Home খেলার চমক আকাশ এখন হাতের মুঠোয়

আকাশ এখন হাতের মুঠোয়

হাসান শরীফ..

১৯৯৭ সালের ২১ মে চেন্নাইতে সাঈদ আনোয়ার যেদিন ছক্কা দিয়ে ২০০ মাইল স্পর্শ করার চেষ্টাটায় ব্যর্থ হয়েছিলেন, তখন অনেকেই ভাবছিলেন, আকাশটা হয়তো কোনোকালেই ছোঁয়া যাবে না। অনেক চেষ্টা হয়েছে, অনেকে কাছাকাছিও গিয়েছিলেন, কিন্তু তার পরেই কেন জানি সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। জিম্বাবুয়ের চালর্স কভেন্ট্রিও পারেননি। তিনি অবশ্য সাঈদকে ছুঁতে পেরেছিলেন। সেই অসম্ভব কাজটি এখন সম্ভব নয়, সাধারণ একটি কাজে পরিণত হয়ে গেল। প্রথমে শচিন টেন্ডুলকার ২০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছালেন, তারপর বীরেন্দ্র সেহবাগ তাকেও ছাড়িয়ে গেলেন। তার ২১৯ রান এখন এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান। ক্রিকেটকে বলা হয় পরিসংখ্যানের খেলা। আর সেই পরিসংখ্যানে ভারত অবশ্যই এগিয়ে। ভারতীয়রা জয়ের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে থাকলেও ব্যক্তিগত রেকর্ডে বেশ সমৃদ্ধ। সেই ধারাবাহিকতাতেই তাদের দুই ব্যাটসম্যান এখন এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দুটি ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক।

পারল না বাংলাদেশ
অনেক আশা ছিল বাংলাদেশ এবার জয়ের ধারায় ফিরবে। অন্তত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পেয়েছিল একটি টি-২০ ও একটি ওডিআই জিতে। কিন্তু পাকিস্তানের সামনে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া যেন কিছুই করার ছিল না। অবশ্য শেষ টেস্টটিতে কিছুটা আশার আলো ছড়িয়েছিল। সাকিবের প্রথম ইনিংসে ১৪৪ রান ও ছয় উইকেট টাইগার সর্মথকদের আশান্বিত করলেও শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে হারে তারা। টি-২০ ম্যাচে পরাজয় দিয়ে শুরু হয়েছিল। ঢাকার দুটি ওডিআইতেও শোচনীয় পরাজয়। তারপর চট্টগ্রামে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে পাকিস্তানকে ১৭৭ রানে অল আউট করে বেশ আশায় ছিল সবাই। মনে হচ্ছিল, লাকি গ্রাউন্ডে ভাগ্য ফিরছে। কিন্তু মুশফিকেরা মাত্র ১১৯ রানে অল আউট হয়ে নিজেরাই লজ্জায় ডোবে। এরপর টেস্টেও ভাগ্য বদলায়নি। ইনিংস ও ১৮৪ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব বিভাগই যেন ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশের কেন এমন হচ্ছে, তা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ আছে, তা থেকে উত্তরণের চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কত দিন এমন চলবে কে জানে?
নতুন রেকর্ড পকিস্তানের
বাংলাদেশকে তিন ম্যাচ একদিনের সিরিজে ৩-০-এ পরাজিত করে পাকিস্তান বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেছে। তারা এখন কোনো দেশের বিরুদ্ধে টানা ২২টি ম্যাচ জয়ের অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল। পরের ম্যাচে (যা এখনো নির্ধারিত হয়নি) পাকিস্তান জয়ী হলে তারা এককভাবে রেকর্ডটির অধিকারী হবে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ সালের জুন থেকে ২০০৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ২২টি ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছিল। আর পাকিস্তান ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে বাংলাদেশের কাছে ৬২ রানে হারার পর থেকে প্রতিটি ম্যাচে জিতেছে। চট্টগ্রামে তৃতীয় ম্যাচটিতে জয়ের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে টানা ২২টি ম্যাচে হারাল।
এইসঙ্গে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ৬টি সিরিজ জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করল। পাকিস্তান দলে এখন তারকা নেই। কিন্তু তারা অত্যন্ত সঙ্ঘবদ্ধ দল। হয়তো এ কারণেই তারা টিম স্পিরিট নিয়ে খেলতে পারছে। বড় বড় তারকার ভিড় থাকলে যে অহমিকা বোধের সৃষ্টি হয় এবং ব্যক্তিগত রেষারেষি থাকে, সেটা নেই বলেই তারা এখন ভালো খেলছে।

সাফ ফুটবলে ভারত চ্যাম্পিয়ন
দক্ষিণ এশিয়ান তথা সাফ ফুটবলে ভারত তাদের শ্রেষ্ঠত্ব আবারো অক্ষুণœ রেখেছে। ডিসেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলে তারা ফাইনালে আফগানিস্তানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো শিরোপা জয় করেছে।
টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরমেন্স ছিল খুবই খারাপ। গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের কাছে হেরে যায় ০-১ গোলে। আর শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে ১-৩ গোলে হেরে গ্র“প পর্ব থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ।

এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান

ব্যাটসম্যান                        রান         বল    ৪    ৬           প্রতিপক্ষ         ভেন্যু          তারিখ

বীরেন্দ্র সেহবাগ (ভারত)    ২১৯    ১৪৯    ২৫    ৭    ও. ইন্ডিজ    ইন্দোর    ০৮/১২/২০১১
শচিন টেন্ডুলকার (ভারত)  ২০০* ১৪৭    ২৫    ৩    দ. আফ্রিকা    গোয়ালিয়র    ২৪/০২/২০১০
চার্লস কভেন্ট্রি (জিম্বাবুয়ে)  ১৯৪*  ১৫৬    ১৬    ৭    বাংলাদেশ    বুলাওয়ে    ১৬/০৮/২০০৯
সাঈদ আনোয়ার (পাকিস্তান) ১৯৪  ১৪৬    ২২    ৫    ভারত    চেন্নাই    ২১/০৫/১৯৯৭
ভিভ রিচার্ডস (ও. ইন্ডিজ)  ১৮৯*  ১৭০    ২১    ৫    ইংল্যান্ড    ম্যানচেস্টার    ৩১/০৫/১৯৮৪
সনৎ জয়াসুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)  ১৮৯    ১৭১    ২১    ৪    ভারত    শারজা    ২৯/১০/২০০০
গ্যারি কারস্টেন (দ.আফ্রিকা) ১৮৮*    ১৫৯    ১৩    ৪    ইইউই    রাওয়ালপিন্ডি    ১৬/০২/১৯৯৬
শচিন টেন্ডুলকার (ভারত) ১৮৬*    ১৫০    ২০    ৩    নিউজিল্যান্ড    হায়দরাবাদ    ০৮/১১/১৯৯৯
মহেন্দ্র ধোনি (ভারত)    ১৮৩*    ১৪৫    ১৫    ১০    শ্রীলঙ্কা    জয়পুর    ৩১/১০/২০০৫
সৌরভ গাঙ্গুলি (ভারত)    ১৮৩    ১৫৮    ১৭    ৭    শ্রীলঙ্কা    টনটন    ২৬/০৫/১৯৯৯
ম্যাথু হেইডেন (অস্ট্রেলিয়া) ১৮১*    ১৬৬    ১১    ১০    নিউজিল্যান্ড    হ্যামিল্টন    ২০/০২/১৯৯৭

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply