Home গল্প পিপাসা

পিপাসা

জুবায়ের হুসাইন……

দুষ্টুমিতে মুনিয়াকে ছাড়িয়ে যাওয়া অত সহজ নয়। তবে ওর দুষ্টুমিটা ভালোই এনজয় করে সবাই। বিশেষ করে ওর ভাইয়া মুরাদ। আর আব্বু-আম্মু তো ভালো করেই চেনেন তাদের দুই সন্তানকে। তাই ওরা ভাই-বোনে যখন খুনসুটি করে, তখন তারা তাতে নাক গলাতে যান না, একান্ত প্রয়োজন না পড়লে।
তবে মুরাদ এনজয় করলেও মাঝে মাঝে বেশ নাকানি-চুবানিও খায়। একেবারে বেকুব বনে যায় ছোটবোনের প্রশ্ন শুনে। আসলে মুনিয়া মাঝে মাঝে যে সব প্রশ্ন করে, তার কোনো জবাব হয় না- মুরাদের জানা থাকে না। আবার ঘুরিয়ে জবাব দিলেও পড়তে হয় বেকায়দায়। সারাদিন কেবল ক্ষেপিয়ে নিয়ে বেড়াবে ওকে। আব্বুকে বলবে, আম্মুকে বলবে, এমনকি, বাড়িতে কোনো মেহমান বেড়াতে এলে তাকেও বলবে, আরও বলবে ওর খেলার সাথীদের এবং যে ম্যাডাম ওকে সন্ধ্যায় পড়াতে আসে তাকে বলবে- ‘ভাইয়াটা না একটা বুদ্ধু, কিছুই মাথায় নেই। কিছু জানেও না।’
আজ স্কুল থেকে ফিরেই ভাইয়াকে খোঁজ করতে লাগল মুনিয়া। জানে, এ সময় ভাইয়া স্কুলে থাকে। ফিরবে আরও ঘণ্টাখানেক পরে। তবুও ওর যেন তর সইছে না। কখন আসবে ভাইয়া? বারবার আম্মুকে জিজ্ঞেস করছে, ‘ও আম্মু, ভাইয়াটা এখনও ফিরছে না কেন?’
আম্মু বললেন, ‘আসবে মা-মণি, এখনও তো আসার সময় হয়নি। এই এসে পড়ল বলে।’
‘দুর! আমি যে আর দেরি করতে পারছি নে। পেটে কতক্ষণ আটকে রাখা যায় বলো?’
‘কেন মা-মণি? কী আটকে রেখেছ তোমার পেটে?’ আম্মু বুঝতে পারেন, মেয়ে তার দারুণ কোনো কথা ভাইয়াকে বলার জন্য ছটফট করছে। মুরাদকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করার কোনো বিষয় হয়তো তার মাথায় কিলবিল করছে। তারপরও জিজ্ঞেস করলেন।
মুনিয়া বলল, ‘উঁহু, তোমাকে তো বলা যাবে না আম্মু। এটা শুধু ভাইয়ার জন্যই।’ দু’হাত কোমরে রেখে বেশ ভারিক্কি একটা ভাব আনল চেহারায়।
আম্মু বললেন, ‘বেশ, তাহলে তোমাকে যে একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতেই হবে। কিন্তু তুমি এখনও নাশতা শেষ করছ না কেন? সন্ধ্যায় টিচার আসবে, তার পড়াটাও একটু দেখে নেয়া দরকার না?’
‘টিচারের পড়া তো আমি কাসে বসেই করে ফেলেছি। আর নাশতা? ভাইয়া এলে একসাথেই করব। যদিও ক্ষিদেয় আমার পেট চোঁ চোঁ করছে!’
বলে আর দাঁড়ালো না মুনিয়া। গটগট করে বেরিয়ে এলো বাইরে। মেইন গেটের সামনে এসে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল রাস্তার দিকে তাকিয়ে। ওই পথেই আসবে ভাইয়া।
বার বার লাল বেল্টের হাতঘড়িটা দেখছে। ‘ইশ্! সময় যেন আজ কাটতেই চাচ্ছে না।’ নিজের মনেই বিড়বিড় করল ও।
‘ছোট মা-মণি যে এইখানে দাঁড়ায়ে!’ মুনিয়াকে দেখে বলল দারোয়ান। ‘কেউ বুঝি আসবে? দাওয়াত দিছেন কাউরে?’
‘আহ্!’ বিরক্তি ঝরে পড়ল মুনিয়ার কণ্ঠে। ‘নিজের কাজ নিজে করো।’ তারপর বিশেষ ভঙ্গিতে একপাশে মুখটা বাঁকিয়ে বিড়বিড় করে বলল, ‘কে আসবে তা বুঝি উনি জানেন না, আবার জিজ্ঞেস করছে!’
সাইকেল চালিয়ে এলো মুরাদ। তাকে আসতে দেখেই খলবলিয়ে উঠল মুনিয়া। মুরাদ বুঝল, আজ ওর খবর আছে। দুষ্টুর ডিপোটা ওকে জব্দ করার জন্য অপেক্ষা করে আছে।
‘এই যে সুইট ব্রাদার,’ মুরাদ কাছে আসতেই বলল মুনিয়া। ‘আজ দে বড্ড দেরিতে ফিরলে? কোথায় আড্ডা দিচ্ছিলে শুনি?’
‘ক্রিং ক্রিং’ বেল বাজাল মুরাদ। মুখে বলল, ‘সরো সরো!’
লাফ দিয়ে সরে গেল মুনিয়া। আর মুরাদ ঘ্যাঁচ করে বোনের পাশে ব্রেক কষে দাঁড় করালো সাইকেল। এক পা মাটিতে রেখে ও অন্য পা প্যাডেলে রেখে দাঁড়িয়ে বলল, ‘নাইস আপুটি আজ গেইটে দাঁড়িয়ে সুইট ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে, কী সৌভাগ্য আমার! তা আপু মণি, ব্যাপারটা কী?’
‘তোমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমার পেট ফেটে যাচ্ছে। না জানি কখন ‘ফট’ করে ফেটেই যায়।’
‘সোনা বোন আমার, খুব পিপাসা পেয়েছে, আগে এক গেলাস পানি খেয়ে নিই?’ বাইরের প্রচণ্ড গরমে এমনিতেই অবস্থা কাহিল এতদূর সাইকেল চালিয়ে এসে, তার উপর এই মূর্তিতে বোনকে দেখে বুকটা সত্যিই খা খা করছে মুরাদের।
‘হু, জলদি ভেতরে এসো, আমি পানি দিচ্ছি।’ বলেই দৌড় দিল ভেতরে মুনিয়া।
পেছন থেকে মুরাদ চিল্লিয়ে বলল, ‘পানিতে একটু লেবুর রস চিপে দিও।’ তারপর সাইকেল ঠেলে নিজেও ভেতরে চলে গেল।
মুরাদ কেবল নিজের রুমে ঢুকে স্কুল ব্যাগটা রেখে শার্টের বোতাম খুলতে যাবে, এই সময় পানির গেলাস হাতে হুড়মুড় করে প্রবেশ করল মুনিয়া। ভাইয়াকে পানির গেলাস এগিয়ে দিয়ে মুনিয়া বলল, ‘এই নাও, ঢকঢক করে খেয়ে আমার পেটটা বাঁচাও!’
অবাক হলো, মানে অবাক হওয়ার ভান করল মুরাদ, ‘পানি খাব আমি, তাতে তোমার পেট বাঁচবে কিভাবে?’ আসলে ও একটু সময় নিতে চাচ্ছে। স্কুলের পর কেমিস্ট্রির কোচিংয়ে বেশ জটিল একটা বিষয় পড়িয়েছেন স্যার। সেটাকেই হজম করার চেষ্টা করতে করতে বাড়ি ফিরছিল ও। তাই বোনের প্রশ্নের জবাবের জন্য একটু নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা।
‘তুমি না সত্যিই দিন দিন বুদ্ধু হয়ে যাচ্ছ ভাইয়া। আরে আমাকে কথাগুলো বলতে না দিলে…’
‘বুঝেছি বুঝেছি।’ বোনকে থামিয়ে দিয়ে ওর হাত থেকে পানির গেলাসটা নিল মুরাদ। আহ! স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ছাড়ল। পানিটা বেশ মিষ্টি লাগল। শুধু লেবু না, চিনিও গুলিয়ে এনেছে পিচ্চিটা। কিন্তু মুখের মিষ্টি ভাবটা আর স্থায়ী হলো না, শুরু করে দিয়েছে মুনিয়া।
‘ভাইয়া, গরম ইংরেজি কী?’ জিজ্ঞেস করল মুনিয়া। ভাইয়ের সামনে বুকের উপর আড়াআড়ি দু’হাত বেধে দাঁড়িয়েছে ও।
‘মানে?’ কিছুটা ভড়কে গেল মুরাদ। ‘এটা কোনো জানার বিষয় হলো? হট মানে গরম তা কি তুমি জান না?’
‘আহা, তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি তুমি জবাব দেবে। …আচ্ছা ঠিক আছে, এটাতে পাস। এখন বলো, এই হট, মানে গরমটা আসলে কী?’
একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল মুরাদ। বলল, ‘গরম হচ্ছে একটা অবস্থা, একটা অনুভূতি। এটা দেখা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়। কোনো কিছুর উত্তপ্ত অবস্থাকে আমরা গরম হিসেবে প্রকাশ করে থাকি।’
‘ভেরি গুড!’ পাক্কা বিজ্ঞানের স্যারের মতো বলল মুনিয়া। ‘এটা হচ্ছে তাপ। আর বস্তুর তাপীয় অবস্থা হচ্ছে তাপমাত্রা। এখন বলো, তাপমাত্রার একক কী কী?’
নির্ঘাত আজ এগুলোরই ক্লাস নিয়েছেন স্যার, নিজে শিখে এসে এখন ভাইয়ের উপর মাস্টারি ফলাচ্ছে- ভাবল মুরাদ। ভালো। বলল, ‘তাপমাত্রার তো কয়েকটা একক আছে- কেলভিন, ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস। এখন আমি একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করি?’
‘উঁহু, নো কোয়েশ্চেন।’
‘ওকে ম্যাডাম। নাও আস্ক ইয়োর নেক্সট কোয়েশ্চেন।’
‘বলো তো ভাইয়া, আমাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় কোন্ এককে?’ প্রশ্নটা করতে পেরে খুশি খুশি দেখালো মুনিয়াকে। ভাবল, ভাইয়াকে এবার বেশ জব্দ করা যাবে। মিটিমিটি হাসছে ও।
জবাবটা মুরাদের জানা, আসলে এ সব কিছুই ও জানে। কিন্তু বোনের খুশিটাতে ছাইচাপা দিতে চাইল না। তাই একটু চিন্তার ভান করে মাথা চুলকে বলল, ‘বেশ হার্ড প্রশ্ন! ওহ্ হো, মনে পড়েছে, ফারেনহাইট। শরীরের তাপমাত্রা মাপার থার্মোমটারে ৯২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।’
একটু যেন চুপসে গেল মুনিয়া। ও ভেবেছিল, ভাইয়া এই প্রশ্নটার উত্তর পারবে না। কিন্তু পেরে যাওয়াতে একটু মনই খারাপ হয়ে গেল। আর তাতে ঠিক করে রাখা পরের প্রশ্নটাও গেল ভুলে। ঢপাস করে খাটের উপর বসে পড়ল।
এই সুযোগে মুরাদ স্কুল ড্রেসটা চেঞ্জ করে নিল। বলল, ‘দাঁড়িয়ে থেকে পা ব্যথা হয়ে গেছে বুঝি?’
মুনিয়া যেন থতমত খেল। উপর-নিচ মাথা নাড়ল।
‘তোমার প্রশ্ন কি শেষ?’
এপাশ-ওপাশ মাথা নাড়ল মুনিয়া।
মুরাদ বলল, ‘ঠিক আছে, আবার শুরু করো তাহলে।’ একটু জোর পাচ্ছে ও। একটি প্রশ্ন করেও ওকে আটকাতে পারেনি পিচ্চিটা।
মুনিয়া শুরু করল আবার। বলল, ‘ডিগ্রিটা কী জিনিস ভাইয়া? ভালো পড়ালেখা করে পাস করার পর মানুষ বলে ডিগ্রি অর্জন করেছে, আবার তুমি বললে থার্মোমিটারে ডিগ্রিতে দাগ কাটা থাকে, এটা কী?’
হাসল মুরাদ। বোনের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের ভঙ্গি। কিন্তু এটা ওর ভালোও লাগল না। কারণ বোনটি সবসময় ওকে বোকা বানাতে চায়। সেটাই তো এনজয় করে। বলল, ‘এটা একটা মাত্রা।’
‘মাত্রা কী?’
এইবার বিপদে পড়ল মুরাদ। শুরু হয়েছে ওর উল্টোপাল্টা প্রশ্ন। মাত্রা জিনিসটাকে ও কিভাবে বোঝাবে? একটু চিন্তা করল। তারপর বলল, ‘ডিগ্রিটা হচ্ছে আসলে একটা পর্যায়, একটা অবস্থান। মানে আমরা বলি না যে বাসটি যশোর থেকে ঢাকা পর্যন্ত গেছে। এই পর্যন্তটাই হচ্ছে ডিগ্রি।’ এই মুহূর্তে এর বেশি ব্যাখ্যা করতে পারল না মুরাদ।
‘ও,’ যেন সব বুঝতে পেরেছে মুনিয়া।
‘বিজ্ঞান কাসে বুঝি স্যার আজ এগুলোই পড়িয়েছেন?’
‘হুঁ।’ মাথা নেড়ে বলল মুনিয়া। ‘কিন্তু এত কিছু বলেননি।’
‘আর কী কী পড়িয়েছেন স্যার?’
‘পড়িয়েছেন থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহার করা হয়। এই পারদ একটি মৌলিক পদার্থ। পৃথিবীতে ১০৫টি মৌলিক পদার্থের মধ্যে একমাত্র তরল এই পারদ। এর সঙ্কেত ঐম, এটা হাইডারজাইয়াম থেকে এসেছে। একে মার্কারিও বলা হয়। আচ্ছা ভাইয়া, পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আছে বলে পানির সঙ্কেত হয়েছে H2O। কিন্তু পারদের সঙ্কেত Hg হলো কেন?’
বিষয়টা বেশ ভালো লাগল মুরাদের কাছে। কিন্তু এর নেপথ্যের কারণটা শুনলে নিশ্চয়ই খুশি হতে পারবে না মুনিয়া। পদার্থের নামকরণের বিষয়গুলো বললে ও মনেও রাখতে পারবে না। তবে বোনের এই জ্ঞান পিপাসাটাকে দমাতেও চায় না। ছোটবেলা থেকেই এমন জানার আগ্রহ থাকা ভালো। তাই ওকে জ্ঞানের রাজ্যে ভাসিয়ে দিতে নিজের মনের ভেতরেও আকুলি বিকুলি করে উঠল। বোনকে সঠিক শিক্ষায় গড়ে তোলা তো ওরও দায়িত্ব। যদিও সবকিছুই ও শেখাতে পারবে না, কিন্তু যতটুকু নিজে জানে, ততটুকু বোনের মগজে ঢুকিয়ে দিতে তো দোষ নেই। আর মোরাল শিক্ষাটা তো দাদুভাই-ই ওদের দু’ভাইবোনকে দিয়ে চলেছেন প্রতিনিয়তই। বাইরে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানটাকে একটু সহজ করে বোনকে বুঝিয়ে দিতে পারাটা ওর জন্য বেশ আনন্দের, অত্যন্ত সুখের। ও নিজেও বেশ জ্ঞানপিপাসু, বোনটাকেও তেমনি পেয়ে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া জানায়। বলল, ‘হাইডারজাইয়াম ল্যাটিন শব্দ। বাংলা, ইংরেজির মতো ল্যাটিনও একটি ভাষা। এই ভাষা থেকেই পদার্থটির নাম নেয়া হয়েছে। আর H দিয়ে যেহেতু হাইড্রোজেন বোঝানো হয়, তাই পারদকে বোঝাতেও যদি H ব্যবহার করা হয় তাহলে দু’টো পদার্থকে আলাদাভাবে চিনতে কষ্ট হবে। এই কষ্ট দূর করার জন্য হাইডারজাইয়ামের প্রথম অক্ষর H আর উচ্চারণের সময় পরবর্তী যে অক্ষরটার উপর একটু জোর দেয়া হয় সেটি অর্থাৎ g নিয়ে এর সঙ্কেত ঠিক করা হয়েছে Hg। এখানেই শেষ নয়, দ্বিতীয় অক্ষরটাকে ছোট হাতের অক্ষরে লেখা হয়। এরকম আরও কয়েকটি পদার্থের সঙ্কেত আছে। সেগুলো এখনই বললে তুমি মনে রাখতে পারবে না। বড় হয়ে যখন উপরের ক্লাসের বই পড়বে, তখন এসব জানতে পারবে। অবশ্য এ জন্য তোমাকে সায়েন্স নিতে হবে। কি আপুমণি, বিষয়টা এবার পরিষ্কার হয়েছে?’
‘দূর! তুমি এতক্ষণ যা যা বললে তার একবর্ণও আমার মাথায় ঢোকেনি।’
‘ঠিক আছে আপু, তোমার টিচার তোমাকে পড়িয়ে চলে গেলে আমি তোমাকে ভালো করে বুঝিয়ে দেব। অন্তত প্রাথমিক জ্ঞানটা তোমাকে দিতে পারব।’
‘আচ্ছা তাই দিও। এখন আমার আর দু’টো প্রশ্নের জবাব দাও। বলো তো স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের শরীরের তাপমাত্রা কত?’
‘ফারেনহাইট স্কেলে ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।’
‘আর সেলসিয়াস স্কেলে?’ মিটিমিটি হাসছে মুনিয়া, ভাইয়া ঠিকই জব্দ হবে এবার।
‘মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’ সঙ্গে সঙ্গেই বলল মুরাদ।
‘আর কেলভিন স্কেলে?’ একটু যেন চুপসে গেল মুনিয়া।
এবার ধরা খাওয়ার পালা মুরাদের। ফারেনহাইটের ৯৮.৪ ডিগ্রিতে সেলসিয়াসে কত হয়, বিষয়টা পরীক্ষা আসে বলে ওটা মুখস্থ, কিন্তু কেলভিনের ডিগ্রিটা তো ওর জানা নেই! বলল, ‘এটা তো আপু আমার জানা নেই। আমি ফেল, তুমিই বলে দাও।’
হি হি করে হেসে উঠল মুনিয়া। বলল, ‘দূর! এটা তো আমারও জানা নেই।’
একটু থমকালো মুরাদ। ভালোই জব্দ হয়েছে ও। তারপর ও-ও হেসে উঠল হো হো করে।
‘কিন্তু ভাইয়া,’ হাসি থামিয়ে বলল মুনিয়া। ‘ওই পদার্থের নামকরণের বিষয়টা কিন্তু আমাকে বুঝিয়ে দিতেই হবে। আমি কাল স্কুলে গিয়ে তমা, পিউ, সুরাইয়াদের চমকে দেব।’
‘জো হুকুম লিটিল হার্ট।’ বলল মুরাদ।
এই সময় বাইরে ঝম ঝম করে কিছু একটার শব্দ হলো। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখল, মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছে। মুরাদ বলল, ‘আমি চললাম।’ তারপর চিল্লিয়ে মাকে বলল, ‘মা, আমি বিষ্টিতে ভিজতে বাইরে যাচ্ছি।’ তারপর দরোজা লক্ষ্য করে এক দৌড়।
পেছন থেকে মুনিয়া বলে উঠল, ‘এই ভাইয়া, ইলশে গুড়ি বৃষ্টি মানে কী?’ কিন্তু ততক্ষণে ভাইয়া উঠানে নেমে গেছে। দু’হাত দু’দিকে প্রসারিত করে বৃষ্টির ফোটাগুলো গায়ে মেখে নিচ্ছে। আহ্! সারাদিনের ভ্যাপসা গরমের পর এই শেষ বেলার বৃষ্টিটা প্রাণে প্রশান্তির একটা সুখ শিহরণ বইয়ে দিল।
মুনিয়াও বেরিয়ে এলো বাইরে। ভাইয়াকে ওভাবে ভিজতে দেখে নিজেও লোভ সামলাতে পারল না। ‘আম্মু আমিও…’ চিল্লিয়ে বলেই দৌড়ে নামল উঠানে।

SHARE

3 COMMENTS

  1. দারুণ গল্প! জুবায়ের ভাইয়ার সব গল্পই সুন্দর হয়। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
    ধন্যবাদ লেখককে।

Leave a Reply