Home গল্প নতুন জীবনের গল্প

নতুন জীবনের গল্প

মুহিব্বুর রহমান রাফে

জ্যামের মধ্যে বাসে বসে থাকাটা যে কী বিরক্তিকর! অসহ্য গরম। আষাঢের মাঝামাঝি চলছে অথচ আকাশ ফকফকা। বৃষ্টির নাম নিশানাও নেই। জামাটা ঘামে ভিজে জবজব করছে। এর মাঝে আবার জামার মধ্যে কী যেন একটা ঢুকে কুটকুট করছে। হাত ঘুরিয়ে যে বের করার চেষ্টা করবে তারও জো নেই। বাস ভর্তি মানুষের নিঃশ্বাসগুলো এক হয়ে যেন অক্সিজেনগুলোকে দুর দুর করে তাড়িয়ে দিতে চাইছে।
মুড়ির মতো গাদাগাদি করে ভর্তি বাসটির সামনের সিটে বসে আছে মানিক। সিটে বসেও স্তস্তি নেই। সামনের লোকগুলো বারবার এসে তার গায়ের ওপর পড়ছে। একদম গা ঘেঁষে একজন বৃদ্ধ লোক, বোঝাই যাচ্ছে গরমে কাহিল হয়ে পড়েছেন। যখনই কোন মোড়ে এসে বাস থামছে, লোক ওঠানামা করছে, সে এসে প্রতিবারই মানিকের গায়ের ওপর পড়ছে। মানিক যারপরনাই বিরক্ত।
এই যে চাচা মিয়া! সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। বারবার গায়ে এসে পড়ছেন? একটু কর্কশ স্বরেই বললো সে। বুড়ো মানুষটা হেসে দিয়ে বলল,
Ñ বাপ! দেখনা কতো ভিড়? আমি কি আর ইচ্ছা করে গায়ে পড়ি?
Ñ অত-সত বুঝি না। আপনি সোজা হন। অন্য দিকে তাকিয়ে তাকে কথা শুনিয়ে দিল মানিক।
মেজাজটা আজ এমনিতেই টং হয়ে আছে মানিকের। বেশ ক’দিন থেকেই তার মনটা খারাপ। বাবা-মায়ের সাথে আজ চূড়ান্ত ঝগড়া করেছে সে। সেই কবে থেকে একটা কম্পিউটারের জন্য বাবাকে বলছে, কোন তোয়াক্কাই করছে না। অথচ বন্ধুদের শুধু কম্পিউটার কেন, ডিভি ক্যামেরা, ল্যাপটপ, দামি মোবাইল কত কিছু আছে? সে তো সামান্য একটা কম্পিউটার ছাড়া কিছুই চায়নি। এমন বড় কিছু তো আর নয়। তার ওপর আবার, সে বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তারপরও ঘুরে ফিরে তাদের একই কথা। কম বেতনের চাকরি, কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য নেই। আরে, কয় টাকাই বা লাগে একটা কম্পিউটার কিনতে? বলে, টাকা জমলে তখন দেবে। আরে বাবা, বললেই হয় দেবো না। অতো অজুহাত দেবার দরকার কী? ভাবলেই রাগে অভিমানে মানিকের চোখে পানি চলে আসে। গরমের ভেতরে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায় তার।
এই ভর দুপুরে তাই রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে মানিক। বাসার সামনের মোড়ে এসে এই বাসটাতে উঠেই যত বিপত্তি। এক তো অসহ্য গরম, আর বাসে ওঠার পর মনে হল, সে কোথায় যাবে, জানে না।

দুই.
পাশের সিটে বসা লোকটা উঠে যেতেই আরেকজন এসে বসল তার পাশে। তাকিয়ে দেখল সঙ্গীকে। বেশ সুন্দর চেহারা। তার চেয়ে বোধহয় পাঁচ-সাত বছরের বড় হবে। হাতে একটা হ্যান্ড ব্যাগ। মোবাইলে কথা বলছে সে। খুব নিচু স¡রে, ধীর কণ্ঠে। বেশ কিছুণ ব্যাপারটি ল্য করে ভালো লাগল মানিকের। আগের বসে থাকা লোকটা ঘোড়ার মতো চিৎকার করে যেভাবে সিমেন্টের অর্ডার দিচ্ছিল, তাতে মনে হচ্ছিল পুরো বাসে সে একাই বসে আছে অথবা সে বাসটির মালিক। সবাই তার দিকে ভ্রƒ কুচকে তাকিয়ে থাকলেও তার কোন ভ্রƒপে ছিল না। মোবাইল ব্যবহারের সময় এটাও যে খেয়াল রাখা লাগে, তার জ্ঞানই নেই।
‘ছেলেটা বেশ ভদ্র’ মনে মনে ভাবল মানিক।
হঠাৎ ভাবনায় ছেদ পড়ল, আবার কেউ একজন গায়ে এসে পড়ায়। তাকিয়ে দেখে সেই বুড়ো মানুষটা।
Ñ কী হলো চাচা? বারবার বলছি, তারপরও আপনি গায়ে এসে পড়ছেন?
Ñ বাবা! এইটা পাবলিক বাস, এমন হইতেই পারে। তোমার সমস্যা হইলে প্রাইভেট কিন্যা চল।
কথা শুনে কান গরম হয়ে হয়ে যায় তার। শক্ত কিছু একটা বলতে যাবে মানিক, এমন সময় হঠাৎ খেয়াল করল পাশে বসা ছেলেটি উঠে দাঁড়িয়েছে। সে বৃদ্ধ মানুষটিকে বলল,
Ñ বাবা! আপনি এখানে বসুন।
Ñ না-না! আমি এই সামনে নামব। বৃদ্ধ লোকটি আপত্তি জানায়।
Ñ তবু বসেন, আপনি নেমে গেলে আমি বসব। আমি তো ছোট, দাঁড়িয়ে থাকতে একটুকু কষ্ট হবে না। উঠে বসতে দিল বৃদ্ধ মানুষটিকে।
অকস্মাৎ ঘটনাপ্রবাহে হতবাক মানিক। এই অসহ্য গরমে, এত ভিড়ে নিজের সিট ছেড়ে দিল। আশ্চর্য! এত বোকা কেউ হয় নাকি? এখন যে সারা রাস্তা দাঁড়িয়ে যেতে হবে? ভাবতে থাকে মানিক।
বাসের গতি একটু বেড়েছে। বড় রাস্তায় কিছুটা ফাঁকা পেয়ে টান দিয়েছে বাস ড্রাইভাব। ভাঙা জানালা দিয়ে হালকা বাতাস ভেতরের গুমোট ভাবটাকে কমিয়ে দিচ্ছে।
Ñ খুব গরম, তাই না? তুমি কোথায় থাক বাবা? হঠাৎ কথা বলতে শুরু করল পাশে বসে থাকা বৃদ্ধ লোকটি।
তার চোখের দিকে তাকাতে সংকোচ হলো মানিকের। কেন, তা বুঝিয়ে বলতে পারবে না সে।
Ñ মিরপুর।
Ñ পড়াশোনা?
Ñ মনিপুর স্কুলে, ক-াস এইট এ।
Ñ হু- তো একা একা কোথায় যাচ্ছ এই ভর দুপুরে?
একটু চিন্তায় পড়ে গেল মানিক। কী বলবে সে? কোথায় যাবে, তাতো এখনও ঠিক করাই হয়নি।
Ñ এ-এইতো, রমনা পার্কে।
Ñ এই দুপুরে? রমনা পার্কে? বৃদ্ধ লোকটি ঘুরে বসল।
Ñ না- মানে, একজনের সাথে একটু দেখা করব। সে ওখানে আসার কথা। বলল মানিক। ভাবছে মিথ্যা বলা তো ভারী বিপদ, আবার কী জিজ্ঞেস করে বসে লোকটা।
হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়েছে বৃদ্ধ লোকটি, সামনের স্টপেজে নামবে। যাক, বাবা বাঁচা গেল। ভাবল মানিক। যেভাবে জেরা করছিল, একটু হলেই সব বলে দিতে হতো।
লোকটি উঠে যেতেই খালি আসনে সেই ছেলেটি পাশে এসে বসল। বাস থেমেই আছে। সামনের গ-াসের ভেতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে বিশাল জ্যাম। কতণ লাগবে কে জানে? হেলপারটাও এই ফাঁকে ডাকাডাকি করে লোক উঠাচ্ছে দুই পয়সা বাড়তি রোজগারের আশায়।

তিন.
Ñ কী নাম, ভাইয়া তোমার? কথা বলে উঠল পাশের ছেলেটি।
Ñ মানিক।
Ñ তুমি মনিপুর স্কুলে পড়, তাই না? আমি সব শুনেছি। আমার নাম তাশফীন। বুয়েটে পড়ি। তো এই ভর দুপুরে রমনা পার্কে কোথায় যাবে?
আবার বিপদের আশঙ্কা হলো মানিকের মনে। বানিয়ে কথা বলা, খুব কঠিন কাজ।
Ñ না মানে, একটা কাজ ছিল আর কি।
Ñ আসলে আমারও একটা কাজ আছে, রমনা পার্কে নয়, তার পাশেই। সে জন্যই জিজ্ঞাসা করছিলাম আর কী। ভাবলাম দু’জনের কাজ মিলে যায় কি না?
কথা বলতে ভালই লাগছে মানিকের। দেখতে মোটেও ছেলেধরাদের মতো নয়, আবার বলছে বুয়েটে পড়ে। কথাবার্তাতে ভয় কেটে গেছে তার।
Ñ আপনার কাজ কোথায় ভাইয়া? জিজ্ঞাসা করল মানিক।
Ñ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে। একটা অনুষ্ঠানে যাচ্ছি।
Ñ হু।
Ñ তুমি একা যাচ্ছ কেন এত দূর পথে? এত দূরে যেতে হলে আমার আব্বু আম্মু কখনই একা ছাড়তেন না। বলল তাশফীন। হাসি মাখা মুখে শাসনের মৃদ্যু সুর।
প্রশ্নটা এড়িয়ে গেল মানিক। ভাবলেই রাগ বেড়ে যাচ্ছে তার।
Ñ আচ্ছা ভাইয়া! একটা কথা জিজ্ঞাসা করি, আপনি ঐ লোকটিকে সিট ছেড়ে দিলেন কেন? যদি সে আরও দূরে যেত, তাহলে তো আপনাকে পুরো রাস্তাই দাঁড়িয়ে যেতে হতো, তাই না?
Ñ দূর! এটা কোন ব্যাপার হলো। শোন, ওই লোকটার স্থানে যদি তোমার বাবা কিংবা দাদা থাকত? তুমি সিটে বসে আরামসে যাচ্ছ আর সে গরমে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে, এটা দেখে তখন তুমি কী করতে?
ভাবনার দরজায় টোকা পড়ল মানিকের।
Ñ তাকে বসতে বলতাম। আব্বুকে দাঁড়িয়ে রেখে নিজে কি বসে থাকা যায়? এটা বেয়াদবি হতো না?
Ñ একদম ঠিক বলেছ। ওই লোকটাও তো কারও আব্বু বা কারও দাদু, তাই না? তার অনেক বয়স আর এখনও আমার তো অনেক শক্তি আছে, একটু কষ্ট করলে তি কী? তিনি না হয় কয়েকটা মিনিট আমার চাইতে একটু বেশি আরামই করলেন। তুমি যদি কাউকে সম্মান না কর, তাহলে তুমি যখন বৃদ্ধ হবে, তুমি নিজেও তো সম্মান পাবে না, বিপদে কাউকে কাছে পাবে নাÑ এটা কি ভালো হবে?
মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে থাকে মানিক। ইস! কেন লোকটির সাথে খারাপ ব্যবহার করল সে?
Ñ হু- ঠিক বলেছেন। আসলে আমি এভাবে কখনও ভাবিনি। কেন জানি ভালো লেগে যায় তাশফীনকে তার। অনেক বিষয়ে কথা চলতে থাকে। কথা বলতে বলতে কখন যে বাস রমনা পার্কের কাছে চলে এসেছে টের পায়নি তারা। আচমকা হেলপারের ডাকে সম্বিত ফিরে পায়। দ্রুত নেমে যায় বাস থেকে দু’জন।

চার.
পার্কে ঢোকার মুখেই দেখতে পেল দু’জন, ২-৩ বছরের একটা ছোট বাচ্চা ছেলে হাতে থাকা মুড়ির ঠোঙাটি সজোরে ছুড়ে ফেলেছে ফুটপাথে। গড়াতে গড়াতে ঠোঙাটি মানিকের পায়ের সামনে এসে থামল। থমকে দাঁড়ালো তারা। একটু দূরে দাঁড়ানো বাচ্চাটির মা, শতচ্ছিন্ন ময়লা শাড়ি পরিহিতা। বাচ্চাটির এহেন কাজে প্তি হয়ে, দৌড়ে এসে দুম দুম করে গোটা কয়েক কিল বসিয়ে দিল তার পিঠে। নাটকের মতো পুরো দৃশ্যটা ঘটল দু’জনের চোখের সামনেই।
মার খেয়ে বাচ্চাটি চিৎকার করে কেঁদে উঠল। মায়ের চোখেও পানি। সন্তানের দিকে তাকিয়ে জোরে জোরে বলে উঠল,
Ñ কতবার কইছি, টাকা নাই। নবাবের বাচ্চা, টেকা কিনা মুড়ি ফালায়া দেস? হেহ! শখ কতো উগলু খাইব। তোর বাপ কি জমিদারি তালুক থুইয়া গেছে যে রোজ পোলাও কোর্মা খাবি?
ওরা দু’জন এই দৃশ্য দেখে মহিলাটির কাছে গেল।
Ñ আরে, ওতো ছোট, অবুঝ। ওকে মারলে কী হবে? ও কি বুঝে নাকি?
Ñ গরিবের বাচ্চা বুঝব না কেন? খাওনটাতো ঠিকই বুঝে? এইটা বুঝে না যে গরিবের সাধ আহ-াদ থাকতে নেই?
Ñ সামান্য একটা ইগলুই তো চেয়েছে? বলল মানিক, সে এখনও বুঝতে পারছে না এত ছোট ব্যাপারে মারার মতো কী হলো? মায়ের চোখে পানি। সে বলল,
Ñ আমি সারাদিন কাগজ টুকাইয়া পাই ৪০-৫০ টেকা, ২৫ টেকার আইসক্রিম কিন্ন্যা দিলে আমি সারাদিন খামু কী? এইবার মানিক বুঝতে পারল, সমস্যাটা কোথায়? মানুষ এ-তো কষ্ট করে অথচ সে তো প্রায়ই স্কুল থেকে ফেরার পথে ইগলু কিনে খায়। বোকা হয়ে যায় সে।
Ñ আচ্ছা, ঠিক আছে। ওকে আমি কিনে দিচ্ছি। পকেটে হাত দেয় তাশফীন।
Ñ এই পিচ্ছি, আয় আয়, ইগলু খাবি না?
নিমেষে কোথায় হারিয়ে গেল কান্না। ঝকঝকে দাঁত বের করে দৌড়ে এল ওদের কাছে, কালো মলিন মুখটাতে আনন্দ ঝলমল করে উঠেছে। চোখের কোণে শুকিয়ে যাওয়া সদ্য অশ্রুধারা, চকচক করছে মুক্তোর মতো। তাশফীন টাকা বের করে পার্কের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা ইগলুর ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে আইসক্রিম নিল। প্যাকেটটি ছিঁড়ে বাচ্চাটির হাতে দিতেই দুই হাতে আইসক্রিম জড়িয়ে ধরে এক দৌড়ে গিয়ে মায়ের কোলে উঠল সে। কোলে উঠে মাকে বলছে, মা তুমিও খাও, খাও না?
নির্বাক মা, দু’চোখে কৃতজ্ঞতার অশ্রু, নির্বাক তাকিয়ে থাকে ওদের দিকে। অপরিচিত দু’জন লোকের এহেন অকস্মাৎ আচরণে সেও হতবাক।
ধন্যবাদের তোয়াক্কা না করে তাশফীন হাত ধরল মানিকের।
Ñ চল, যাই, পার্কে ঢুকি।
মানিকের চোখের দিকে তাকাতেই চমকে ওঠে তাশফীন।
Ñ মানিক, তুমি কাঁদছ?

পাঁচ.
চোখের কোণ মুছে হেসে দিল মানিক।
Ñ না-না, ভাইয়া । এই চোখে কী যেন পড়ল। চলুন।
মনের ভেতর বৈশাখী ঝড় বয়ে চলেছে মানিকের। সে-ও তো বায়না ধরে বাবা মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বাচ্চাটি তো অবুঝ কিন্তু সে তো আর শিশুটির মতো নয়। ইস তার বাবাও তো বলেন, তার আয় কম, কিভাবে কিনে দেবেন অতো দামের জিনিস? স্কুলের স্যাররা বলেন, সৎ থাকতে হলে নাকি অনেক ইচ্ছা পূরণ করা যায় না। অসৎ হলে যা খুশি, তাই করা যায়। সে নিজেও তো বন্ধুদের কাছে মাথা উঁচু করে বলে, আমার বাবা অন্যায়ভাবে টাকা নেন না। আর তাকেই কিনা সে এভাবে কষ্ট দিয়েছে। ভাবতে ভাবতে আবারও চোখে পানি চলে আসে মানিকের।
Ñ কী ব্যাপার মানিক? এখনও ময়লাটা বের হয়নি? কই দেখি দেখি?
Ñ না-না, লাগবে না। এই তো বেরিয়ে গেছে।
Ñ আচ্ছা, মানি…….ক?
Ñ বলেন।
Ñ তোমার কী সময় হবে? তাহলে চল আমার সাথে। এই বেশি না। মাত্র দু-আড়াই ঘণ্টা। ওখানে দারুণ অনুষ্ঠান আছে। নাটকও হবে। নাম ‘নতুন জীবনের গল্প’। দেখবে, অনেক ভালো লাগবে।
– হু!
আনমনে সায় দেয় মানিক। সে-ও তো চায় নতুন জীবন। ভুলগুলোকে পেছনে ফেলে নতুনভাবে ভাবতে চায় সে। আগের মানিককে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে সেই কখন।
Ñ চল, ভাইয়া। হাত ছেড়ে মানিকের কাঁধের ওপর দিয়ে পুরো বাহু ছড়িয়ে দেয় তাশফীন। চলতে শুরু করে দু’জন।
নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর মানিক সম্মোহিতের মতো চলতে থাকে হঠাৎ দেখা পাওয়া সুন্দর মানুষটির সাথে সাথে। আগের মানিক হয়ে নয়, বদলে যাওয়া দ্যুতি ছড়ানো, আনকোরা এক নতুন মানিক হয়ে।

SHARE

5 COMMENTS

Leave a Reply