Home গল্প সেই তারাটার গল্প

সেই তারাটার গল্প

আফরোজা পারভীন..

তনু আকাশের দিকে তাকিয়ে বারান্দার সিঁড়িতে বসেছিল। মা তপা বার কয়েক ডেকে গেলেন, ওঠ তনু, ঠাণ্ডা পড়ে গেছে। কুয়াশা পড়ছে। অসুখ বাঁধিয়ে বসলে আমি সামলাতে পারব না। ওঠ মা!
তনু ওঠেনি। ও একমনে তারা দেখছিল। জ্বলজ্বল করে জ্বলছে যে তারাটা ওটার নাম নাকি সন্ধ্যাতারা। বন্ধু পুতুল বলেছিল। ভাইয়া বলেছে, সন্ধ্যাতারা আর শুকতারা একই। ওটা নাকি শুক্রগ্রহ। ভাইয়ার ভূগোল টিচার বলেছেন। ভূগোল টিচার ভাইয়াকে তারা চিনিয়েছেন। কোন্টা সেঁজুতি, কোন্টা স্বাতী, কোন্টা লুব্ধক, কোন্টা চিত্রা। কৃত্তিকা বিশাখা, অশি^নী, ভাদ্রপদ, উত্তর ফাল্গুনী আর পূর্ব ফাল্গুনীও চিনিয়েছেন ভাইয়াকে। ভাইয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে গড়গড় করে বলে যায়। ভুল বলে না ঠিক বলে কে জানে! ভাইয়ার টিচার এক অদ্ভুত মানুষ। উনি নাকি অ্যাস্ট্রোলোজার। সারাক্ষণ গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন। কিন্তু হাত দেখেন না। বলেন, হাত দেখে কিছু বলা যায় না। ওটা অবৈজ্ঞানিক। ভাইয়া এসব গল্প করে। ভাইয়া স্যারের খুব ভক্ত।
আকাশে আজ অনেক তারা। কখন আকাশে তারা থাকে, কখন থাকে না। কখন চাঁদ ওঠে, কখন চাঁদ মারা যায় সে হিসেব তনু জানে না, ভাইয়া জানে। তবে তনু প্রতি সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে আকাশে তাকিয়ে তারা খোঁজে। তারা খুঁজতে খুুঁজতে অনেক রাত হয়ে যায়। খাওয়ার কথা ভুলে যায় সে। পড়ার কথা ভুলে যায়, ঘুমের কথা ভুলে যায়। এই এক কারণে বকা খায় প্রতিদিন। মা বকেন আবার জোর করে উঠিয়ে নিয়ে খাইয়ে দেন, মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন।
তনু তখন কেবল টলোমলো পায়ে হাঁটতে শিখেছে। খালা খালু বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। ওদের ছোট একটা ছেলে তনুরই বয়সী। টলোমলো পায়ে হাঁটছিল ওরা দু’জন। হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যাচ্ছিল আবার কষ্টে উঠছিল। মার তখন ভীষণ ব্যস্ততা। বাড়িতে মেহমান। কতদিন পরে ছোটবোনটা এসেছে। ওর পছন্দের খাবার বানাতে ব্যস্ত মা। ভাইয়াকে তনুকে দেখতে বলে রান্নাঘরে গেছিল মা। খালার মেয়েটা হাঁটতে হাঁটতে পড়ে গেল। তারস্বরে চেঁচিয়ে উঠল ব্যথায়। হাত বাড়িয়ে কাঁদতে লাগল, ব্যতা, ওতাও, ধরো!
খালু ওকে কোলে তুলে নিলো। আদরে আদরে ভরিয়ে দিলো ওকে। ও বাবার বুকের মাঝে লুকিয়ে পড়ল। কিছুতেই আর নামল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই খালুর বুকে ঘুমিয়ে পড়ল। তনু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। তার কিছুক্ষণ পর হাঁটতে হাঁটতে ও-ও পড়ে গেল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, বাবা ওতাও, ধলো।
দু’বার, তিনবার। কেউ উঠালো না ওকে। এবার আরো জোরে কাঁদল। ছুটে এলো ভাইয়া। ওকে টেনে উঠালো। রান্নাঘর থেকে ছুটে এলো মা। তনু কাঁদতে কাঁদতে বলল, পলে গেলাম, বাবা উতালো না।
মা উদাস হয়ে গেল। চোখের কোণে পানি জমল। খালার চোখ-মুখও বিষণœ। মা রান্নাঘরে চলে গেলেন মলিনমুখে।
সেদিন এসব কিছুই বোঝেনি তনু। এখনও যে খুব বোঝে তাও নয়। বুঝতে শেখার পর মাকে প্রথম প্রশ্ন করেছিল, মা, আমার বাবা কোথায়?
এবারও মা কোনো জবাব দেননি। সেই সেদিনের মত মলিন মুখে সরে গেছেন। ভাইয়া চুপি চুপি বলেছে, বাবার কথা মাকে জিজ্ঞাসা করিস না। মা কষ্ট পায়।
কেন?
বাবা নেই যে!
কেন নেই? সবার আছে, আমাদের কেন নেই? বাবার জন্য তোমার কষ্ট হয় না? বাবা থাকলে আমাদের কত আদর করত, স্কুুলে নিয়ে যেত। এটা ওটা কিনে দিত। কত জায়গায় বেড়াতে যেতে পারতাম আমরা।
থাক তনু মন খারাপ করিস না।
বছরে একবার ওরা দাদিমার কাছে যায়। ফাইনাল পরীক্ষার শেষে। ওদের তখন স্কুল বন্ধ থাকে। মার কলেজ বন্ধ থাকে। আর যে চারটে ছেলেমেয়েকে বাড়িতে পড়ান মা তাদের কাছ থেকে কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে নেন। অন্য সময় ওদের পড়িয়ে দেন। বছরের এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় থাকে দু’ ভাইবোন। দাদিমাও ওদের জন্য পথ চেয়ে থাকেন। সারা বছর ধরে মুরগির ডিম জমান। আট দশটা মুরগি পুষে ডাগর ডোগর করে রাখেন। শহরের ছেলেপিলে আজকাল গোশত ছাড়া কিছু খায় না। মুড়ি ভেজে, চিঁড়ে কুটে, নারকেল পেড়ে গুছিয়ে রাখেন। গুড়েরও জোগাড় থাকে। ওরা এলে যেন পিঠে-আটা করে দিতে পারেন। যাবার এক মাস আগে থেকে তাগাদা শুরু হয় দাদির। দাদিকে একটা মোবাইল কিনে দিয়েছেন মা। সেটা থেকে ঘন ঘন ফোন আসতে থাকে।
কখন আসছ বৌমা? আর যে আমার সহ্য হচ্ছে না। কবে দেখব দাদুদের মুখ?
মা-ও হাসি মুখে বলেন, এইত মা আর ক’টা দিন। ছুটি শুরু হলেই চলে আসব। আপনি ভাববেন না মা।
এদিকে তাড়া শুরু হয় তুতুল আর তনুর, কবে যাবো মা?
তোরা আমায় জ্বালিয়ে মারলি। এমন করলে যাওয়া বন্ধ করে দেবো। মা বকেন তবে হাসিমুখে। ওরা বোঝে এ বকায় ধার নেই। এটা বকার জন্য বকা।
তুতুল প্লান করতে থাকে ঘুড়ি লাটাই কোথায় পাবে, মার্বেল জোগাড় করতে হবে, ডাঙ্গুলি খেলতে হবে। দাদিমার বাড়িতে দু’জন কামলা আছে। তুতুল তনু ওদেরও দাদু ডাকে। ফরিদ দাদু আর রমিজ দাদু। ফরিদ দাদুর নাতি টুকু। সে জোগাড় করে দেবে নিশ্চয়ই। মাছও ধরতে হবে। ছিপ আর মাছের আধার জোগাড় করা টুকুর জন্য কিছু না। প্রতিবারই করে দেয়।
দাদিমার বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটা অপূর্ব। বাস থেকে নেমে অল্প কিছুটা রাস্তা। ও রাস্তাটা রিকশাতে যাওয়া যায়, আবার হেঁটেও। মা রিকশায় যান। মা চান ওরা দুই ভাইবোন তার সাথে রিকশাতেই যাক। এ ব্যবস্থায় কিছুতেই রাজি নয় দু’ ভাইবোন। ওরা হাঁটতে থাকে। এই নিয়ে মা প্রথমে মৃদু রাগ করেন। তারপর মনে মনে নিজেকে বোঝান, যাকগে, দিন কয়েকের জন্য বেড়াতে এসেছে খোলামেলা পরিবেশে। ঢাকায় তো সারা বছর বন্দীই থাকে। হাঁটুক একটু। কিন্তু এই ভাবনাটা ছেলেমেয়েদের বুঝতে দেন না। বুঝলে একেবারে স্বাধীন হয়ে যাবে ওরা। কিছু দূর হাঁটার পরই ক্লান্ত হয়ে যায় ওরা। হাঁটার অভ্যাস নেই তো! তবুও হার মানতে চায় না। রমিজ আর ফরিদ দাদু ওদের কাঁধে তুলে নেয়। সে যে কী মজা! ওদের নিজেদের রাজার মতো মনে হয়। ওরা হেঁটে চলে মাঠের মাঝখান দিয়ে। মাঠে প্রজাপতি দৌড়ায়। কী রঙ সে প্রজাপতির! পৃথিবীতে এত রঙ আছে কিন্তু প্রজাপতির গায়ে যে রঙ ওই রঙের নির্দিষ্ট নাম নেই। সে রঙ এতই সুন্দর যে ওই রঙের নাম দেয়ার যোগ্যতা বোধ হয় কারো হয়নি। ধানের গোছার ডগায় ডগায় উড়ে বেড়ায় প্রজাপতি। ক্ষণকালের জন্য ডগায় বসে। ধানের গোছা বাতাসে দোলে। প্রজাপতির সাথে দু-একটা মৌমাছিও দেখা যায়। ওরা ধান ছিঁড়বার জন্য নিচু হয়। রমিজ দাদা চেঁচিয়ে ওঠেন, রোসো রোসো দাদাভাই, আমি ছিঁড়ে দিচ্ছি। পড়ে যাবে যে!
একবার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছিল। নৌকায় করে খানিকটা পথ যেতে হয়েছিল ওদের। কী আনন্দ যে হয়েছিল তখন! মা বারবার সাবধান করছিলেন, সাবধানে বসো। এত কিনারে যেও না। পানিতে হাত দিও না।
কিছুদূর পানির মধ্য দিয়ে গিয়ে ধান ক্ষেতে ঢুকে পড়েছিল নৌকা। নৌকার আগা পথ করে ধানের গোছাগুলোকে শুইয়ে দিয়ে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। ধানগুলোর জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল তনুর। ইস, ওদের শুইয়ে না দিয়ে যদি যাওযা যেত! রমিজ দাদুকে বলেছিল, দাদু ধানগুলোর লাগছে যে!
একটুও না, নৌকা সরে গেলেই আবার দাঁড়িয়ে পড়বে ওরা। ওই যে দেখ দাঁড়িয়ে গেছে।
তাইতো তাইতো! আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠেছিল তুতুল তনু। কী আশ্চর্য! সেই ধানের ক্ষেতে পানিতে ভেসে ছিল শাপলা ফুল। মায়ের বারণ অগ্রাহ্য করে লাল শাপলাগুলো তুলছিল তনু। তুতুল বলেছিল, তুলিস না তুলিস না। ওগুলো আমাদের জাতীয় ফুল।
রমিজ দাদু বলেছিল, অনেক গরিব মানুষ ও ফুল তুলে বাজারে বিক্রি করে দু’চার পয়সা পায়। তাতে তাদের সংসার চলে।
হাত গুটিয়ে নিয়েছিল তনু। সেদিন ও প্রথম জেনেছিল ঢ্যাপের কথা। ঢ্যাপ বোঝাই দানা থাকে। খেতে নাকি দারুণ! পরে একদিন ফরিদ দাদু ঢ্যাপ এনে খাইয়েছিল ওদের। তনুর তেমন ভালো লাগেনি। স্বাদটা ভালো নয়। তবে কে যেন বলেছিল ঢ্যাপ থেকে খই হয়। ঢ্যাপের খই খাবার বায়না ধরেছিল তনু। অনেক চেষ্টা করেও দাদিমা খাওয়াতে পারেনি সেবার। বলেছে এবার খাওয়াবে।
গ্রামের রাস্তায় পা দিয়ে দুই দাদুকে দেখল বরাবরের মতো। সাথে টুকুও আছে। ওদের দেখে টুকু সব ক’টা ময়লা দাঁত বের করে হাসল। তুতুলের হাত থেকে ওর ছোট্ট ব্যাগটা নিলো। কিন্তু দুই দাদুর শরীর যেন আগের চেয়ে ভেঙে পড়েছে। তুতুল তনু সমস্বরে বলল, তোমাদের কী হয়েছে? এমন দেখাচ্ছে কেন?
মা উৎকণ্ঠিত কণ্ঠে বললেন, তাইতো দেখছি, অসুখ বিসুখ করেছে নাকি? জানাওনি তো!
ও কিছু না, ও কিছু না বললেও দু’জনেই যে অসুস্থ বোঝা গেল স্পষ্ট। দাদুরা কাঁধে উঠতে বললেও উঠল না ওরা। বলল, আমরা এখন বড় হয়েছি। হেঁটেই যেতে পারব।
তুতুল ফরিদ দাদুকে বলল, আচ্ছা দাদু আগেরবার এসে তোমাকে একদম সোজা দেখেছিলাম, সুপারি গাছের মতো। তুমি হঠাৎ এত নুয়ে পড়লে কেন? মনে হয় যেন ঝড়ে ভেঙে পড়েছ।
ঝড়ই তো দাদু ভাই। তোমার দাদিমা মানে টুকুর দাদি মারা গেলেন। তার ওপর সংসারে নানা অশান্তি। বয়সটা তো আর থেমে নেই। দুদ্দাড় করে এগিয়েই চলেছে। আর যত বয়স তত রোগ। তবুতো কর্তা মা ছিলেন বলে বেঁচে আছি.. দীর্ঘশ্বাস ফেলেন ফরিদ দাদু।
রমিজ তাকে থামিয়ে দেয়, ওসব কথা থাক ফরিদ। বুঝলে দাদুরা তোমাদের এই দাদু ওর বউ মানে তোমাদের দাদিকে খুব ভালোবাসত। হঠাৎ করে উনি মারা যাওয়াতে একেবারে ভেঙে পড়েছেন। এত বোঝাই তবুও…। কী করা যাবে বল এটাই জগতের নিয়ম।
আর তুমি, তোমার শরীর ভেঙেছে কেন? গতবার আমাকে পিঠে নিয়ে ঘোড়া হয়ে কত দৌড়ালে। এবার পারবে বলে তো মনে হচ্ছে না। একটুতেই তো হাঁফাচ্ছ। তনু বলে।
আমার কিছু হয়নি, বেশ আছি। বেশ পারব ঘোড়া হতে। রমিজ দাদু দ্রুত বলে
পারব বললেই হলো না। আমাদের যেন চোখ নেই। ছেলেগুলো দেখে না। বুড়ো বাপটাকে আলাদা করে দিয়েছে। ওই একই কথা, মা ছিলেন বলে তবু…। ওটাই আমাদের বটের ছায়া।
তনু বোঝে না বাপকে কী করে আলাদা করা যায়। বাপকে চেয়েও ওরা পাচ্ছে না। ওরা চায় বাপকে কাছে পেতে, জড়িয়ে রাখতে। আর রমিজ দাদুর ছেলেরা তাদের বাপকে দূরে সরিয়ে দেয়। কেন? ওরা কি পাগল?
দাদির বাড়ির কাছাকাছি এসে পড়েছে ওরা। দূর থেকে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে সাদা জমিনের শাড়িটা দুধের পাতলা সরের মতো ভেসে ওঠে। তারপর আস্তে আস্তে উন্মোচিত হয় কালো রঙের চিকন পাড়টা। ওরা এগোয়, আর সামনের গাছগুলো একটা একটা করে সরে সরে যেতে থাকে। একটু একটু করে ভেসে ওঠে এক মানবীর মুখ। সে মুখের দিকে তাকাতেই উন্মাদ হয়ে ওঠে তুতুল তনু। নিষেধের সমস্ত বাধন ছিঁড়ে ফেলে দৌড় দেয়। দৌড় দৌড়। মা রমিজ আর ফরিদ দাদুর কোনো চিৎকার কোনো শাসন ওদের আটকাতে পারে না। ওদিকে সেই শুভ্র মানবীও দু’হাত প্রসারিত করে দৌড়াতে থাকেন, তবে গতি ধীর। এক সময় প্রসারিত দু’হাতের মধ্যে বাধা পড়ে দুই ভাইবোন। দাদিমা পড়ে যেতে যেতে টাল সামলান আর অশ্রুভেজা মমতায় হাত বুলাতে থাকেন ওদের গায়ে মাথায় সারা শরীরে।
এবার বড় দেরি করে এলে বৌমা। সারাক্ষণ তোমাদের পথ চেয়ে থাকি।
জানি মা কিন্তু কী করব বলুন। সবে তো ওদের পরীক্ষা শেষ হলো।
সবে কেন আমাদের গাঁয়ে তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।
তপা হাসেন। সব স্কুলে একসাথে পরীক্ষা হয় না মা। কী করে বোঝাই আপনাকে মা, এখানে আসতে আমারও খুব ভালো লাগে।
সেই সন্ধ্যায় খাবারের ছড়াছড়ি। তনু তুতুল বুঝে উঠতে পারে না কোন্টা রেখে কোন্টা খাবে। পায়েস নাকি নাড়– নাকি পিঠে নাকি মোরব্বা, অতসব কিছুর নাম কি ওরাই জানে! মা বলেন, এই অত খাস না, রাতে ভাত খেতে পারবি না।
ওদের বাধা দিও না মা, রাতে খুব খেতে পারবে।
খাওয়ার পর দাদির হাত ধরে বাইরে আসে তনু। তুতুল রমিজ দাদুর সাথে রাতের গ্রাম দেখতে বেরোয়। সাথে আছে টুকু। তনু দাদির সাথে অর্র্থহীন গল্প জুড়ে দেয়। গল্পে গল্পে একসময় ওরা ঘর থেকে বারান্দায় এসে বসে, বারান্দা থেকে উঠোনে। উঠোনে মাদুরে বসে দাদিমার বুকে মাথা রেখে তুতুল বলে, একটা গল্প বলো না দাদিমা?
দাদিমা গল্প খুঁজে পান না। প্রতিবার নাতিরা আসার আগে থেকেই তিনি গল্প জড়ো করতে থাকেন। কখনও বই পড়ে, কখনও পাড়াপড়শির কাছে শুনে, কখনও বা ছেলেবেলায় মা-দাদির কাছে শোনা গল্পগুলো ঝালিয়ে নিয়ে। এবারও করেছিলেন। কিন্তু এ মুহূর্তে কোনো গল্পই তার মনে পড়ে না।
মনে পড়ছে না যে দাদু। পরে বলব।
তনু দাদির কোলে মাথা রেখে লম্বা হয়ে শুয়ে আকাশ দেখতে থাকে। আকাশে অনেক তারা। ওর চোখ ঘুরে ঘুরে যায় এক তারা থেকে অন্য তারায়। দাদি অপত্য ¯েœহে তনুর মাথায় শরীরে হাত বুলিয়ে যান। তার চোখ থেকে টপটপ করে পানি ঝরে তনুর কপালে পড়তে থাকে।
সে কি কাঁদছ কেন দাদিমা?
তোর বাবার কথা মনে পড়ছে। সে ঠিক এইভাবে এই উঠোনে আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকত।
যখন ছোট ছিল তখন?
নারে অনেক বড় হয়েও। আমার কোল ছিল তার প্রিয় জায়গা।
তনু উঠে বসে, বলো না দাদিমা, আমার বাবা কোথায়? মাকে কত জিজ্ঞাসা করি, বলে না। বাবাকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করে। বাবার কোলে শুয়ে আকাশের তারা দেখতে ইচ্ছে করে।
দেখবি কী করে, সে তো তারা হয়ে ওই আকাশে চলে গেছে।
আমার বাবা কোন্ তারাটা বলো না দাদিমা?
সব তারা, সব তারাই তোর বাবা।

SHARE

7 COMMENTS

Leave a Reply