কেঁপে উঠলো সুরাকা। এক বুক খুশি আর বিস্ময় নিয়ে পেছনে ফিরে গেল সে। পথে যারা রাসূলকে (সা) খোঁজার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিল, তাদেরকে সে সত্যিই ফিরিয়ে দিল। আর রাসূলের (সা) কথাটি চেপে রাখলো ততদিন, যতদিন না তার ধারণা ছিল, রাসূল (সা) মদিনায় পৌঁছে গেছেন।
এক সময় আবু জেহেলের কানে গেল কথাটি। সে সুরাকাকে ভীষণভাবে তিরস্কার করলো। আবু জেহেলের তিরস্কারে দুলে উঠলো সুরাকার কবিহৃদয়। কবি হিসেবেও তার সুনাম ছিল। আবু জেহেলের তিরস্কারের জবাবে আবৃত্তি করলো :
‘আল্লাহর শপথ, তুমি যদি দেখতে আবু হিকাম, / আমার ঘোড়ার ব্যাপারটি, যখন তার পা ডুবে / যাচ্ছিল, তুমি জানতে- / এবং তোমার কোনো সংশয় থাকতো না, / মুহাম্মাদ প্রকৃত রাসূল-
সুতরাং কে তাঁকে গতিরোধ করে?’
সময় গড়িয়ে যায়। এক সময় মক্কা বিজয় করলেন রাসূল (সা)।
মক্কা বিজয়ের পর, সুরাকা ছুটে এলেন রাসূলের (সা) কাছে। ঊর্ধ্বশ্বাসে তিনি তাঁর দেয়া প্রতিশ্রুতির স্মারক হিসেবে সেই হাড়টি বের করে দেখালেন রাসূলকে।
রাসূল (সা) সুরাকাকে বললেন, ‘এস আমার কাছে এস। আজ প্রতিশ্রুতি পালন ও সদ্ব্যবহারের দিন।’
সুতরাং খুশি আর প্রশান্ত হয়ে রাসূলের (সা) কাছে গেলেন এবং তার পরই ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা ছিলেন।
কী আশ্চর্য! এই সুরাকা সত্য সত্যই কিসরার রাজকীয় পোশাক পরার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। যেন রাজপোশাক নয়- সে এক জরিদার জমিন। সেটা ছিল খলিফা উমরের (রা) সময়ে।
প্রকৃত অর্থে, সত্যের পথে চলেন যিনি, কার সাধ্য আছে গতিরোধ করে তার? সত্যের বিজয় ও পুরস্কার সে এক বিশাল ব্যাপার।
কী আর আছে সত্যের সমান? মিথ্যার সীমানা আছে, কিন্তু সত্যের সীমানা অসীম।

SHARE

2 COMMENTS

  1. হে আল্লাহ কায়েস মাহমুদ… কে আরো লিখার তৌফিক দিন আমিন

Leave a Reply to kaisar ahmed Cancel reply