Home ক্যারিয়ার গাইড লাইন মোরা বড় হতে চাই এ টু জেট

মোরা বড় হতে চাই এ টু জেট

আহসান হাবীব ইমরোজ

ঝি-ৎ-ৎ…… !!!

হঠাৎ তীব্র আলোর ঝলকানি!! সাথে কানফাটা বিকট যান্ত্রিক ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ।

এ কি গ্রেনেড বিস্ফোরণ! নাকি আচানক কোন ঠাঠা (বজ্রপাত)।

বিদ্যুৎ চলে গেল। তবে গা সওয়া ডিজিটাল কায়দায় নয়, দৈবাৎ। এক বিখ্যাত প্রধান অতিথির বক্তব্য লেখার কাজে পিসিটা খোলাই ছিল! আল্লাহ মালুম তার কী হলো?

পাণ্ডুর চেহারায় বিদ্যুতের অবস্থা সরেজমিনে দেখার জন্য উত্তরমুখো একচিলতে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। আমাদের চার তলার বারান্দাটা ইলেকট্র্রিক পোলের প্রায় মাথা সমান। ঐ দেখা যাচ্ছে পোলের মাথায় ছোট্ট একটি পাখির বাসা। তাতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। হয়তো বাসার কোন শুকনো ডালা কিংবা দুষ্টু বাচ্চাগুলোর দাপাদাপি সামান্য ওপরেই ২২০ ভোল্টের লাইনে লেগে এই দুর্যোগ। এ যেন সদ্য নিক্ষিপ্ত কোন ভারতীয়, ইসরাইলি বা মার্কিন বোমায় জ্বলছে কাশ্মিরি, ফিলিস্তিনি বা আফগান অসহায় নিরীহ জনগণের কোন শান্ত সবুজ গ্রাম। ওরা কিছু বোঝার আগেই জ্বলে ভস্ম। আর তাতেই এ এলাকার বিদ্যুতের এই হঠাৎ স্তব্ধতা। (এ ঘটনার ঠিক সাতদিন পর ১২ জুন রাত প্রায়  সাড়ে ৮টায় যখন এ লেখাটি চূড়ান্ত করছি নিজ গ্রাম টাঙ্গাইলের করটিয়ার এক বড় ভাইয়ের দোকানে বসে, হঠাৎ পার্শ্বের ট্রান্সমিটার বাস্ট হয়ে আরেক দুর্যোগ নেমে এলো – একি কাকতালীয়! অদ্ভুত??, নাকি ডিজিটাল ভূত??? কিন্তু একজন নগণ্য ঈমানদার মানুষ হিসেবে এর কোনটাই আমি বিশ্বাস করি না, আমার বিশ্বাস সেই পরম সত্তার প্রতি যার ইচ্ছা ছাড়া একটি গাছের পাতাতো দূরের কথা কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের কোটি কোটি জিনিসের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুর লক্ষ ভাগের এক ভাগ একটি পরমাণু এক চুলও নড়তে পারে না, সুবহান আল্লাহ!!!)

প্রতি মাসেই আমার এই পেন্টিয়াম ফোর পিসিটা জ্বরাক্রান্ত থাকবেই। হয় মনিটর অফ, নয় মনিটর টু সিপিইউ কর্ডটার কোন সমস্যা, নচেৎ ভাইরাস সমস্যা থাকবেই। ফলে, ফি মাসেই গ্যাট থেকে গচ্চা যাবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। আর গোদের ওপর বিষফোঁড়া দুষ্টু ছেলেটা তো আছেই। আমার ছেলেটার কথাই বলছি, ওসামা আহসান ফারাবী বয়স দশ ছুঁই ছুঁই। চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। ব্যাক বেঞ্চই তার সবসময়ের পছন্দ। ইংরেজি, নামতা এমনকি বাংলা ছড়া ভালো করে পড়তে গেলে যেন তার ফোকলা দাঁত ভেঙে যায়, আর কি। কিন্তু তার প্রিয় খেলনা কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি। সারাদিন এগুলো নাড়াচাড়া করলেও তার কোন ক্লান্তি নেই। মাঝে মাঝে মোবাইল, কম্পিউটারে এমন সব অপশন সে বের করে ফেলে যে আমরা বড়রা ভিরমি খাই। থাক না ওসব কথা।

তবে এত সাচ্চা কেচ্ছা বলার কারণ হচ্ছে এসব দুর্যোগে লেখা আটকে যায়। যা লেখা আদায়কারীরা এক্কেবারে শুনতেই চান না। ওহহো বলাই হয়নি, আমি যে আবার একজন ডিজিটাল লেখক। মানে কলম দিয়ে লিখতে পারি না। সরাসরি কম্পিউটারে খটাখট…। আর ডিজিটাল হলে যা হয়। যে কোন দুর্যোগেই ধপাস। এ যেন দেশী আর ফার্মের মুরগির অবস্থা। ট্রাকের ভেতর কার্টনবন্দী ফার্মের মুরগির বাচ্চারা যখন পেছনের গাড়ির হর্নের আওয়াজে হার্টফেল করে, তখন একই গাড়িতে খাঁচায় বন্দী দেশী মুরগির বাচ্চারা বুক চিতিয়ে মাথা উঁচিয়ে রাজপথের মজাক দেখে। তোমরা ভেবো না যে আমি ডাহা কেচ্ছা ফেঁদে বসেছি। চেষ্টা করি সত্যের অপলাপ কিছু না লিখতে। আমার এক বন্ধু ঢাকার নামকরা এক স্কুলের শিক্ষক, জাপান, আমেরিকা থেকে এন্তার কোর্স করা। সে তার এক বন্ধুর সত্য ঘটনা বলেছিল মজা করে রসিয়ে রসিয়ে। গাজীপুরে সে বন্ধুর এক পোলট্রি ফার্ম আছে, সেখান হতে প্রায় প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ফার্মের মুরগির বাচ্চা রফতানি হয়। গাড়িতে  নেয়ার পথে, যানযটের শহর ঢাকাতে যা হয়, পেছনের গাড়ির শুধু হর্ন আর হর্স। এতেই পিলে চমকে হার্টফেল করে মারা যায় দুই এক হালি ফার্মের বাচ্চা। ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা হোটেলের সহৃদয়!! মালিক এদের এক্কেবারে ডাস্টবিনে ফেলে না দিয়ে যত্ন করে রেখে দেন। অপেক্ষা করেন সেই ছোকরাটির জন্য যে হররোজ এসে রীতিমত দাম চুকিয়ে এই কয়েক ডজন হার্টফেল করা নাদুস নুদুস মৃত বাচ্চাগুলো নিয়ে যায় তার ডাইনি বুড়ির বোচকায় ভরে। পরদিন হয়তো সেই মুরগির বাচ্চারা শোভা পায় সুস্বাদু চিকেন বার্গারের মাঝে কোন সুদৃশ্য ফাস্টফুডের দোকানে। আর সন্ধ্যার মধ্যেই সেই হার্টফেল করা, জবাই ছাড়া বাচ্চাগুলো চালান হয়ে যায় কোন নামীদামি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছল ছাত্রছাত্রী বা কপোত কপোতীর পেটের গহিনে। ইস্!! ওয়াক্ক থু (নাকি ওয়াও থু? যাক ওয়াও এর গল্প আরেকদিন বলবো)

উফ! কোথায় চলে এলুম, এক্কেবারে খেই হারিয়ে। যাকগে আরেকটু খুলেই বলি ডিজিটাল লেখকের কথা। সেই ১৯৯৬ সাল হতে লেখালেখির সব কাজ কম্পিউটারে করে থাকি। তাতে হাতের লেখাটা এক্কেবারে লেজেগোবরে অবস্থা। ঢাকা টাঙ্গাইলে আমার হাতের লেখার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ছাড়া বাকিরা মোটেই এর পাঠোদ্ধার করতে পারে না। সেই জন্য আমার কম্পিউটার ছাড়া কোন উপায়ও নেই। আর এখানেই সমস্যা। কম্পিউটারে বা বৈদ্যুতিক দুর্যোগ হলেই আমার লেখার অক্কা। আর সব ঠিক থাকলে ছক্কা!!। কারণ সহজেই লেখা  তৈরি, পেস্ট, প্রিন্ট, কপি এবং সেন্ড করা যায়। এ নিয়েই চলে প্রতি মাসের ‘মোরা বড় হতে চাই’ এর এক্কা … দোক্কা। আমার আরেকটি পরিচয়, আমি হচ্ছি গিয়ে চাপের লেখক। তার মানে? সাবেক ইউসুফ ভাই, নূরুল ইসলাম ভাই আর বর্তমানে জুবায়ের ভাই নাছোড়বান্দার মতো চাপ না দিলে লেখা হয়ে ওঠে না। শখের লেখক, পেশায় লেখক, নেশায় লেখক আছে কিন্তু চাপের লেখক কেউ আছে কি? তাদের চাপাচাপিতেই অনেক সময় নাভিশ্বাস অবস্থা। কিন্তু রাগ, গোসা কিছুই করতে পারি না, অদ্ভুত দমবন্ধ অবস্থা। তাই গলায় সিন্দাবাদের ভূতের বোঝা নিয়ে হাঁসফাঁস করি। আর লেখার কোশেশ করি। যেমন গত সংখ্যার কথাই বলছি, ১৩ মে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কুষ্টিয়া গিয়েছিলাম একটু কাজে। আচ্ছা তোমাদের খুলেই বলি পিএইচডি’র সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য। ৩০ এপ্রিল অ্যাওয়ার্ড হয়েছে। তারই  প্রোভিশনাল সার্টিফিকেট। বিষয়টা গত মাসের এসএসসি, দাখিল পরীক্ষায় ফলাফলের উচ্ছ্বাসের ধুম থাকায় তেমন গুরুত্ব দিয়ে কাউকে জানানো হয়নি। কুষ্টিয়ায় ডিএসপি ভবনে গত ১৩ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত পরদিন ঝটফট সার্টিফিকেট কোন মতে তুলেই বিকেল থেকে খটাখট কি-বোর্ড ঝড় তোলা। অতঃপর লেখাটি রেখে তড়িঘড়ি করে রাত ১০টার হানিফে রওনা দিয়ে মাঝখানে টাঙ্গাইলে নামলাম রাত ২টায়। ছাত্র নেতা রাসেল ও লুৎফর রিসিভ করে তাদের বাসায় নিয়ে গেল। তখন রাত প্রায় পৌনে ৩টা। বাথরুম সেরে একটু শুকরিয়ার নামাজ পড়ে আবার বসে গেলাম, রাসেলের কম্পিউটারে লিখতে। মাঝে ফজরের নামাজ, সকালের নাস্তা ও ডিজিটাল বৈদ্যুতিক ভেলকির জন্য বাধ্যতামূলক বিরতি ছাড়া টানা এগারোটা পর্যন্ত লেখা আর লেখা। অতঃপর এটা-ওটা মিটিং সেরে সন্ধ্যার পদ্মা ট্রেনে যখন ঢাকার বাসায় এসে পৌঁছলাম, তখন রাত প্রায় ১১টা। পরের দিন ঢাকার সেই নিজের পিসি খুলে মেইলে কুষ্টিয়া হতে আমার লেখার অংশ যেটি পলাশ সেন্ড করেছে আর টাঙ্গাইলের অংশটুকু পাঠিয়েছে রাসেল, সেসব উদ্ধার করলাম। আর ঢাকার লেখার অংশটুকু রেডি হতেই তিন জেলায় বসে তিন দিনের লেখার অংশসমূহ যোগ করে তৈরি হয়ে গেল সম্পূর্ণ অবয়ব আমার জুন ২০১১-এর ‘মোরা বড় হতে চাই এ-টু জেড’। অতঃপর ক্লিক অ্যান্ড সেন্ড। ততক্ষণে ১৫ জুন দুপুর পর্যন্ত আমায় বারবার ফোন করে অতিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। জানি না এত কষ্টভেজা লেখাটি পেয়ে অবশেষে তারা জ্যৈষ্ঠের আম খাওয়া তৃপ্তি পেয়েছিলাম কি না? একজন অদক্ষ লেখক হওয়ার কারণে এত কষ্টের সাগর পাড়ি দিলেও মাঝে মাঝে কিছু আনন্দের পশলা বর্ষণ সকল কষ্টের ক্লেদ ধুয়ে মুছে ছাফ করে দেয়। এ রকম জ্বলজ্যান্ত চারটি ঘটনা বলছি –

এক. কুষ্টিয়া ডিএসপি ভবন। একটি পাতলা হ্যাংলা ছেলে এগিয়ে এলো, হাতে একটি প্যাকেট মতো মুখে চাঁদের হাসি। বলল, আপনি বেশ আগে এসএসসি দাখিল ফলপ্রাপ্তদের জন্য এক লেখায়, লিখেছিলেন- ‘তোমরা যারা ভালো রেজাল্ট করেছো তাদের কাছে দাবি তোমার এলাকার নামকরা মিষ্টি খাওয়াবে।’ তো- তখনতো আপনাকে পাইনি। আজ পেয়েছি সুতরাং এখন খেতে হবে। তার হাতে কুষ্টিয়ার বিখ্যাত মিষ্টি। … এখন বুঝো ঠ্যালা ।

দুই. এই গত বছর গিয়েছি দিনাজপুর শহরে, এক কোচিং সেন্টারের কৃতীদের সংবর্ধনা। তখন অনুষ্ঠানের ঢের দেরি। সে শহরের কোনায় এক দোতলা বাসায় খাটে বসে আছি। এসএসসি লেভেলের হাসি খুশি একটি ছেলে। ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে পাশে বসলো। সভাপতিকে বললো, আজকের প্রোগ্রামে এসেছি ইমরোজ ভাইয়ের সাথে পরিচিত হবো তাই। অচেনা আগন্তুক হিসেবে তার পাশে বসে এ রকম কথা শুনতে বলো কেমন লাগে? তার পরের ঘটনা আর নাই বা বললাম। তবে আমি কিন্তু বোকার মতো শার্টের কলার নেড়ে বলে বসিনি “আরে ভায়া আমিই তো সেই ইমরোজ ভাই।”

তিন. রাজশাহীতে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের প্রোগ্রামে আমার আলোচনা শেষ। দু’জন ৯ম শ্রেণীর হাসি খুশি মেয়ে এগিয়ে এলো। ‘আপনার সাথে কথা আছে’ বলে ওরা আমাকে কাছে ডাকলো। লম্বা মেয়েটি বললো সে ঢাকার হারমেন মেইনারের ছাত্রী। তার মা আমার অনেক বই কিনে বিতরণ করেছেন। একজন আধখানা লেখকের জন্য এর চাইতে আনন্দের আর কী হতে পারে?

চার. ২০০০ সাল। আমার লেখার বয়স মাত্র আট মাস। ওদিকে বাসায় বিয়ের তুমুল তোড়জোড় চলছে। ভাবী শশুর মশাই একজন নামকরা ডাক্তার। তখনও আমার ‘মোরা বড় হতে চাই’ বইটি বের হয়নি। কিশোরকণ্ঠের পাতা ঘেঁটে সেই ভাবী শশুর সাহেব আমার লেখা বের করে তার পিতৃপক্ষীয় ও শশুরপক্ষীয় মুরুব্বিদের দেখিয়েছেন আমার পক্ষে মত নেয়ার জন্য। ভাগ্যিস তার হাতে আমার কিম্ভূতকিমাকার কোন ছবি ছিল না । তাহলে যে কী হতো, আল্লাহ মালুম! বিয়ের পরে জেনেছি আমার ভাবী স্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানা আক্তার নাকি আমাকে লেখার ভেতরই প্রথম খুঁজে পেয়েছিলেন। আসলে সবই খোদার কলম, বকলম মানুষের কী করার আছে।

দেখ মজা, এত গল্পের প্যাঁচে পড়ে তোমাদের সালাম কালামই করা হয়নি!! তবে শেষে হলেও করছি কেননা কথায় আছে শেষ ভালো যার সব ভালো তার। আস্সালামু আলাইকুম। বন্ধুরা, ভালো আছতো?

প্রতিটি লেখার মতোই এ লেখাটি জাতে আনার জন্য যারপরনাই কষ্ট করেছেন এবার রাজছাহী (তোমাদের ভাষায় রাজশাহী) জেলা পূর্বের আব্দুল আজিজ, তার নেতৃত্বে রেলস্টেশনে রিসিভ করেছেন শাহজাহান। লেখাটি কম্পোজ করে আমার মেইলে পাঠিয়েছেন মানিক ও নাজমুল ভাই। খাওয়া দাওয়ায় মেজবান ছিলেন জুয়েলের মতো জ্বলজ্বলে জুয়েলভাই, তাকে সাহায্য করেছেন স্মার্ট সাইফুল ভাই। সর্বদা সরব সঙ্গী ছিলেন নির্যাতনে পা-ভাঙা অথচ সদা হাসির শফিক ভাই ও আরিফ ভাই আর বুয়েটের মেধাবী ছাত্র মুহিব।  সেই ঢাকা থেকে রাজশাহী অবশেষে টাঙ্গাইল পর্যন্ত জ্বর নিয়েও সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন মির্জা শরীফ আর রাত সাড়ে তিনটায় তাকে বাইপাইলে রিসিভ করেছে স্বপন ও সেলিম। আব্দুল আজিজ ভাইয়ের নির্দেশে পুঠিয়া থানার বানেশ্বর বাজার থেকে দুই বস্তা আম কিনে উপহার দিয়েছিল হাসান ও রাকীব। আর সারাদিনতো লেগেই ছিল খিসড়া পাত, গোপাল ভোগ ও রানীপ্রসাদ আম খাওয়ার ধুম। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত আমটা সেদিন কেন যেন আমাদের কাছে হেঁটে বা দৌড়ে আসতে পারেনি কারণ তার নাম যে লেংড়া। এ চারটিই সেখানকার বিখ্যাত আম। সে সব ভাইদের সবার দাবি এ এলাকার আমই বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা, নাকি বিশ্বের সেরা বললো ঠিক মনে আসছে না। চাঁপাই, রাজশাহীর অন্য এলাকার বা বিশ্বের যে কেউ এর প্রতিবাদ করতে পারো। তবে যদি সিরিয়াসলি বাজিতে যেতে চাও তবে কিশোরকণ্ঠের ঠিকানায় এক বস্তা আম আজই কুরিয়ার করো। আমরা আম বিশেষজ্ঞরা খেয়ে-দেয়ে কঠিন গবেষণার পরই চূড়ান্ত ফলাফল দিতে পারবো। এখানে জামানত অফেরতযোগ্য। তবে তোমরা সে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাকে বলতেই হবে বানেশ্বর জিন্দাবাদ, পুঠিয়া জিন্দাবাদ। কারণ আম খেয়েতো নাম গাইতে হবে, নাকি? আর যারা পড়ছো এ লেখা, জিভ থেকে টসটসে রস কিশোরকণ্ঠের পাতায় আবার ফেলে দিও না। মজার পত্রিকাটি নষ্ট হবেতো! তোমাদের জন্য আপাতত জ্যৈষ্ঠের বিদায়ী আমের শুভেচ্ছা। তবে সাবধান, ফরমালিনযুক্ত আম খেয়ে বসো না। একটু যাচাই করে নিও।

দেখতে দেখতে ‘মোরা বড় হতে চাই’ লেখাটি ১২ বছর পূর্তি শেষে ১৩ বছরে পা রাখলো। তথাকথিত ‘আনলাকি থার্টিন’ মানে ১৩ বছরের শুরুর সংখ্যায় জীবনের অনেক লাকি কথা বললাম। ১৯৯৯ সালে কিশোরকণ্ঠের জুলাই সংখ্যা হতে এ লেখা শুরু হয়েছিল। এই ১২ বছরের ইতিহাসে বোধ হয় এই প্রথম এখানে এত গল্পের জোয়ার চলছে যার বেশির ভাগ নিজের কেচ্ছা। ভাববে ধুৎ ছাই আর ভাল্লাগে না, আজ ক্যারিয়ারের পাতায় ক্যারিয়ার নেই। তোমাদের মিনতি করে বলছি এটি একটি ডিজিটাল চাপের লেখকের বিচ্ছিরি ক্যারিয়ার ।

আর একটি মজার রেকর্ড, এই প্রথম একটি ডাক্তারি প্যাডে মাত্র ৮ ঘণ্টায় লেখাটি শেষ করেছি যার বেশির ভাগ ঢাকা টু রাজশাহীর ‘স্নিগ্ধা’ খ বগির ৪৩ নং সিটে বসে। ওহহো!! আবেগে তো বলাই হয়নি ট্রেনটির নাম ‘ধূমকেতু’। জিন্দাবাদ ধূমকেতু জিন্দাবাদ। আল্লাহ হাফিজ।

মো: আহসান হাবীব ইমরোজ সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার থিসিসের বিষয় ছিল “বিশ্বায়ন ও পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন (১৭৯৮-বর্তমান) : মুসলিম উম্মাহর করণীয়” (GLOBALIZATION & CULTURAL AGGRESSION OF WESTERN WORLD (1798-Present) : THE ROLE OF MUSLIM UMMAH). কিশোরকণ্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন।

SHARE

3 COMMENTS

  1. Ph.D অর্জন করায় ইমরোজ স্যারের প্রতি রইল শুভেচ্ছা ও শুভকামনা ।

  2. i am a big fan of ahsan habib imroz.i get full view kishorkantha in my mail. goodluck kishorkanta family

  3. ইমরোজ ভাইয়ের মোরা বড় হতে চাই এর সম্পুর্ণ লেখার পিডিএফ পাওয়া যাবে?

Leave a Reply