Home জানার আছে অনেক কিছু জানার আছে অনেক কিছু

জানার আছে অনেক কিছু

দ্বিচক্রযানের বাহাদুরি
দুই চাকার একটি জনপ্রিয় বাহন হচ্ছে বাইসাইকেল। শহরে এর প্রচলন খুব বেশি না হলেও গ্রামের এবড়ো-থেবড়ো ও পাহাড়ি পথে এ বাহনটির জনপ্রিয়তা এখনও ব্যাপক। দূর-দূরান্তে যাওয়ার জন্য গ্রামের মানুষ অতি সহজেই দ্বিচক্রযান বেছে নেয়। আমাদের দেশে তো বটেই, বিশ্বের যে কোনো দেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রিয় বন্ধু বাইসাইকেল।
বিশ্বের বুকে বাইকের আগমন খুব বেশি দিনের নয়। ১৮১৭ সালে কার্ল জন ড্রেইস নামে এক জার্মান ব্যারন প্রথম ঘোড়াবিহীন এক বিশেষ বাহনের প্রচলন করেন। এর ছিল দু’টি চাকা, যা প্যাডেলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পায়ের মাধ্যমে চাপ দিয়ে এই বাহনটি ঘুরাতে হতো। এ পদ্ধতিটি পরে ড্রেইমাইন নামে প্রকাশ পায় এবং আধুনিক বাইসাইকেলের ধারণাও আসে এখান থেকেই। ফ্রান্সে এটি দুই চাকাবিশিষ্ট মেকানিক্যাল ড্রাইভ নামে পরিচিতি পায়। অরভিল ও উইলবার রাইট, যারা সর্বপ্রথম উড়োজাহাজ তৈরি করেছিলেন, সেই ভ্রাতৃদ্বয় ওহিও রাজ্যের ডায়টনে বাইক মেরামতের প্রথম দোকান দেন। ১৯০৩ সালে তারা ফ্লাইয়ারের কাজে এ ওয়ার্কশপটি ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৩৫ সালে ফ্রেড আ বার্চমোর ইউরোপ, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ হাজার মাইল পর্যন্ত ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে ২৫ হাজার মাইল সাইকেলে এবং বাকি পথটুকু তিনি ভ্রমণ করেন নৌকায়। বর্তমানে চীনে রয়েছে হাফ বিলিয়ন বাইসাইকেল। এ দেশে প্রথম বাইকের আবির্ভাব ঘটে ১৮০০ শতকে। তখন থেকেই দেশটিতে যাতায়াতের জন্য সাইকেল সবচেয়ে জনপ্রিয় বাহন। বিশ্বব্যাপী সাইকেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গত ত্রিশ বছরে দ্বিচক্রযান উৎপাদনও হয়েছে প্রচুর। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ মিলিয়ন বাইসাইকেল তৈরি হয়।
সব দেশে সাইকেলের চাহিদা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চলে মাত্র এক শতাংশ লোক সাইকেল চালান। তবে ইউরোপিয়ানরা বাইক চালাতে ওস্তাদ। নেদারল্যান্ডসের ৩০ ভাগ লোক সাইকেলে চেপে গন্তব্যস্থলে যাতায়াত করেন। মাত্র পনেরো বছর বয়সেই তারা বাইসাইকেলের মালিকও বনে যান।
দ্বিচক্রযান নিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই প্রতিযোগিতা হয়। তবে সবচেয়ে বড় আসরটি বসে ফ্রান্সে। ১৯০৩ সাল থেকে ‘দ্য ট্যুর দি ফ্রান্স’ অনুষ্ঠিত হয়। বাইসাইকেল প্রতিযোগিতায় আরেকটি নামকরা রেস হচ্ছে মটোক্রস। ২০০৮ সালে চীনের বেইজিংয়ে এটি প্রথম অনুষ্ঠিত হয়।
জে হুসাইন

SHARE

Leave a Reply