Home গল্প তিতিরের ঘুড়ি

তিতিরের ঘুড়ি

ঝর্ণা দাস পুরকায়স্থ

তিতিরের ঘুড়ি

বাড়ি থেকে যখন স্কুলে আসি তখন মা কি রাঁধবে, বুয়া ধুপধাপ করে কাপড় কাচবে কি না, আমার কার্টুনের সিডি পাশের বাড়ির টাবলু এসে নিয়ে যাবে কি না তা কি ভাবি? বোকাই বলে, মোটেও তা নয়। তা হলে?
রোমি বলে, আরে বাবা তা হলে কি?
তিতির বলে, তা হলো স্কুল থেকে বাড়ি যখন ফিরে যাই তখন হাবিজাবি ভাবনাগুলো মাথার মাঝে থাকবে কেন? সব ঝেড়ে ফেলে বাড়ি ঢুকব না?
সনেট তাজ্জব, হাবিজাবি ভাবনা? বলছিস কি রে?
অবাক হয়ে তিতিরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বোকাই, রোমি, সনেট ওরা। তিতিরের বলা হাবিজাবি ভাবনাটি কি তা ওরা বুঝতেই পারছে না।
হোমওয়ার্ক, হোমওয়ার্কের কথা বলছি, বুঝতে পারছিস না?
গালে হাত দিয়ে ক্লাসের বন্ধুরা সবাই বলে, ওহ্! তিতির খুব মন খারাপ করা সুরে বলে, স্কুলে স্যার-ম্যামদের একগাদা হোমওয়ার্ক দেবার দরকার কী বল?
হ্যাঁ তাইতো।
কথাগুলো তো ওরা কখনোই ভেবে দেখেনি। তিতির আসলে অনেক বোঝে, তাইতো ওর মাথায় এমন ভাবনা এসেছে।
স্কুলের পড়া স্কুলেই শেষ হবে। হোমওয়ার্কের মানেটা কী? বাড়িতে অন্য কাজ আছে না! কার্টুন দেখা, বাদল মামুর কাছে থেকে গল্প শোনা।
সনেট গালে হাত দিয়ে করুণ সুরে বলে, মিসরা আমাদের আনন্দে থাকতে দেবে না, এ জন্যই গাদা গাদা হোমওয়ার্ক দিয়ে দেয়।
বোকাই বলে, আমরা হোমওয়ার্ক করব না টিভি দেখব বল।
সত্যিই তো ওদের কথা কেউ ভাবে না, না হলে কি মিমি ম্যাডাম এমন রচনা দিতে পারেন? বিড়াল সম্পর্কে দশ লাইন লিখো, কুকুর সম্পর্কে বারো লাইন লিখো।
বিড়াল কি বাড়িতে কখনও ছিল? দূরের ছাদের কার্নিশে বসে বিড়াল মিঁউ মিঁউ করে কেঁদেছে, কখনও রাস্তার পাশের ডাস্টবিনে খাবার নিয়ে তিন-চারটে বিড়াল ঝগড়া করেছে। জানালার গ্রিলে মুখ চেপে তিতির তাকিয়ে দেখেছে ওদের কাণ্ড। সাদা তুলোর মতো একরাশ পশমে ঢাকা ছোট্ট বিড়ালটিকে কেউ খেতে দেয়নি।
তিতির বলছে, মা দেখে যাও মা কী খারাপ লাগছে, বাচ্চা বলে কেউ খেতে দিচ্ছে না। ওকে তুলে নিয়ে আসি মা। এইটুকুন দুধ খেতে দিলেই হবে।
মা চোখ পাকিয়ে বলেছেন, খবরদার তিতির, কক্ষনো এমন কাজ করবে না দশতলার ওপরে বিড়াল পোষা যায় নাকি? ঘরদোর নোংরা করে দেবে।
ঝকঝক ঘরের মেঝে, দুধসাদা রঙের জানালার গ্রিল, পরদা ফিনকি দিয়ে ওঠা আলোর দিকে তাকিয়ে তিতির বোঝে এ বাড়িতে বিড়াল বড় বেমানান।
এর পরও কী করে যেন মিঁউ মিঁউ করে কেঁদে কেঁদে একটি মিনি বিড়াল এসে ঢুকে গেল। খুব মজা তিতিরের, পাশের ফ্ল্যাটের মুন্না আর তিতির ব্যালকনিতে খুব আনন্দ করল ওকে নিয়ে।
মুন্নার মা, তিতিরের মা দু’জনেই চ্যাঁচামেচি করছেন, কী হচ্ছে ওসব? হোমওয়ার্ক নেই? স্কুলে পড়া নেই? এমনই এমনই খেললেই হবে?
পড়া পড়া আর হোমওয়ার্ক! ওদের দু’জনের চোখের সামনে বাদল মামা বস্তার ভেতরে ঢুকিয়ে মিনিটাকে কোথায় যেন নিয়ে গেল।
মুন্না আর তিতির সে রাতে খুব কেঁদেছে। পড়ার টেবিলে বসেছে শুধু, পড়া তো মোটেও হয়নি, মিনি বিড়ালের জন্য বারবার ঝাপসা হয়ে এসেছে চোখ। মুন্না তো ‘আমার বিল্লাটাকে তাড়িয়ে দিলে কেন?’ বলে চেঁচিয়ে কাঁদল অনেকক্ষণ।
ওর মা রাগ করে বলল, দ্যাখো, বুড়ো ছেলে কেমন কাঁদে!
বড়রা যে যাই বলুক বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়েছিল তিতিরের। সারা গায়ে তুলোর মতো পশমে ঢাকা মিনি বিড়ালের কথা মনে করে বুকের ভেতরটা ভীষণ খাঁ খাঁ করত।
বিড়ালের কথা একসময় ভুলেও গেল তিতির। তবে ফ্ল্যাট বাড়ি নিয়ে ওর মনে কেমন একটা ভাবনা ঢুকে যায়। আরে বাবা কথায় কথায় ফ্ল্যাট বাড়ি। কে বলেছে তোমাদের ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকতে? বিড়াল পুষতে পারব না, কুকুর আনতে পারব না তাহলে কী করব আমি? শুধুই পড়া? সেই পড়া? সেই হোমওয়ার্ক?
কুকুর-বিড়াল বাড়িতে থাকলে, কিংবা তিতির পুষতে পারলে দশ-বারো লাইন কেন একশ’ লাইনও লিখতে পারত। কিন্তু ওসব তো আর হবার নয়।
বাদল মামা বলে, কেন, গরু দেখিসনি কখনো? চার পা, দু চোখ এগুলো লিখতে পারিস না।
তিতির খুব রাগ করে, মামু, তুমি আর বাজে বাজে বুদ্ধি দিও না তো। কুকুর-বিড়াল-গরু সব কি এক? বললেই হলো!
বাদল মামু বলল, প্রায় এক নয়? দুই চোখ, দুই কান, এক রকমই তো।
লিখতে বসে খুব মন খারাপ করে তিতির। গরুও কি ছাই আমি ভালো করে দেখেছি?
গাঁয়ে মানুষ গরু পোষে, ছাগল পোষে, কুকুর-বিড়াল তো আছেই এই ফ্ল্যাট বাড়িতে ওসব কি আর থাকে? ম্যাডামরা বুঝবে না?
দু’তিন লাইন কোন রকমে লিখেছে, এরপর আর এগোয় না, দশ-বারো লাইন লেখা কি সহজ কথা?
মাকে জিজ্ঞেস করতেই বলেন, দেখছিস তো, বাড়িতে আজ ক’জন খাবে, চুলোতে মাছ চড়িয়েছি, ঐ শোন প্রেসার কুকার সিটি দিচ্ছে নামাতে হবে। এখন যা বাবা, গেস্টদের আসার সময় হয়ে গেছে।
লে বাবা বিড়াল নিয়ে বারো লাইন রচনার কী হবে! এ তো আর রাবার নয় যে তিতির টেনে লম্বা করবে।
ও মাদার তুসোর মিউজিয়াম দেখেছে, প্ল্যানিটেরিয়াম দেখেছে, উর্বন সাফারি পার্ক দেখেছে। ওগুলো লিখতে দিলে তো তিতির ফটাফট লিখতে পারবে। সেসব তো আর টিচাররা লিখতে দেন না।
বিড়াল নেই তাহলে My Pet Cat সম্পর্কে সে লিখবেটা কী?
বুক ভরা রাগে গর গর করতে থাকে তিতির। আরে বাবা আগে জেনে নাও কার বাড়িতে কুকুর-বিড়াল আছে, কার বাড়িতে ফুল-ফলের বাগান রয়েছে, তারপর তো হোমওয়ার্ক দেবে।
মিমি ম্যাডাম বইয়ের পড়ার চেয়ে আউট নলেজের দিকে নজর দেন বেশি। তাই যখন তখন বই বন্ধ করে জিজ্ঞেস করতে থাকেন ফুল বাগান সম্পর্কে কিছু বলতে।
তিতির বলবেটা কী? ফুল বাগানের সে কি জানে! বাগান বলতে কিছু আছে নাকি শহরে? স্কুলে রয়েছে, পার্কে রয়েছে, বাড়িতে কি কিছু আছে!
মাটির টব রয়েছে ক’টা কিন্তু সেগুলোতে শুধু পাতাবাহার আর ক্যাকটাস।
তিতিন বলে, ফুল গাছ কিছু লাগাও না কেন মা? মা মন খারাপ করা সুরে বলেন, কত ফুল গাছ কিনে আনলাম রে তিতির। জবা, গাঁদা ফুলের টব নিয়ে এলাম বাড়িতে। দু-একদিন ফুটল, তারপর গাছ শুকিয়ে মরে গেল।
বাদল মামা বলে, যত করলে তো ফুল ফুটবে।
মা মুখ ঝামটা দিয়ে বলেন, নাহ যত করিনি, তোমায় বলেছে।
তিতির ভাবে, ফুল নেই তো ফুলবাগান কী করে হবে! শুধু পাতাবাহার আর ক্যাকটাস গাছ রাখলে কি ভালো লাগে?
একবার তিতির নিচে বাদল মামার সাথে গিয়ে কিনে আনে ফুলগাছ। নয়নতারার গাছটি দশ-বারোটি ফুল ফুটিয়ে উটের গলার মতো লম্বা হতেই থাকে। মন খারাপ হয়ে যায় তিতিরের। রন্তু, টিপটিপ ওদের বাড়িতে নয়নতারার গাছ ঝুপসি পাতাতে ছেয়ে আছে। ওর বাড়িতে সবই যেন অন্য রকম। ফুলগাছের ডালগুলো লম্বা মতো হয়ে গ্রিলের বাইরের দিকে ঝুঁকে আছে যেন রাস্তা-ঘাটের মানুষ দেখছে।
বাদল মামা নয় যেন মুশকিল আসান মামা। আরে হাঁদা- বুঝলি না? সূর্যের আলো ঠিকমতো পায় না তো তাই গাছটি আলোর জন্য মুখ বাড়িয়ে আছে।

দুই.
স্কুল থেকে ডাক পড়ে মা-বাবার।
মা বলেন, তুমি যাও গিয়ে দেখে এসো কী করেছে ছেলে। পরক্ষণেই পাকড়াও করে ছেলেকে, কি রে স্কুলে গিয়ে বুঝি খুব দুষ্টুমি করিস?
অবাক হয়ে তিতির বলে, বাহ রে, আমি কোথায় দুষ্টুমি করলাম? কে বলেছে শুনি? হোমওয়ার্কের জন্য আমার পাগল পাগল অবস্থা
বাবা ঠা ঠা করে হাসেন। তো হোমওয়ার্কের জন্য ভাবনা? কুকুর-বিড়াল লিখতে হলে লিখবি চারটি পা, দু’টি চোখ, দু’টি কান আছে।
বাহ রে ওদের স্বভাব কেমন, কী খেতে ওরা ভালোবাসে, সে সব লিখতে হবে না? সেগুলো কি আমি জানি? আমাকে কি পুষতে দিয়েছ তোমরা?
মিষ্টি মিষ্টি গলার সুর কান্নায় ভেঙে আসে তিতিরের, পুরনো দুঃখ উথলে ওঠে ওর।
মা ওর দুঃখ ভুলিয়ে দিতে চান। বলেন, ফুল নিয়ে ওকে কিছু বলো, শেষ করুক না হোমওয়ার্ক।
ক্রিসেনথিমাম ফুলকে বাংলায় আমরা চন্দ্রমল্লিকা বলি এই সব আর কী?
বাবা বাথরুমে ঢুকতে ঢুকতে বলেন, শোন অলরেডি আই অ্যাম লেট। তুমিই নিয়ে বসো না একটু ছেলেকে।

মা স্কুলে এসে হতবাক। মিমি ম্যাডামের সামনে বসে বোবা হয়ে যান। বাড়িতে সারাক্ষণ কথা বলা মায়ের কথা একেবারেই হারিয়ে যায়।
বাড়িতে কি আপনি ওর খাতাপত্র একেবারেই চেক করেন না? বিড়াল লিখতে দিয়েছি, লিখেছে চার পা, দু’ চোখ বেশ ঠিক আছে। এর পরই লিখেছে আমি আর মুন্না একটি মিনি বিড়াল বাড়িতে এনে দুধ খেতে দিয়েছি। মাছ খেতে দিয়েছি কিন্তু মা আর আন্টির জন্য মিনি বিড়ালটি বাড়িতে পুষতে পারিনি।
মা চোখ গোল গোল করে ম্যাডামের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
আরও শুনুন, তাকিয়ে আছেন কেন এমন করে? ও উর্বন সাফারি পার্ক দেখেছে, বার্লিন ওয়াল দেখেছে, এলিফ্যান্ট ফলস দেখেছে কিন্তু কাছে থেকে কোন কুকুর দেখেনি। এটার নাম কম্পোজিশন? শেম অন ইয়ু।
অনেকটা সময় শক্ত শক্ত কথা শুনে এক সময় উঠে দাঁড়ান মা।
মিমি ম্যাডাম বলেন, এবার ঘুড়ি লিখতে দিয়েছি মানে কাইট। ছুটি হলেই আপনারা বাইরে চলে যান। গাঁয়ের বাড়ি নয় বিদেশে। কেন নিজের দেশে দেখার কিছু নেই? ভাওয়ালের রাজবাড়ি, কুমিল্লার ময়নামতি, বগুড়ার মহাস্থানগড় আজকালকার ছোটরা কিছুই দেখেনি। এগুলো নিয়ে আপনারা ভাববেন না? মিলি ম্যাডাম অনেক কঠিন কথার পর মোলায়েম সুরে বলেন, নিজের দেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন ছেলের।
শেষের কথাতে চোখ ভিজে যায় মায়ের। সত্যিই তো ও কি বাঁধানো ঘাট, পুকুর, মেঠোপথ, বড়শি দিয়ে মাছ ধরা দেখেছে কোনদিন? শীতের পিঠে খাওয়া, ঢেঁকিতে চালের গুঁড়ো কোটা, বাঁধানো কলসিতে খেজুরের রস, ঘাসের বুকে টুপটাপ শিশির ঝরা এগুলো তো কখনও দেখেনি তিতির।
মা বাড়িতে এসে ঘোষণা দিলেন, এবার আর সিঙ্গাপুর-লন্ডন যাওযা নয়, এবার আমরা নিজেদের গাঁয়ে যাব।
বাবা চোখ কপালে তুলে বলেন, সে কী?
মা মিষ্টি সুরে বলেন, নিজের দেশের সাথে ছেলেকে পরিচয় করে দিতে হবে না?
বাদল মামা খুশি খুশি গলায় বলেন, তাই বলো। এবার রচনা লিখতে দিয়েছে আমার সাবজেক্ট।
তোমার সাবজেক্ট? বাবা তাজ্জব।
তিতিরের এবারের হোমওয়ার্কের সাবজেক্ট ঘুড়ি। এবার মামা-ভাগ্নে মিলে ঘুড়ি নিয়ে চল্লিশ লাইন লিখব।
মা গালে হাত দিয়ে বলেন, রক্ষে কর- চল্লিশ লাইন নয়- বারো লাইন।
মামা বলেন ওকে সিসটার, নো প্রবলেম।
বাড়িতে যেন উৎসব নয় মহা উৎসব। লাল-নীল-সবুজ-হলুদ রঙের কাগজ এলো। বাঁশের শলা খুব সুন্দর করে তৈরি করল মামা। শুক্র-শনিবার ছুটির দিন তিতির আর বাদল মামার নাওয়া-খাওয়ার ঠিকঠিকানা নেই। ঘরদোর কাগজ-কাঠি-আঠাতে ছৈ ছত্রাকার। ঘুড়ি তৈরি হলো, এবার মাঞ্জা বানাতে হবে ঝকমারি কি কম? ভাতের মাড়, কাচের ছোট টুকরো আরও টুকিটাকি কিছু মিশিয়ে সুতোতে মাঞ্জা দিতে হবে। ফ্ল্যাটের মুন্না, ঋতু, ইভান, পৃথুও তিতির আর মামাকে সাহায্য করে।
মা বিরক্ত হয়ে বলেন, ঘরদোরের কী অবস্থা করেছে দ্যাখো। বাজার থেকে ঘুড়ি-লাটাই কিনে নিয়ে এলেই তো হয়।
মামা বলে, তাহলে তিতিরের প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা কী করে হবে!
এক শীতের সকালে পুরানা পল্টনের আকাশে উঠল চার-পাঁচটা ঘুড়ি। নীল নীল আকাশ, তার মাঝে তিতির, মুন্না, পৃথু, ঋতু, ইভানের রঙিন ঘুড়িগুলো উড়তে থাকে। লাটাইয়ের সুতো একেক বার ওরা ছাড়ে আবার প্রয়োজন মতো গুটিয়ে নেয়, ভারী মজার খেলা!
মা-বাবা এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঘুড়িতে প্যাঁচ লাগিয়েছে তিতির। ওদের ‘ভোকাট্টা ভোকাট্টা’ চ্যাঁচামেচিতে অন্যরকম হয়ে ওঠে পুরানা পল্টন লাইন ছাদ।
ঋতু বলে, খেলাটা তো কম্পিউটার গেম-এর চেয়েও মজার রে তিতির।
ইভান বলে, আমি আর কার্টুন ফিল্ম দেখব না, আকাশে ঘুড়ি উড়াবো।
পৃথু বলে, আমিও আর ‘প্লে স্টেশন’ খেলব না, ‘গড অব ওয়ার’, ‘এজ অব মাইথোলজি’র সিডি কিনব না, এবার থেকে শুধু ঘুড়ি ঘুড়িই খেলব।
ঘুড়ি রচনাটি শীতের ভোরে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে লিখে তিতির। মনও খারাপ হয় ওর কেন ম্যাডাম বারো লাইন লিখতে বললেন, ওর যে আরও আরও অনেক লাইন লিখতে ইচ্ছে করছে।
চোখের সামনে ভেসে উঠছে শীতের সোনালি রোদ, নীল নীল আকাশ, পাঁচ-ছয়টি রঙিন ঘুড়ি, সুতো জড়িয়ে রাখা আর ছেড়ে দেবার কায়দায় লাটাইয়ের খটাখট আওয়াজ।
মা বলেন, এবার বই রেখে ওঠো তিতির। লাল-চাল দিয়ে বসা ভাত করেছি খেতে এসো।
মিমি ম্যাডামকে ক্লাসের সবাই ভয় পায়, ভালোও বাসে। পড়াশোনা ঠিকমতো না করলে গম্ভীর হয়ে থাকেন, আবার ঠিকমতো পড়া শিখলে গালভরা হাসি হাসেন।
মাস্টার তিতির, লুক অ্যাট মি। আমার দিকে তাকাও মাই বয়। ইয়ু আর ফ্যানটাসটিক, সুপার্ব। কাম টু মি। গুটি গুটি পায়ে ম্যাডামের কাছে এগিয়ে যায় সে। ওর খোলা খাতাটির ওপর ম্যাডাম লাল কালি দিয়ে লিখেছেন অ+, লিখেছেন ভেরি ভেরি গুড।
মামা যে কথায় কথায় বলে প্র্যাকটিক্যাল নলেজ তা-ই ঠিক। নইলে তিতির কি এত চমৎকারভাবে ‘ঘুড়ি’ রচনাটি লিখতে পারত!
ক্লাসের বন্ধুরা কম্পোজিশন নিয়ে তিতিরকে বরাবর বকুনি খেতে দেখেছে আজ অন্যরকম কিছু দেখে ওরা এক সাথে বলতে থাকে হিপ হিপ হুররে
খুশিতে যে চোখ ভিজে যায়, এই প্রথম জানল ছোট্ট তিতির।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply to নিজাম কুতুবী Cancel reply