Home নিয়মিত হিউম্যান নিউরোসার্জারি

হিউম্যান নিউরোসার্জারি

মহিউদ্দিন আকবর

(গত সংখ্যার পর)

তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ঘেরা তেলআবিব এয়ারপোর্ট থেকে অনায়াসেই একটি টেক্সিক্যাব নিয়ে আবিদের কমান্ডো বাহিনী সোজা পৌঁছে যায় ‘মোশাদ’ হেডকোয়ার্টারের কাছাকাছি একটা ইহুদি ডেরায়। দেখে শুনে রাতের জন্যে উঠে পড়ে একটা দ্বিতীয় শ্রেণীর মামুলি সাদামাঠা হোটেলে। হোটেলের সবচেয়ে ওপর তলার পাশাপাশি দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে নেয় চার দিনের জন্যে। ব্যাস, হয়ে গেলো আস্তানা গাঢ়ার কাজটা। এখান থেকেই চলবে পর্যটক বেশে চষে বেড়ানোর অভিযান। ওরা বিশ্রাম নেবার প্রস্তুতি নিতেই হোটেলটা ঘিরে ফেলে একদল ইহুদি সেনা। ওরা কোন এক সোর্স থেকে জেনেছে, এই হোটেলে চার ফিলিস্তিনী যুবক উঠেছে। তাই এই রেড দেয়া। অবশেষে গ্রিনফোর্সের কমান্ডোদের ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজ তল্লাশি করে এবং তাদের পাসপোর্ট ও ভিসার ধরণ দেখে আশ্বস্ত হয়ে ফিরে যায়। তবে যাবার সময় কমান্ডোদের সাথে আনা সুন্দর বিড়ালটাকে একটু আদরও দিয়ে যেতে ভোলে না। আসলে অমন নাদুসনুদুস বিড়াল দেখে সবারই মায়া লাগার কথা। কিন্তু কেউ বুঝলো না যে, এই বিড়ালটাই এখন কমান্ডোদের কমান্ডার। ইসরাইলি সেনা অভিযানের পর বিড়ালের বেশধারী আবিদ সবাইকে আশ্বস্ত করলো যে, আজ রাতের মতো ফাঁড়া কেটে গেছে। ইহুদি সেনারা আশেপাশে গোয়েন্দা নিযুক্ত করলেও রাতে আর জ্বালাতে আসবে না।

তাই নিশ্চিন্তে ওরা এক কক্ষে জড়ো হয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা সেরে নেয়। তারপর চাঙ্গা হয়ে নিতে আরামে ঘুমিয়ে যায়।

পরদিন সকালে বিড়ালরূপী আবিদকে সাথে নিয়েই গোটা জেরুসালেমের দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘুরে ঘুরে দেখার নামে জেনে নেয় সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান এবং সংরক্ষিত এলাকাগুলোর খোঁজ-খবর। জেনে নেয় পশ্চিমতীর, গাজা এবং তেলআবিবের সামরিক অঞ্চলের খোঁজ-খবরও। তারা নিশ্চিত হয়ে যায় ইসরাইলি পরমাণু সমৃদ্ধকরণ এলাকায় প্রবেশের পথ-ঘাটের হাল হকিকত। তাই অযথা সময় ব্যয় করার মতো একটি সেকেন্ডও হাতে রাখতে চায় না আবিদ। ওর এখন একটাই টার্গেট – যে কোন প্রকারেই হোক, ইসরাইলি ওয়ারহেড ব্যাটারিচার্জারগুলোর অবস্থান খুঁজে বের করা এবং তার ভিডিও ছবি তুলে আনা।

রাতে হোটেলে ফিরে পাকা পোক্ত করে ফেলে সব পরিকল্পনা। পরদিন সকাল সকাল ঘুরে ফিরে আনন্দ করার নামে ওরা ঢুকে পরে গোলানতুয মালভূমির পথে। ছোট বড় টিলা আর ছোটছোট পাহাড়ি মরুপথের একটা বাবলা পরিবেষ্টিত অঞ্চলের দিকে ওদের ভাড়া করা গাড়িটা ছুটতেই প্রশ্রাবের উছিলা করে গাড়ি থামাতে অনুরোধ জানায় ড্রাইভারকে। ড্রাইভার গাড়ি থামাতেই রুট নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত ড্রাইভারের ওয়্যারলেসটা তার হাত থেকে কেড়ে নেয় সুলতান। আর মুহূর্তেই ভয়ংকর একটা বাউট মেরে তার নাকটা ফাটিয়ে দেয় রাফসানী বাহু। অমনি দরদর করে রক্ত বেরিয়ে আসে ইহুদি ড্রাইভারের নাক থেকে।  সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে হুসেইন রাওবাদি ড্রাইভারের দুই ঊরুর মাঝ বরাবর চালিয়ে দেয় একটা ফ্লাইং কিক। ব্যাস, কম্ম কাবার। চারজন মিলে ড্রাইভারের লাশটা টেনে নিয়ে দ্রুত একটা গর্তে ফেলে বালু দিয়ে ঢেকে দেয় চিরকালের জন্যে। এবার আবিদের নির্দেশে ড্রাইভিং সিটে বসে স্টিয়ারিং ধরে রাফসানি বাহু। অন্যান্য কমান্ডো গাড়িতে আসন নিতেই ঝড়ের বেগে ছুটে চলে গাড়িটা। বেলা থাকতে থাকতে ওরা পৌঁছে  যায় গহিন মরু অঞ্চলে। বাইনাকুলারে চোখ রাখতেই আল্লাহু আকবার বলে চিল্লিয়ে ওঠে রাওবাদি। একে একে সবাই দেখে নেয় বাইনাকুলারে ধরা পড়া দৃশ্যটা। প্রায় চার কিলোমিটার দূরে অনবরত ঘুরে ঘুরে আকাশ প্রহরার কাজ করে যাচ্ছে একটা শক্তিশালী রাডার। তার থেকে সামান্য দূরে সারিবদ্ধ কয়েকটা সাঁজোয়া যান এবং সেনাদের তাঁবু। ব্যাস, আর কোন কথা নেই। সংক্ষিপ্ত একটা মিটিং শেষে বিড়াল বেশে আবিদ চলে আগে আগে। চোরাগোপ্তা অ্যাম্বুস নিতে নিতে এগিয়ে যায় কমান্ডোরাও। ঘণ্টাখানেক সময় এভাবে এগোতে এগোতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। অমনি জ্বলে ওঠে চার চারটি সার্চলাইট। সাথে সাথে বালুর ঢিবির আড়ালে লুকিয়ে পড়ে ওরা। পেছনের দিকে হটে এসে বিড়ালও যোগ দেয় ওদের সাথে। পরামর্শ করে দ্রুত। তারপর একা একা সামনে বাড়তে থাকে বিড়াল আবিদ। সার্চলাইটের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়ে সেনা ছাউনিতে। আর যায় কোথায়। সাথে সাথে নেটগানের জালে জড়িয়ে বিড়ালটাকে ধরে ফেলে আর্টিলারি সিকিউরিটি গ্রুপের এক ইহুদি সেনা। জালে পেঁচিয়েই নিয়ে হাজির করে কমান্ডারের সামনে। ততক্ষণে বিড়াল ধরা পড়লে যেমন ভয়ঙ্কর তর্জনগর্জন করতে থাকে, ঠিক তেমনি তর্জন গর্জন শুরু করেছে আবিদ। আর মাঝে মাঝে থাবা মেরে জাল ছেঁড়ার ভানও করছে বেশ যোগ্যতার সাথে। সবকিছু দেখে কমান্ডারও বিভ্রান্ত হয়ে হেসে ফেলে। তারপর সেনাদেরকে নির্দেশ দেয় – বেচারা বুনো বিড়াল, পথ ভুল করে যখন এখানে ঢুকেই পড়েছে, তো একে মেরে ফেলে লাভ নেই। দেখো বিড়ালটা কেমন নাদুসনুদুস। দেখতেও বেশ সুন্দর। ওকে বরং পোষ মানিয়ে এখানেই রেখে দেয়া যায় কিনা। আর বাগ না মানলে বাবলা জঙ্গলে নিয়ে ফেলে দিয়ে এসো। তবু মেরে ফেলার দরকার নেই।

কমান্ডারের কথা সবারই পছন্দ হয়। তাই জাল ছাড়িয়ে বিড়ালটিকে মুক্ত করে দেয় বিড়ালটিকে ধরে আনা সেই আর্টিলারি গ্রুপের সৈন্যটি। সুযোগ পেয়ে বিড়াল আবিদও মিঁউ মিঁউ করে ছুটে গিয়ে কমান্ডারের পায়ে লেজ বুলিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কমান্ডার খুশিতে গদগদ হয়ে বলে, দেখেছো কেমন সভ্য বুনো বিড়াল। ওকে পেট পুরে রুটি আর দুধ খেতে দাও।

ব্যাস, যেমনি হুকুম, তেমনি কাজ। কিন্তু আবিদের মনটা একটা কষ্টে মোচড় দিয়ে উঠলো। ও ভাবলো, আমি না হয় নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে পেট পুরে খাচ্ছি। কিন্তু আমার সহযোদ্ধাদের তো না খেয়েই থাকতে হচ্ছে। তাছাড়া ওরা ধরা পড়ে গেলে তো আর রক্ষা নেই। যেমনি তো ভণ্ডুল হবে অ্যাসাইনমেন্ট, তেমনি আমিও আর ফেরত যেতে পারবো না নিজ জন্মভূমিতে। ফিরে পাবো না মানুষের আদল। বিড়ালের বেশেই ধুকে ধুকে মরতে হবে ইসরাইলের মাটিতে। না, না, এতো সব ভেবে লাভ নেই। সবে তো রাতের শুরু। সারা রাত তো পড়েই রয়েছে। রাতের মাঝেই খুঁজে বের করতে হবে ইহুদিগোষ্ঠীর ওয়ারহেডের ব্যাটারিচার্জারগুলো কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে।

চার.

রাত দশটায় সাঁজোয়া বহর সামনে পেছনে ট্যাংকের পাহারা নিয়ে এগিয়ে চলছে মরুভূমির আরো গভীরে। বহরের মাঝে আছে একটা খাদ্যবাহী লরি। দশ-বারো মিনিট চলার পর সাঁজোয়া বহর এসে থামে একটা সেনা ছাউনির মতো এলাকায়। ফ্লাডলাইটের আলোয় উদ্ভাসিত ছাউনিটা। একটু দূরেই সাঁজোয়া যানের আদলে গড়া হেভি হেভি বুলডোজারের মতো বিশাল বিশাল চাকাওয়ালা ট্রাকের ওপর বেইজমেন্ট গড়ে আকাশের দিকে দশ-বারো ইঞ্চি মোটা মোটা নলের মতো মাথা উঁচিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে শত শত ব্যাটারিচার্জার। প্রতিটি চার্জার যে কোন মুহূর্তে চার্জ করার জন্যে সর্বক্ষণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে ছয়জন করে আর্টিলারি কমান্ডোকে। এই ছাউনিতেই খাবার সরবরাহ দিতে সাঁজোয়া বহরের আগমন। কোন ফাঁকে বহরের খাবার লরিতে উঠে চলে এসেছে বিড়ালটা। সুযোগ বুঝে মিঁউ মিঁউ ডাকার ছলে লরির ড্রাইভিং বাংকারের ছাদে বসে বসেই সে তার মুখের জিহ্বার নিচে সেট করা মাইক্রওয়েভ ক্যামেরা-চিপের সাহায্যে তুলে নিতে শুরু করেছে পুরো এলাকার মুভিচিত্র। ফ্লাডলাইটের আলোতে সবকিছু রেকর্ডিং করতে তেমন কোন বেগই পেতে হলো না।

ওদিকে চার কমান্ডো সুযোগ মতো ঢুকে পড়েছে আর্টিলারি সেনা ছাউনিতে। অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, ডিউটিরত চার-চার সিকিউরিটিকে ঘায়েল করে নিঃশব্দে টেনে নিয়ে চলে আসে নিরাপদ অন্ধকারে। তারপর দ্রুত তাদের পোশাক খুলে নিয়ে সেগুলো পরে নিজেরাই সেজে যায় সিকিউরিটি গার্ড। এতো যে ঘটনা, তা কাকপক্ষিটিও যেন টের পেলো না। কমান্ডোরা এইবার অপেক্ষায় রইলো একটা দ্রুতগতিসম্পন্ন  পিক আপের।

ওদিকে খাবার সরবরাহকারী বহর ফিরে এসেছে সেনা ছাউনিতে। তাদের সাথে আবিদও ফিরেছে। হঠাৎই একজন সিকিউরিটি ছুটে এসে বিড়ালটাকে কোলে তুলে নিয়ে চাপা কণ্ঠে বলে, এখানের বাইরে টহল দেয়া চার সিকিউরিটি খতম। তাদের পোশাকে আমরা টহল দিচ্ছি। সময় মতো সিগন্যাল দেবে। আমরা প্রস্তুত। এখন এখান থেকে বেরিয়ে যেতে হলে, যে পথে ঢুকেছি সে পথে যাওয়া বোকামি হবে। তারচেয়ে ঘুরপথ বাদ দিয়ে সোজা জেরুসালেম পৌঁছানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এজন্যে অন্তত আরো একটা অফিসারকে খতম করতে হবে। ছিনিয়ে নিতে হবে একটা পিকআপ অথবা জিপ। তাহলেই সসম্মানে চেকপোস্ট পেরিয়ে যাওয়া যাবে।

বিড়াল আবিদও চাপা কণ্ঠে বললো, সে ব্যবস্থা আমি করবো। তোমরা মনোবল হারিও না। আমাকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দাও। আমি খোঁজ নিচ্ছি কমান্ডারের টেন্ড কোনটা। তবে সাবধান, আমাকে ফলো করবে না। সময় হলে আমিই চলে আসবো।

পাচ.

রাত তিনটা ছাব্বিশ মিনিট। সাতাশ নাম্বার টেন্ড থেকে বেশ খোশ মেজাজে বেরিয়ে আসছিলো ইহুদি কমান্ডার। কোত্থেকে বিড়ালটা এসে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে টহল সিকিউরিটিদের একজনকে ডেকে কমান্ডার বললো, বিড়ালটার সম্ভবত খুব খিদে পেয়েছে। ওকে আমার টেবিলে রাখা প্যাকেট থেকে কয়েকটা বিস্কিট খুলে দাও। আমি বাথরুম সেরে আসছি।

কথাটা শেষ করতে পারে না কমান্ডার। সাথে সাথে বিড়ালটা মানুষের কণ্ঠে বলে ওঠে, সুলতান। টেন্ডের পেছনেই একটা ক্রুজার রোভার জিপ আছে। কমান্ডারের টেবিলেই জিপের চাবি। এই জানোয়ারটাকে আর সুযোগ দেয়া যাবে না। অ্যাকশান। হারিআপ।

সুলতানকে আর কিছু করতে হলো না। বিড়ালের মুখে মানুষের কথা শুনে কমান্ডার শুধু ‘ভূত’ বলেই কাঁপতে কাঁপতে ঢলে পড়ে গেলো। তবুও সুলতান কমান্ডারের  ধঢ় চেপে মৃত্যু নিশ্চিৎ করে দ্রুত হাতে পোশাক পাল্টে কমান্ডারের পোশাক পরে নিলো। তারপর চোখের পলকেই টেবিল থেকে চাবি নিয়ে আবিদ বিড়ালকেসহ চেপে বসলো জিপের ড্রাইভিং সিটে। স্টার্ট দিয়ে জিপটা ঘুরিয়ে এনে সংকেত দিলো টহলরত সাথীদের। নিজে ড্রাইভিং সিট ছেড়ে বাম দিকের সিটে আসন নিলো। আর বাহু বসে গেলো ড্রাইভিং সিটে। অস্ত্রসহ লাফিয়ে পেছনের দুই আসনে বসে গেলো আহমাদি শুকরান এবং হুসেইন রাওবাদি।

আবিদের নির্দেশে রাফসানী বাহু স্বাভাবিক গতিতে ক্রুজার রোভার জিপটাকে চালাতে শুরু করলো। একে একে তিন তিনটি চেকপোস্ট পেরিয়ে কোন রকম সন্দেহ বা ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই উঠে এলো মহাসড়কে। তারপর জিপটা ছুটলো ঝড়ের বেগে।

সকাল পাঁচটার আগেই ওরা একটা গাড়ির গ্যারেজে এসে লোকদের ঘুম থেকে তুললো। তারপর জিপটাকে দ্রুত সার্ভিসিং করে পুলিশ স্টেশনে পৌঁছে দেবার আদেশ দিয়ে, একটা সাধারণ প্রাইভেট কার চেয়ে নিয়ে, পুলিশ স্টেশনে যাবার নাম করে গাড়িটা নিয়ে সোজা চলে এলো একটা নির্মাণাধীন বাড়ির কাছে। চারদিকে নীরব, নিস্তব্ধ। সেই সুযোগে সবার আর্মি পোশাক নিজেদের পোশাকের ওপর থেকে খুলে লুকিয়ে রাখলো কাঠ ও ইটপাটকেলের নিচে। তারপর কিছু দূর পর্যন্ত দ্রুত পায়ে হেঁটে উঠে এলো প্রধান সড়কে। চারদিক দেখে নিয়ে একটা টেক্সিক্যাব ডেকে সোজা ছুটে চললো তেলআবিবের পথে। মনে মনে গুডবাই জানালো জেরুসালেমকে।

তেলআবিব পৌঁছে আর বিলম্ব না করে, টার্কিস এয়ারের টিকেট কনফার্ম করেই সোজা ঢুকে পড়লো এয়ারপোর্টে। দুরু দুরু বুকে অপেক্ষা করতে লাগলো ইমিগ্রেশনের জন্য। কিন্তু না। বেশিক্ষণ ওদের অপেক্ষা করতে হলো না। সকাল সাড়ে নয়টার ভেতর ইমিগ্রেশনের ঝামেলাটা চুকে গেলো। আর সকাল ঠিক দশটায় এয়ার টার্কির একটা সুপরিসর এয়ারবাস অন্যান্য যাত্রীসহ গ্রিনফোর্সের ছদ্মবেশী পর্যটক বিড়াল আবিদ এবং তার সাথী কমান্ডোদেরসহ টেকঅফ নিয়ে তেলআবিবের আকাশে পাখা মেলে দিলো।

ছয়.

হঠাৎ তেহরান বেতার থেকে ইরানী গ্রিনফোর্সের একটা বিবৃতি দুনিয়া তোলপাড় করে ইসরাইলিদের পরমাণু অস্ত্রের দম্ভের ভিত নাড়িয়ে দিলো। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইল পৃথিবীর কোন মুসলিম দেশে হামলা চালানোর আগে তাদের বার বার ভাবতে হবে যে, তাদের পরমাণু অস্ত্রের অবস্থান নিরাপদে আছে কি না। কেন না, ইসরাইলের তাবৎ পরমাণু ওয়ারহেডের ব্যাটারিচার্জারগুলোর অবস্থানের ভিডিওচিত্র এখন আমাদের হাতে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একযোগে অইসব অবস্থানে হামলে পড়ে পৃথিবীর বুক থেকে চিরদিনের জন্য ইসরাইলের মানচিত্রকে মুছে ফেলবে।

কিন্তু কিভাবে এই ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করা হলো, তার বিন্দু-বিসর্গও প্রকাশ করা হলো না। আর এ কথাও প্রকাশ করা হলো না যে, আবারো একটা মেজর হিউম্যান নিউরোসার্জারির মাধ্যমে আবিদ আজমের ফ্রিজিং বডিতে তার মস্তিষ্ক পুনঃস্থাপন করে তাকে মানবজীবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আর বিড়ালের বডিতে বিড়ালের মস্তিষ্ক পুনঃস্থাপন করে তাকে তার আপন ভুবনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

(সমাপ্ত)

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply to Akramul Haq Cancel reply