Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদীসের আলো-ঘুষ দেয়া-নেয়া দুটোই সমান অপরাধ

হাদীসের আলো-ঘুষ দেয়া-নেয়া দুটোই সমান অপরাধ

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, ঘুষখোর এবং ঘুষদাতার ওপর আল্লাহ তায়ালার (লা’নত) অভিশাপ।
(সহীহ মুসলিম)

সুপ্রিয় বন্ধুরা,
ঘুষ একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজের ক্ষমতাহীন মানুষ তার হৃত অধিকার কিংবা অন্যের অধিকারকে করায়ত্ত করার লক্ষ্যে দুর্নীতিপরায়ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে যে অবৈধ অর্থ কিংবা পণ্যসামগ্রী পর্দার অন্তরালে প্রদান করে থাকে তাই ঘুষ কিংবা উৎকোচ নামে পরিচিত। উপহার, উপঢৌকন নামেও এটি পরিচিত। তবে যে যাই বলুক না কেন, তা যে ঘৃণিত অপরাধ এতে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের সমাজে এটি একটি মামুলি ব্যাপার মাত্র। এখানে যে ব্যক্তি ঘুষ দিচ্ছে, আর যে নিচ্ছে তারা উভয়েই সমান অপরাধী। আমাদের দেশে বড় বড় আমলার অফিসে বিভিন্ন ফাইল আটকে থাকে, এ জন্য ঘুষ দিয়ে ফাইল মুক্ত করতে হয়। এটি একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। কেউ ঘুষ দিচ্ছে তার চাকরির জন্য, কেউ  দিচ্ছে তার মামলা নিষ্পত্তির জন্য। আবার কেউ ঘুষ নিচ্ছে তার ক্ষমতাবলে। কেউ নিচ্ছে তার অভ্যেস বলে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন কিংবা আইনের লোকেরা অধিক পরিমাণে জড়িত। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে একজন পিয়ন পর্যন্ত সবাই এর সাথে কমবেশি জড়িত। চাকরি দেয়া, সুপারিশ করা, কারো উদ্দেশ্য হাসিল কিংবা কার্যসিদ্ধির জন্য ঘুষ প্রদান করতে হয়।

একজন গরিব, নিঃস্ব ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা, তাকে কষ্ট দেয়া এটি পাশবিকতার শামিল। এখানে মূলত যারা সম্পদশালী তারাই বেশি লাভবান হচ্ছে। তাদের পকেট ভারী করছে। একজন গরিবকে ঠকানো হচ্ছে। অথচ হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছেÑ যে ব্যক্তি ঘুষ দিচ্ছে, আর যে নিচ্ছে তাদের ওপর আল্লাহর লা’নত। আল্লাহর লা’নত বা অভিশাপ কামনা করা হয় কাদের ওপর? আল্লাহর যে সকল বান্দাহ তাঁর অবাধ্য হয় তাদের ওপর। সুতরাং হাদিসের দৃষ্টিতে বোঝা যায় ঘুষ আদান-প্রদানকারী উভয়েই আল্লাহর অভিশপ্ত বান্দাহ। আল্লাহর এ অভিশাপ থেকে বাঁচতে হলে ঘুষ দেয়া কিংবা নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে আমাদের সবার। তবেই আল্লাহর প্রিয় বান্দাহ হওয়া যাবে।

প্রিয় বন্ধুরা,
এসো আমরা এখন থেকেই এ অভিশপ্ত পাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।

গ্রন্থনায় : আবদুল কুদ্দুস মাখন

SHARE

Leave a Reply